ফনেটিক ইউনিজয়
বিষণ্নতায় ভোগে পুরুষরাও
লাইফস্টাইল ডেস্ক

সারা বিশ্বে বিষণ্নতায় ভোগা মানুষের সংখ্যা কম নয়। ২০১৫ সালে বিশ্বে প্রায় সাড়ে ৩২ কোটি মানুষ বিষণ্নতায় ভুগেছে। দিন দিন এ সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা ঠিকমতো চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্যোগ না নেয়ার ফলে যে ক্ষতি হয়, তার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় বছরে ১ হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা। তবে নারীদের তুলনায় পুরুষদের বিষণ্নতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে কিছুটা কম। বিষণ্নতা খানিকটা বংশগতির কারণে হয়ে থাকলেও এর অন্যান্য কারণও রয়েছে। নারীদের তুলনায় পুরুষদের বিষণ্নতা কেন নজর এড়িয়ে যায়, সে বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।

বিষণ্নতার লক্ষণ চিনতে না পারা
পুরুষদের বিষণ্নতাকে খুব কমই চিহ্নিত করা যায়। কারণ এর লক্ষণ থাকে অন্যরকম :

শারীরিক লক্ষণ
যেমন পিঠে ব্যথা, ঘন ঘন মাথা ধরা, হজমে সমস্যা, ক্লান্তি, নিদ্রাহীনতা ও যৌন অক্ষমতা ইত্যাদি। এ সমস্যাগুলো মূলত মনোদৈহিক। কারণ এগুলো মানসিক সমস্যা থেকে উদ্ভূত শারীরিক সমস্যা। এক্ষেত্রে বিষণ্নতাকেই দায়ী করা হয়।

রাগ
বিষণ্নতার কারণে পুরুষরা নারীদের চেয়ে বেশি রাগ ও অসহিষ্ণুতা প্রকাশ করে। কোনো কোনো সময় এ রাগ হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং এক্ষেত্রে কখনও কখনও বিষণ্নতার শিকার ব্যক্তি গালিগালাজ করে।

বেপরোয়া আচরণ
বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণ কখনও কখনও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তখন সে নিজের কিংবা অন্যের ক্ষতিসাধন করতে পারে। বিষাদগ্রস্ত ব্যক্তি সহনির্ভরশীল মনোবৈকল্যে (co-occuring substance abuse) ভুগতে পারে। এক্ষেত্রে তার মধ্যে মাদক কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে আসক্তি তৈরি হতে পারে। মানসিক কারণে শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকির এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এসব সমস্যার চিকিৎসায় রোগের অন্তর্নিহিত কারণ উপেক্ষা করে কেবল লক্ষণগুলো উপশমের দিকেই নজর দেয়া হয়। ফলে সমস্যার মূল কারণ দূরীভূত হয় না।

বিষণ্নতার লক্ষণকে খাটো করে দেখা
পুরুষরা নিজের মানসিক অসুস্থতাকে গুরুত্ব দিতে চায় না এই ভেবে যে, পাছে এটাকে তার ‘দুর্বলতা’ কিংবা ‘ঝুঁকি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধ পুরুষকে ‘দুর্দশাগ্রস্ত’ হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত নয়। এ কারণে পুরুষের মধ্যে নিজের বিষণ্নতার লক্ষণগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া, দমিয়ে রাখা কিংবা লুকিয়ে রাখার প্রবণতা তৈরি হয়।

মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসা গ্রহণে বিরোধিতা
পুরুষরা মানসিক অসুস্থতাকে স্বীকার করতে না চাওয়ার কারণে চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যায়। বিষণ্নতায় আক্রান্ত পুরুষরা মনে করে, তাদের পেশাগত কিংবা সামাজিক জীবনে এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। এ কারণে শুরুতে তারা নিজেদের মানসিক অসুস্থতাকে পুরোপুরি অস্বীকার করে, কিংবা চিকিৎসা নিতে অস্বীকার করে। এমনকি তারা যদিও বুঝতে পারে যে, এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিষণ্নতায় আক্রান্ত পুরুষদের চিকিৎসকের কাছে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সেখানেই কেবল তার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে।

Disconnect