ফনেটিক ইউনিজয়
ওজন কমাতে গিয়ে হিতে বিপরীত!
শারমিন সেতু

বলা হয়, আপনি ফিট তো সব হিট। আসলেও তো তাই। তবে ফিট থাকতে হলে ব্যক্তিকে প্রথমে শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর দিতে হবে। আমরা কমবেশি সবাই জানি, স্থূলতা কখনও কখনও আমাদের ফিট থাকার ক্ষেত্রে খানিকটা বাধার সৃষ্টি করে। তাই মেদ ঝরিয়ে ছিপছিপে গঠনের শরীর না হলেও অবশ্যই মাথায় রাখত হবে, এ স্থূলতা যেন অসুস্থতার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। অনেক সময় আমরা মেদ নিয়ে বেশি সচেতন হতে গিয়ে না  জেনে বড় রকমের ভুল করে ফেলি।  যেমন ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নিজেরাই নিজেদের ডায়েট চার্ট বানিয়ে ফেলি কোনো পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়াই। কিন্তু আমাদের শরীরে ফ্যাট জমার নানা কারণ হতে পারে। এভাবে না জেনে আমাদের ভুলের কারণে শরীরের মারাত্মক পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে, সে বিষয়টি আমরা এড়িয়ে যাই।
এ্যাপোলো হসপিটালের প্রিন্সিপাল ডায়েটিশিয়ান তামান্না চৌধুরী ওজন কমানোর বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ওজন কমানোর জন্য প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে, সেটি হলো মানসিক প্রস্তুতি। হঠাৎ করে নিজে নিজে কার্বোহাইড্রেট খাওয়া বন্ধ করে দিলেই ওজন কমে না, বরং ওজন আরও বাড়তে পারে। তাই একজন এক্সপার্টের কাছে গিয়ে পরামর্শ করাটা ভালো। এরপর জানতে হবে, ঠিক কী কারণে আপনার ওজন বেড়েছে। উপযুক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরামর্শ অনুযায়ী জীবন-যাপন আর খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে । না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। মারাত্মক ক্ষতি ও ঝুঁকি থাকে না জেনে খাদ্যতালিকা বানালে।’
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি পুষ্টিবিদের কাছে না যায়, সেক্ষেত্রে তাকে প্রথমেই দেখতে হবে, কী পরিমাণ ওজন কমাতে চাইছেন? তবে বেশি বেশি ওজন মাপা যাবে না। এতে মানসিক চাপ বেড়ে গিয়ে অন্যদিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এরপর আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা কত, ডায়াবেটিস আছে কিনা, থাইরয়েডের মাত্রা কতÑ এসব জেনে নিয়ে এগোতে হবে। বয়স যদি ৪০-এর বেশি হয়, সেক্ষেত্রে কিডনি আর লিভার পরীক্ষা করে নিতে হবে। কারণ অনেকেই তার ডায়েটে বেশ খানিকটা প্রোটিন রাখে কার্বোহাইড্রেট একদম বাদ দিয়ে। এতে ওজন খানিকটা কমলেও যারা আগে থেকেই কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত, তারা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শারীরিক পরীক্ষা খুব জরুরি।
আবার অনেক সময় নিজেরা সুষ্ঠু খাদ্যতালিকা বানাতে গিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত অনেক খাবার থেকে বঞ্চিত হতে হয়। অথচ সুস্থ থাকতে আমাদের শরীরে  সেগুলোর প্রয়োজন পড়ে। যেমন-
তেল :  তেলকে আমরা অস্বাস্থ্যকর বললেও আমাদের শরীরের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপদান। একমাত্র তেলেই রয়েছে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, যা আমাদের শরীর তৈরি করতে পারে না। তেল শরীরে সেই উপাদানকে অ্যাবজর্ব করতে সাহায্য করে। ওজন কমাতে গিয়ে তেলকে একেবারে বাদ দিয়ে শুধু সিদ্ধ শাকসবজি খেয়ে ওজন কমাতে পারলেও ত্বক, বোন সেট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি বড় রকমের মানসিক হতাশা ভর করতে পারে। তবে অবশ্যই ভালো উদ্ভিজ্জ তেল খেতে হবে এবং তা পরিমিতো।

ওজন কমাতে আরও কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন-
গ্রিন টি ও বাদাম : ওজন কমাত অনেকেই প্রতিদিন অনেক কাপ গ্রিন টি খান। প্রোটিনের জন্য বাদাম খাওয়া হয় বেহিসেবি। মনে রাখতে হবে, যেকোনো খাবারই অতিরিক্ত গ্রহণের পাশর্^প্রতিক্রিয়া থাকে। গ্রিন টি বেশি খেলে ঘুমের সমস্যা, হাত-পা জ্বালাপোড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।

কৃত্রিম চিনি : কৃত্রিম চিনির ব্যবহার এখন খুবই বেড়েছে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে। কিন্তু কৃত্রিম যেকোনো কিছুই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই এমন কিছু খাওয়া যাবে না, যা আপনার ওজন কমাবে, তবে অন্যভাবে বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করে।
তাই সুস্থ থাকতে ডায়েট চার্টে খাদ্যের সব ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদানের সমন্বয় করতে হবে। সেটি হতে পারে ভাত, রুটি, মুড়ি, চিঁড়া, শাকসবজি, ফলমূল। প্রোটিনজাতীয় খাবার রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। তবে উদ্ভিজ্জ  প্রোটিন শরীরের জন্য বেশি ভালো। তাই সব খাদ্য সঠিক সময়ে পরিমিত খেতে হবে। এতেই ফিট থাকা যাবে সহজে।

Disconnect