ফনেটিক ইউনিজয়
কাঁচা সবজির উপকারিতা
নাজমা রূপা

সুস্থ থাকতে শাক-সবজি ও ফলমূল অপরিহার্য খাবার। কিছু কিছু শাক-সবজি আমরা রান্না করে খাই, কিছু আবার কাঁচাও খাওয়া হয়। জেনে নেয়া যাক, কাঁচা সবজির উপকারিতা।

পেঁপে
পেঁপে জনপ্রিয় একটি ফল। এটি পেটের নানা সমস্যার সমাধানের জন্য খুবই উপকারী। পেঁপেতে অন্যান্য ফলের তুলনায় ক্যারটিন অনেক বেশি থাকে। রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। পেঁপের পুষ্টিগুণ যে কোনো ধরনের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। পেঁপের পাতা, তেঁতুল, লবন ও পানি এক সঙ্গে খেলে যে কোন ধরনের ব্যথা ভাল হয়। পেঁপে ত্বককে সতেজ করে। বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, অন্ত্রের সমস্যা, পেটের আলসার ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সমাধান করে।

ব্রকোলী
ব্রকোলী আধাসেদ্ধ করে খেলে এর খনিজ উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে রয়েছে ভিটামিন ‘ই, সি’ ও ‘এ’। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আঁশ হজমে সহায়তা করে ও হাড়কে শক্ত করে।

শসা
শসা খুব পরিচিত একটি সবজি। এটি ভিটামিন সি, কে এবং বি এর উৎস। এটি ক্যালোরি ও ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। শসার জলীয় উপাদান শরীরের শুষ্কতা রোধ করে। এছাড়া শসা ফাইবার ও ফলিক অ্যাসিড এর একটি বিরাট উৎস যা আমাদের শরীরের ক্ষতিকর টক্সিনগুলোকে বের করে দেয়। শসা ক্যান্সার প্রতিরোধক। ডায়াবেটিস এ আক্রান্তরা প্রতিদিন একটি করে শসা খেলে শরীরের সুগারের মাত্রা কমে যায়। শসায় ইনসুলিন বৃদ্ধিকারী হরমোন বিদ্যমান। যাদের ব্লাড প্রেসার আছে তারাও শসা চিবিয়ে খেতে পারেন। স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য শসাকে সুপার ফুড বলা হয়।
 
করলা
করলা তেঁতো হলেও মানুষের শরীরের জন্য সবজিটি খুবই উপকারী। করলা হজমে সহায়তা করে। পানির সঙ্গে মধু ও করলার রস মিশিয়ে খেলে অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস ও গলার প্রদাহের উপকার পাওয়া যায়। করলার রস কৃমি দূর করে ও দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। করলায় রয়েছে ভিটামিন সি যা ত্বক ও চুলকে ভালো রাখে। করলা রক্ত পরিষ্কার করে বিষাক্ত পদার্থকে বের করে দেয়। এটি বার্ধক্য দূর করে তারুণ্যকে ধরে রাখে। করলা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। করলা পাতার রস খেলে ম্যালেরিয়ায়ও উপকার পাওয়া যায়।

টমেটো
শীতের দৃষ্টি নন্দন সবজি হিসেবে টমেটোর জুড়ি নেই। টমেটো কাঁচা ও পাকা দুই অবস্থায় খাওয়া যায়। রান্না করলে টমেটোর গুণাগুণ কিছুটা কমে যায়। তাই কাঁচা খাওয়াটা বেশি উপকারী।
টমেটো শরীরের হাড়কে মজবুত করে ও ভেঙে যাওয়া হাড়কে দ্রুত জোড়া লাগাতে সাহায্য করে। এই সবজি ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। তাই ক্যানসারের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন টমেটো খেতে পারলে ভালো। এটি রাতকানা রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে টমেটো খুবই কার্যকর। এতে ভিটামিন এ, রয়েছে যা অমাদের চুলপড়া কমায় এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। টমেটো কিডনিতে পাথর হওয়া থেকেও বাঁধার সৃষ্টি করে।

Disconnect