ফনেটিক ইউনিজয়
সেলফি একটি মানসিক রোগ
নাজমা জাহান রুপা

সেলফি বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্মের কাছে বহুল ব্যবহৃত শব্দ। সেলফি প্রথম অবস্থায় শুধু তরুণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এটি সর্বস্তরে প্রচলিত। এর প্রবণতাও এখন চরমে। সেলফির ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় মাইস্পেসে যখন ফেসবুক ছিল না। রবার্ট কার্নিলিয়স নামে এক ব্যক্তি ১৮৩৯ সালে সর্বপ্রথম সেলফির ব্যবহার করেন। ক্যামেরা বা স্মার্টফোনের সামনে ক্যামেরা দিয়ে নিজের প্রতিকৃতি তোলাই হলো সেলফি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, টুইটার, গুগল, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি সাইটে সেলফি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়।  
‘টাইম’ ম্যাগাজিনের এক সমীক্ষায় বলা হয়, বর্তমান সময়ে সেলফি শব্দটি সেরা ১০ শব্দের মধ্যে একটি। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই সেলফি বেশ জনপ্রিয়। মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী মানুষের ৩০ শতাংশ ছবিই এখন সেলফি। অনেক সমাজবিজ্ঞানী বলছেন, সেলফির শুরু মূলত পর্ণ সংস্কৃতি থেকে। নিজের শরীর সুন্দরভাবে প্রদর্শনের মাধ্যমে অন্যকে আকৃষ্ট করতেই মূলত সেলফি তোলা হতো। তবে ২০১০ সালের পর প্রেক্ষাপটটি ভিন্ন হতে শুরু করে। তাই এখন সুন্দর ও ভালো মানের সেলফি তুলতে বাজারে এসেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উন্নত মানের ক্যামেরাযুক্ত স্মার্টফোন। শুধু তা-ই নয়, এরপর তো   বিভিন্ন কোম্পানি নানা ধরনের সেলফি স্টিকও আনে বাজারে। তবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও সেলফির নানা ভয়াবহ দিকও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই একে মানসিক রোগ বলেও আখ্যায়িত করেছেন। এর মারাত্মক কিছু ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। যেমন-
-মানুষ সেলফি তোলার পর সেগুলোকে ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। আশা করে, অন্যরা তার সম্পর্কে মন্তব্য করুক এবং এ মন্তব্য থেকে তারা নিজেকে যাচাই করতে শুরু করে। এতে নিজের ওপর আস্থা কমে যায়।
-কিছু কিছু মানুষ সেলফি তোলা ও তা শেয়ার করা নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত থাকে যে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করতেও ভুলে যায়।
-সেলফির চরম পর্যায় হলো ‘ক্রনিক সেলফাইটিস’। এ রোগে আক্রান্তরা দিনে পাঁচবারের বেশি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সেলফি তোলে ও তা কোনো মাধ্যমে আপলোড করে।
-সেলফি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। কারণ সেলফি তোলার সময় অনেকেই অসতর্ক হয়ে পড়ে। সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর খবরটি এখন প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায়। অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, উঁচু কোনো জায়গার কিনারে গিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে এমন ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে।
-কেউ সেলফি তুলছে বড় কোনো টাওয়ারের ওপর, কেউ বা ট্রেনের সামনে, কেউ সমুদ্রে। বছরখানেক আগে পাকিস্তানে সেলফি তুলতে গিয়ে নদীতে পড়ে মারা যায় এক কিশোরী। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে নদীতে পড়ে তার বাবা-মাও ডুবে মারা যান। আর সেলফির ফাঁদে পড়ে প্রাণহানির ঘটনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। লজ্জার এ পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ছবি তোলার জন্য আমরা কতটা কাণ্ড জ্ঞানহীন হয়ে পড়েছি।
তাই এ রোগ থেকে আমাদের মুক্তির  জন্য সর্বপ্রথম নিজেকে সচেতন হতে হবে।

Disconnect