ফনেটিক ইউনিজয়
শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন নিন

শিশুর ত্বক বড়দের ত্বক থেকে যেমন ভিন্ন, তেমনি শিশুর ত্বকের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতিও ভিন্ন। আর শীতে শিশুর ত্বকের কোমলতা ও ময়েশ্চারাইজারের ভারসাম্য ঠিক রাখা বেশ কঠিন। তাই প্রয়োজন বিশেষ যত্ন। ছোট্ট সোনামণিদের শীতের শুষ্ক ও রুক্ষ পরিবেশে ত্বকের বিশেষ যত্ন নিতে জেনে নিন কিছু টিপস-
-শীতকালে শিশুকে গোসল করাতে হবে হালকা গরম পানি দিয়ে কেননা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করালে যেমন ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ভয় থাকে, পাশাপাশি বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করালেও ত্বকের আর্দ্রতা হারিয়ে যায়।
-শীতকালে দুই বছরের কম বয়সী শিশুকে প্রতিদিন গোসল করানোর প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে এক দিন পর পর গোসল করালেই শিশুর ত্বক ভালো থাকবে।
-শিশুর গোসলের সময় বেবি সোপ ব্যবহার করুন। কারণ শিশুদের ত্বক বড়দের তুলনায় ৫ গুণ পাতলা। আর সাবান দিয়ে গোসল করালে সাবান যেন ময়েশ্চারসমৃদ্ধ ও শিশুর ত্বকের উপযোগী হয়।
-সব ধরনের তেল শিশুদের জন্য উপযোগী নয়। বাচ্চাদের মাথার ত্বকে এক্সট্রা ভার্জিন গ্রেড নারকেল তেল অল্প পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন। তা ছাড়া শিশুকে নিয়মিত অলিভ অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন।
-শীতকালে শিশুর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী উপাদান হোয়াইট সফট প্যারাফিন বা ফসপোলিপিড সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার শিশুর ত্বকের জন্য উপকারী।
-শিশুকে অলিভ অয়েল বাথও দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে এক বালতি পানিতে পাঁচ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এতেও শিশুর ত্বক নরম হবে।
-গোসলের পরও ভেজা ত্বকে অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে শিশুর শরীরে ম্যাসাজ করে লাগান। ভালো ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে।
-যে শিশুদের একজিমা আছে, তাদের অলিভ অয়েল ব্যবহার না করাই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি লিনোলেইক অ্যাসিড-সমৃদ্ধ তেল ব্যবহার করা যায়। এটি একধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ত্বকের সুরক্ষা দেয়। সূর্যমুখী তেলে এটি বেশি থাকে।
-ত্বকে প্রদাহ হলে শিশুরা প্রায়ই আক্রান্ত জায়গাগুলো নখ দিয়ে চুলকায়। ফলে চামড়া উঠে যায়। এ জন্য শিশুর নখ নিয়মিত কেটে রাখুন আর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মলমজাতীয় ওষুধ আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন।
-শিশুদের মাথায় অনেক খুশকি হয়, সেই সঙ্গে গলায়, বগলে, থাইয়ের খাঁজে, ন্যাপি এরিয়ায় লাল লাল দাগ ও হতে পারে। অনেক সময় চামড়া উঠতে শুরু করে ও মাঝেমধ্যে রস বের হয়। এ সমস্যা দূর করতে শিশুর মাথায় ও চুলে নিয়মিত নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল লাগান। নবজাতকের মাথায় দুই থেকে তিন মাস তেল বা অলিভ অয়েল লাগালে এর নিরাময় হয়।
-শীতকালে গরম কাপড়ের নিচে অবশ্যই একটি সুতি জামা পরাবেন। শীতের পোশাকের নিচে হালকা সুতির পোশাক পরানো হলে শিশু স্বস্তি পাবে।
-সাবানের ক্ষারযুক্ত শুকনো কড়কড়ে কাপড় শিশুর নরম ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই শিশুর কাপড়চোপড় সাবান দিয়ে ধোয়ার পর পরিষ্কার পানিতে বারবার চুবিয়ে সম্পূর্ণ সাবানমুক্ত করে শুকানো উচিত।
-শিশুর পরিধেয় পোশাক অবশ্যই নরম ও মসৃণ হতে হবে। শিশুর পোশাক খসখসে ও অমসৃণ হওয়া উচিত নয় বরং সুতির হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ, ত্বকের জন্য সুতির কাপড়ই সবচেয়ে নিরাপদ।
-সরিষার তেল শিশুর ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। তাই শিশুর শরীরের সরিষার তেল মাখাবেন না। কারণ এই তেল মাখলে ত্বক চিটচিটে হয়ে যায়। ফলে ধুলাবালু সহজে ত্বকে আটকে যায়। আবার ঘন বলে এই তেল লোমকূপ বন্ধ করে দিয়ে সংক্রমণও ঘটাতে পারে। সরিষার তেল থেকে ফুসকুড়ি বা প্রদাহ হতে পারে।

Disconnect