ফনেটিক ইউনিজয়
আত্মবিশ্বাস বাড়াবেন যেভাবে...

নিজের ওপর বিশ্বাস না থাকলে কি চলবে? চলবে না। আত্মবিশ্বাস না থাকলে জীবনে সফলতা তো দূরের কথা, কোনো কাজই ঠিকমতো করতে পারবেন না। ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর রয়েছে বেশকিছু কৌশল। পাঠকদের জন্য কৌশলগুলো তুলে ধরা হলো-

নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে উপস্থাপন করুন : স্মার্ট পোশাক, পরিচ্ছন্নতা, হালকা সুগন্ধি আপনার স্মার্টনেস কেবল অন্যের চোখেই না, আপনার নিজের চোখেও নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। নিজের কাছেই যদি নিজেকে আত্মবিশ্বাসী মনে না হয়, তাহলে মানুষের কাছে কীভাবে আত্মবিশ্বাসী ভাব ফুটিয়ে তুলবেন। খেয়াল করে দেখবেন, নিজেকে যেদিন সুন্দর লাগে, সেদিন আমাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকে। তাই কোনো কাজে বের হওয়ার আগে নিজের পেছনে ১০ মিনিট বেশি ব্যয় করুন। দেখবেন সারাদিন নিজেকে প্রেজেন্টেবল আর আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে।

নেতিবাচক মন্তব্যে প্রভাবিত হবেন না : আমাদের মধ্যে প্রায় সবাই আমরা নেতিবাচক কথায় প্রভাবিত হই বা মনে মনে কষ্ট পেয়ে থাকি। আর এ নেতিবাচক মন্তব্য আমাদের মনের ভেতরে পুষে রাখি, যেটা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়। আর বেলা শেষে আমরা আমাদের নিজের অজান্তেই নিজের ক্ষতিটা করে বসি। তাই সহকর্মী বা বসের নেতিবাচক কথা মনে ধরে রাখবেন না। তাতে আপনার আত্মবিশ্বাস অটুট থাকবে এবং কাজের ক্ষেত্রেও সাফল্য পাবেন।

চাপকে দূরে রাখুন : চাপ কমবেশি আমাদের সবার জীবনেই আসে। এটা হতে পারে কাজের ক্ষেত্রে, পড়ার ক্ষেত্রে বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে। এ কাজের চাপ আমাদের মানসিক চাপে রূপান্তরিত হয়। ফলে আমাদের মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং আমাদের আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দেয়। এতে কাজটা করার ক্ষেত্রে আমাদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যায়, অনুপ্রেরণায় ব্যাঘাত ঘটে। ফলে আমাদের কাজটাই সম্পন্ন হয় না। তাই কাজের চাপকে দূরে রাখতে হবে। নিজের কাজকে বোঝা হতে দেবেন না। কার্যতালিকায় এমন কিছু কাজ অন্তর্ভুক্ত করুন, যে কাজ আপনাকে আনন্দ দেয়। তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে।

চোখে চোখ রেখে কথা বলুন : আমরা প্রায়ই চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারি না। তবে কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেটা হয়তো আমরা কমসংখ্যক মানুষই জানি। তাই যখনই কারও সঙ্গে কথা বলবেন, তার চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। কথা বলার সময় এদিক-ওদিক তাকাবেন না বা অন্য কিছু করবেন না। তাতে আপনার সঙ্গে কথক কথা বলে আরাম পাবে। আর চোখে চোখ রেখে কথা হলো আত্মবিশ্বাসী হওয়ার একটি অন্যতম চিহ্ন।

মনোযোগ দিয়ে শুনুন, তারপর বলুন: নিজের ভ্যালু ক্রিয়েট করতে আপনাকে ভালো শ্রোতা হতে হবে। মনোযোগসহকারে শুনে, প্রত্যেকটি কথা উপলব্ধি করে তারপর উত্তর দিতে হবে। এতে বক্তার আপনার সম্পর্কে উচ্চধারণা তৈরি হয়, যেটা আপনার আত্মবিশ্বাসকে শান দিতে সহায়তা করে। তাই কেউ যখন আপনার সঙ্গে কথা বলছে, তখন তার কথার মাঝখানে কথা বলবেন না বা প্রশ্ন করবেন না। তাহলে সে বিরক্ত হবে। তাই আগে শুনুন, এতে তিনি ভাববেন আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং তখন তিনিও আপনার কথা শুনতে আগ্রহী হবেন। আর কেউ যখন আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে, তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়বে। তাই শুধু বলে যাওয়া অভ্যাসটাকে পরিত্যাগ করুন আর মনোযোগ দিয়ে শুনে তারপর বলার অভ্যাসটি রপ্ত করুন।

নিজেকে দোষারোপ করবেন না : আমরা এ ভুলটা প্রায় শতকরা ৯০ শতাংশ মানুষই করি। পরিস্থিতি আমাদের হাতের নাগালের বাইরে গেলেই নিজেকে দোষারোপ করি। পদক্ষেপে সামান্য গরমিল হলেই আমরা আশাহত হয়ে নিজেকে দোষারোপ করতে ভুলি না। আর এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস চুরমার করে ফেলি। হারিয়ে ফেলি অনুপ্রেরণা! যে দুটি উপাদান নিয়েই সাফল্যের মূল ভিত্তি গঠিত হয়েছে। আমরা সাফল্যের বিশালসংখ্যক সিঁড়ির একটিতে হোঁচট খেয়েই আটঘাট বেঁধে নিজেকে দোষারোপ করা শুরু করে দিই। আর আত্মবিশ্বাস আমাদের দেহ ছেড়ে পালিয়ে যায়। সে কাজটা আর করা হয়ে ওঠে না। উঠলেও ব্যর্থতার তকমা কপালে লেপতে হয়। কেননা আত্মবিশ্বাস ছাড়া সাফল্য সম্ভব নয়। তাই মনে রাখবেন, আপনি সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু করতে পারবেন না। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গেলে নিজেকে দোষ দেবেন না। তার চেয়ে বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভাবুন আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে।

নিজের ব্যাপারে নেতিবাচক কথা বলবেন না : নিজেই যদি নিজের সম্পর্কের নেতিবাচক দিক ফুটিয়ে তোলেন, তাহলে অন্য মানুষও আপনার নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে কথা বলার সাহস পাবে। নিজের নেতিবাচক দিকগুলো কখনই কর্মস্থলে বলা যাবে না। বরং আপনার উচিত হবে নিজের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা। এতে যেমন আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে, তেমনি আপনার কর্মস্থলে গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

নিজের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তিগুলো লিখে ফেলুন : আমরা যদি আমাদের অপ্রাপ্তিগুলোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রাপ্তির দিকে তাকাই, তাহলে দেখব, অপ্রাপ্তির চেয়ে প্রাপ্তির সংখ্যাই অনেক বেশি। তাই অপ্রাপ্তির আগুনে না পুড়ে প্রাপ্তির সুখে গা ভাসানোটাই শ্রেয়। সুতরাং নিজের প্রাপ্তি নিয়ে ভাবুন। লিখে ফেলুন একটি ডায়েরিতে আগামীর লক্ষ্যও। দেখবেন হারানোর চেয়ে অর্জন আর সম্ভাবনায়ই ভরে উঠেছে আপনার খাতা ও মন। আর আত্মবিশ্বাস হবে টইটম্বুর।

Disconnect