ফনেটিক ইউনিজয়
কেকা ফেরদৌসির রান্নাঘর
সুলতান মাহমুদ সোহাগ

সবাই নিজেকে নিজের জন্যই ভালোবাসে। আমিও নিজের জীবনকে ভালোবাসি। তবে যখন দুঃখের কিছু ঘটে, তখন মনে হয় জীবনটা দুঃখময়। আবার যখন আনন্দের কিছু ঘটে, তখন মনে হয় জীবনটা অনেক আনন্দময়। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও বার্তায় এমনই সাবলীল মন্তব্য করেছিলেন কেকা ফেরদৌসি।
কেকা ফেরদৌসির জন্ম ১৯৬০ সালে ঢাকায়। বাবা মরহুম ফজলুল হক ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংবাদিক। মা কথাসাহিত্যিক রাবেয়া চৌধুরী। ভাই চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। স্বামী ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালক আব্দুল মুকিত মজুমদার বাবু।
কেকা ফেরদৌসি মনে করেন, রান্নায় রসনায় তৃপ্তি। বাংলাদেশের পুরনো ঐতিহ্যের মধ্যে রান্নাও একটি। তিনি ছোটবেলা থেকেই রান্না করতে ভালোবাসেন। ১৯৮০ সালে বিয়ের পর দেশের বাইরে চলে গেলেও ১৯৮৪ সালে দেশে ফিরে দেশি ও বিদেশি রান্না নিয়ে তার পথচলা শুরু হয়। প্রায় ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন টেলিভিশনে তিনি রান্নার অনুষ্ঠান করে থাকেন। ‘কেকা ফেরদৌসির রান্না ঘর’ নামে একটি রান্নার স্কুল পরিচালনা করেন তিনি। এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাম্প্রতিক দেশকালের পাঠকদের জন্য কিছু রেসিপি দিয়েছেন তিনি।

শাহি জর্দা
উপকরণ : পোলাওয়ের চাল বা যেকোনো লম্বা চাল নিতে হবে। খুব ভালো ঘি নিতে হবে দেড় কাপ, জাফরান, জর্দার রঙ এক চিমটি, পেস্তা বাদাম কুচি ৫ টেবিল চামচ, কিশমিশ ৫-৬টি, দারচিনি ৩-৪টি, এলাচ ৫-৬টি, শুকনা খেজুর কয়েকটা, চিনি আধা কাপ, দুধ ৩ টেবিল চামচ, লবণ এক চিমটি, পানি পরিমাণমতো।
প্রণালি
হাতের কাছে সব রেডি রাখতে হবে। চাল ধুয়ে পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। পানিতে সামান্য লবণ এবং জাফরান দিতে হবে। জাফরানের ঘ্রাণ ও রঙ সিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বের হতে থাকবে। চাল সিদ্ধ এবং রঙ ধরে গেলে ঠা-া পানি দিয়ে চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে। এবার একটি পাত্রে ঘি গরম করে দারচিনি ও এলাচ ভেজে নিতে হবে। এরপর সিদ্ধ করা চাল পাত্রে দিয়ে দিতে হবে এবং কিশমিশ দিয়ে নাড়তে হবে। এরপর বাদাম ও খেজুর কুচি দিয়ে একটি পাত্রে পরিবেশন করতে হবে।

গাজরের হালুয়া
উপকরণ : গাজর কুচি ৫০০ গ্রাম, গুঁড়া দুধ (ঘন করে জ্বাল দেয়া) আধা কাপ, চিনি আধা কাপ, পেস্তা বাদাম ২ টেবিল চামচ, কিশমিশ ৫-৬টা, ঘি আধা কাপ, এলাচ ৪টি।
প্রণালি
প্রথমে চুলায় একটি কড়াইয়ে ঘি ঢেলে দিতে হবে। ঘি গরম হলে কড়াইয়ে গাজর কুচি ও এলাচ দিতে হবে। এখন একটু নাড়াচাড়া করে ভালো করে ভেজে নিতে হবে। এরপর ঘন দুধ, চিনি, পেস্তা বাদাম, কিশমিশ দিতে হবে। ১০ মিনিট রান্না করে নামিয়ে ফেলতে হবে। তৈরি হয়ে যাবে নবাবি গাজরের হালুয়া।

বিফ সালাদ উইথ শসা
উপকরণ : শসা ১টি, টমেটো কিউব করে কাটা ১টি, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, পিঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, পুদিনা পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, শুকনা মরিচ গুঁড়া ২ চা চামচ, লবণ আধা চা চামচ ও সেদ্ধ গরুর মাংস পাতলা করে কাটা ৩০০ গ্রাম।
প্রণালি
প্রথমে একটি বাটিতে টমেটো কিউব, সেদ্ধ গরুর মাংস, লবণ, পুদিনা পাতা, পিয়াজ কুচি, শুকনা মরিচ গুঁড়া ও লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিতে হবে। ব্যস তৈরি হয়ে যাবে সালাদ। এবার সুন্দর করে শসা কেটে নিতে হবে, শসার মধ্যের অংশ ভালো করে পরিষ্কার করে একটি ঝুড়ি তৈরি করে তার মধ্যে তৈরি করা সালাদ দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। মনে রাখতে হবে, শসা যত সুন্দর করে কাটবেন আপনার সালাদ কিন্তু ততটা দেখতে সুন্দর হবে। সুন্দর দেখাটাও কিন্তু সবার চেয়ে উপরে।

