ফনেটিক ইউনিজয়
ঈদে খাবার খেতে হবে ভেবে চিন্তে
কামরুন আহমেদ
কামরুন আহমেদ
----

সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ সিয়াম সাধনার পর মুসলিমদের সবচেয়ে ধর্মীয় উৎসব এটি। এ উৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে চলে নানা আয়োজন। আর খাবার হলো এ উৎসবের মূল আয়োজন। ঈদের দিন যে শুধু নিজেদের বাসায় বেশি বেশি খাবার খাওয়া হয় তা নয়, বরং দফায় দফায় খাওয়া হয় আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও ! ঈদের দিন সবার ঘরে গুরুপাক খাবার রান্না হয়। যেমন- পোলাও, রোস্ট, রেজালা, কাবাব। আবার আয়োজন থাকে চটপটি, ফুচকা ইত্যাদি। মিষ্টিজাতীয় খাবারও তৈরি হয় সবার ঘরে ঘরে। কারণ মিষ্টিজাতীয় খাবার ছাড়া তো ঈদ জমেই না।
তাই বলে ঈদের দিন লাগাম ছাড়া খাবার খেলে তো আর চলবে না। অনেককেই দেখা যায় লাগামহীন খাবার খেয়ে বদহজম, ডায়রিয়া ইত্যাদি সমস্যায় পড়েন। ঈদের দিন যেহেতু বারবার খেতে হয়, তাই অল্প অল্প খাবার খেলেই এসব সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

সেমাই-পায়েস
এ খাবারগুলো তৈরি করতে দুধ-বাদাম-কিশমিশ-চিনি এসব উপাদানের প্রয়োজন। আবার অনেকে কনডেন্সড মিল্ক ব্যবহার করেন। তাই সেমাই-পায়েস তৈরিতে লো ফ্যাট দুধ বা সর তোলা দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণত কনডেন্সড মিল্ক ব্যবহার না করাই ভালো। অন্যদিকে বেশি বাদাম হজমে সমস্যা করে আর কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই কম বাদাম ব্যবহার করা উচিত।

পোলাও
পোলাও তৈরিতে কম তেল ব্যবহার করা ভালো, যাতে পরিবারের সবাই ভালোভাবে খেতে পারে। আবার অনেক সময় আমরা প্রচুর ঘি ব্যবহার করি। এক্ষেত্রে ঘির পরিবর্তে তেল ব্যবহার করা উচিত।

রোস্ট
রোস্ট তৈরিতে ঘি ব্যবহার না করে তেল ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি বাদাম বাটা কম ব্যবহার করা ভালো।

সালাদ
সালাদও পুষ্টিকর একটি খাবার। ঈদের দিন অন্য খাবারের সঙ্গে সালাদ রাখলে খাবার সহজে হজম হয়। শসা, টক দই, পুদিনা পাতা, টমেটো ব্যবহার করাটা ভালো। কারণ পুদিনা পাতা, টক দই খাবার হজমে সাহায্য করে। এই বিশেষ দিনে আমরা লাবাং, দইয়ের তৈরি ঘোল খেতে পারি। পাশাপাশি মাংসের গ্রিল খাওয়া যেতে পারে। যেহেতু ঈদের দিন বারবার খাবার খেতে হয়, তাই কম তেলের খাবার খাওয়াই ভালো। এ দিনটিতে পানি খাওয়ার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বাড়াতে হবে, কিন্তু কোমল পানীয় কম খেতে হবে। যারা ওজন কমিয়েছেন, তাদের জন্যও খাবার বুঝেশুনে খেতে হবে।

ফুচকা ও চটপটি
ফুচকা খেলে শরীরের ওজন বাড়ে। কারণ ফুচকায় আছে ময়দা ও তেল। আবার চটপটির ডালে আছে প্রচুর ক্যালরি। বেশি চটপটি খেলেও ওজন বাড়ে। তাই এ খাবার গ্রহণে একটু সতর্ক থাকতে হয়।
 
কাবাব
ঈদের সময় আমরা কাবাব খাই। কাবাব একটি জনপ্রিয় খাবার। খাবারের এ আইটেম কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত, ডায়াবেটিসে আক্রান্তসহ সব বয়সীরাই খেতে পারেন। তবে কাবাব তৈরিতে কম তেল ব্যবহার করতে হবে। এজন্য নন স্টিক ফ্রাইপ্যান ব্যবহার করা উচিত। যাদের গরুর মাংসে সমস্যা আছে, তারা মুরগির মাংস ব্যবহার করতে পারেন কিমার জন্য। কিন্তু খাসির মাংস ব্যবহার করা উচিত নয়।

কিমাবল
কিমা, রসুন, আদা, ডিমের সাদা অংশ, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা একত্রে তৈরি করতে হয় কিমাবল। এরপর বিস্কুটের গুঁড়া মাখিয়ে দিয়ে গোল বলের মতো বানিয়ে হালকা তেল দিয়ে ভাজলে সাস্থসম্মত হবে এবং সবাই খেতে পারবেন কিমাবল।
তবে কলিজা রান্না করলে কলিজা সিদ্ধ করা পানি ফেলে দিতে হবে। এতে চর্বি চলে যাবে। ডায়বেটিসে আক্রান্তদের জন্য মিষ্টিজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে জিরোক্যাল বা ক্যালরিবিহীন চিনি ব্যবহার করতে হবে।
যেমন ক্ষীর বানাতে দুধ, জিরোক্যাল, পোলাওয়ের চাল, বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে তৈরি করলে ডায়বেটিসে আক্রান্তরা খেতে পারবেন। ঈদের দিন টক দই খাদ্যতালিকায় রাখলে সবাই খেতে পারবেন যেকোনো ধরনের খাবার। কারণ টক দই তাড়াতাড়ি খাবার হজম করে। ঈদ সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনুক।

Disconnect