ফনেটিক ইউনিজয়
রমজানে ভালো থাকুন

আর মাত্র কয়েক দিন। তার পরই শুরু হচ্ছে মাহে রমজান। বছরের এই একটি মাস মুসলমানদের কাছে সংযমের মাস। তবে এ সংযমের মাসে সংযম করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে, যে কারণে সব রোজা পালন করতে পারে না। কিছু নিয়ম মেনে চললে রমজানেও সুস্থ থাকা যায়। ভালোভাবে পালন করা যায় সব রোজা। চলুন জেনে নিই রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার কৌশলগুলো-

-ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে ডায়েট করুন : অনেকে রমজান ছাড়াই খাবারের ব্যাপারে সংযমী হয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু রমজান এলে অতিরিক্ত পানাহার করে গ-গোল বাধিয়ে ফেলে। যদিও এ মাসে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে ডায়েটিংয়ের সুযোগ রয়েছে। যেহেতু এ মাসে পানাহার ও বিরতির নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, তাই সুযোগটি কাজে লাগানো সম্ভব। এজন্য প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী খাবারের একটি বাস্তবসম্মত তালিকা এবং সে অনুযায়ী পানাহার করা প্রয়োজন। এভাবেই স্বাস্থ্যকর পানাহারের অভ্যাস গড়ে তোলা যাবে।

-সুস্থ জীবনযাপন অভ্যাস করুন : মাসটি সংযমের মাস। এ মাসে অভ্যাস করতে হবে সুস্থ জীবনযাপনের। জীবনের সব অন্যায়-অবিচার বাদ দেয়ার অভ্যাস করতে হবে এ মাসেই। নিজের সম্পর্কের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পিতা-মাতা, সন্তান, দাদা-দাদি, নানা-নানি, প্রতিবেশী, বন্ধু ও পরিচিতজনদের খবর নেয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতি দয়ালু হতে হবে। নিজেকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।

-স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য সময় দিন : অনেকেই সারা বছর খাবারের পেছনে যে সময় ও মনোযোগ ব্যয় করে, তার চেয়ে বেশি মনোযোগ দেয় রমজানে। এ মনোযোগ ও সময়ের সদ্ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবারের রেসিপি সংগ্রহ এবং তা ইফতারের জন্য প্রস্তুত করুন। বাদ দিন যাবতীয় অস্বাস্থ্যকর খাবার।

-আগেই পানি পান করুন : রমজান আসার আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন। এজন্য রমজান শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই অতিরিক্ত পানি পান করার অভ্যাস করুন। এতে দেহে পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে। ফলে রোজা রাখার জন্য প্রস্তুত হবে আপনার দেহ। রমজান শুরুর পর দিনে পানি পান না করার ঘাটতি পুষিয়ে দিতে হবে রাতে বাড়তি পানি পান করে। রোজা রাখার পরও রাতে প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করতে হবে। আর যদি গরম পরিবেশে পরিশ্রমের কাজ করেন, তাহলে তার চেয়েও বেশি পানি পান করতে হবে।

-খাবার থেকে চিনি, লবণ, ভাজা-পোড়া, তেল কমিয়ে দিন : খাবার থেকে কৃত্রিম চিনি ও লবণ কমিয়ে দিন। কমিয়ে ফেলুন ভাজা-পোড়া ও তেলযুক্ত খাবার। এছাড়া ছোট ছোট খাবার বা নাশতা বাদ দিন, যাতে থাকতে পারে বিস্কুট, কেক, চিপস, কোমল পানীয়, বোতলজাত পানীয় ও প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার। এসব বাদ দিলে হজম অনেক সহজ হয়ে যাবে। নিয়মটি পালন করলে পানির সমস্যা, খারাপ মুড, পিপাসা ও মুখের দুর্গন্ধ কমে আসবে।

-প্রলোভনে ভুলবেন না : বাজারে নানা মুখরোচক খাবারের ছড়াছড়ি দেখা যায় রমজানে। এসব খাবারের অধিকাংশই অস্বাস্থ্যকর। এসব খাবার কেনার আগে একটু চিন্তা করে নিন। রমজান সংযমের মাস। এ সময়ে পানাহারে স্বাস্থ্যকর উপাদানই রাখা উচিত। বিক্রেতাদের এসব প্রলোভন থেকে মুক্তির জন্য বাজারে যাওয়ার আগে বাসা থেকেই তালিকা করে নিন কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার ও ফলমূলের। এরপর বাজারে গিয়ে সে তালিকা অনুযায়ী কেনাকাটা করুন।

-মানসিক সন্তুষ্টি অর্জন করুন : রমজানে আর আগের মতো জীবনযাপন করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করুন। আপনার প্রতিটি দিন হয়ে উঠুক আগের থেকে ভিন্ন। ধর্মকর্মে মন দিন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করুন ও দান সংগ্রহ করে যার সত্যিকার প্রয়োজন, তাকেই দিন। ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিন। আর এভাবেই মানসিক শান্তি ও সন্তুষ্টি লাভ করবেন।

Disconnect