রসুন বিফ
উপকরণ : সেদ্ধ গরুর মাংস পাতলা করে কাটা ২৫০ গ্রাম, রসুন বড় ১টি বা ছোট সাইজের ২টি, পিঁয়াজ কিউব করে কাটা ২টি, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, লবণ আধা চা চামচ, চিনি ৩ চা চামচ (যারা চিনি কম খেতে পছন্দ করেন, তারা এক-দেড় চামচ নিতে পারেন), শুকনা মরিচ গুঁড়া ২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৫টি।
প্রণালি
প্রথমে একটি কড়াইয়ে তেল দিতে হবে, তেল গরম হলে গরুর মাংস সামান্য ভেজে সয়া সস, লবণ, চিনি, পিঁয়াজ কিউব, শুকনা মরিচ গুঁড়া, রসুন ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করে ৫ মিনিট রান্না করতে হবে। তৈরি হয়ে যাবে রসুন বিফ। সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করার সময় আপনি চাইলে একটি কলার পাতার ওপর পরিবেশন করতে পারেন। দেখতে সুন্দর লাগবে।

ফিশ কেক
উপকরণ : তেলাপিয়া মাছের কিমা ২৫০ গ্রাম, আলু সেদ্ধ চটকানো ১০০ গ্রাম, বরবটি কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ ১ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ৪ চা চামচ।
প্রণালি
প্রথমে একটি বাটিতে তেলাপিয়া মাছের কিমা, সেদ্ধ আলু, বরবটি কুচি, লবণ, গোলমরিচ গুঁড়া ও কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিতে হবে। এবার চুলায় একটি কড়াইয়ে তেল দিতে হবে, তেল গরম হলে মাখানো মাছের কিমা দিয়ে গোল চ্যাপ্টা করে এপিঠ-ওপিঠ বাদামি করে ভেজে তুলে নিতে হবে। তৈরি হয়ে যাবে ফিশ কেক। খুব সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

কলাপাতা কাবাব
উপকরণ : গরুর মাংসের কিমা ১ কেজি, আদা বাটা আধা চা চামচ, রসুন বাটা আধা চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া এক চা চামচ, কাবাব মসলা ১ চা চামচ, গরম মসলা ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ কুচি ৫টি, পিঁয়াজ কুচি আধা কাপ, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, লবণ ১ চা চামচ, চিনি আধা চা চামচ, লেবুর রস ২ চা চামচ, ঘি ২ চা চামচ।
প্রণালি
একটি বাটিতে মাংসের কিমা, আদা-রসুন বাটা, জিরা ও মরিচ গুঁড়া, কাবাব মসলা, গরমমসলা গুঁড়া, কাঁচামরিচ কুচি, ধনেপাতা কুচি, লবণ, চিনি, লেবুর রস ও ঘি দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে চ্যাপ্টা করে কাবাব আকারে তৈরি করে কলাপাতা পেঁচিয়ে টুথপিক দিয়ে আটকে নিন। এবার চুলায় একটি কড়াইয়ে তেল দিন, তেল গরম হলে তৈরি করা কাবাবগুলো এপিঠ-ওপিঠ ভালো করে ভেজে তুলে নিন। তৈরি হয়ে যাবে কলাপাতা কাবাব। সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

পায়েস
উপকরণ : পোলাওয়ের চাল ১ কাপ (সুগন্ধি চাল হলে ভালো হয়), দুধ ১ লিটার, চিনি স্বাদমতো, সাদা এলাচ, দারচিনি, কিশমিশ, কাজুবাদাম।
প্রণালি
একটা পাত্রে দুধ গরম করতে হবে সঙ্গে কয়েকটি সাদা এলাচ, দুই টুকরো দারচিনি দিতে হবে। দুধ কিছুটা গাঢ় করে নিন। এরপর আগে থেকে ধুয়ে এবং পানি ঝরিয়ে রাখা চাল পাত্রে দিয়ে দিতে হবে। চাল নরম হয়ে এলে একটু নাড়তে হবে। মধ্যম আঁচে চুলা জ্বলবে এবং একটু ঘন ঘন নাড়তে হবে। চাল নরম হয়ে এলে পরিমাণমতো চিনি দিতে হবে। চুলা জ্বলবে এবং নাড়তে হবে। একটু পরে আরও কিছুটা গাঢ় হয়ে যাবে। এবার কয়েকটা কিশমিশ দিয়ে বারবার নাড়তে হবে। বুদ্বুদ অবস্থায় আসবে এবং দেখা যাবে চাল আর দুধ একসাথে মিশে গেছে। এবার একটা পাত্রে ঢেলে উপরে কয়েকটা কাজু বাদাম দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

Disconnect