ফনেটিক ইউনিজয়
কর্মজীবী মায়েদের ভারসাম্য রক্ষা
শারমিন সেতু
কর্মজীবী মায়েদের বাচ্চা আর ক্যারিয়ার দু’টোই ঠিক রাখা চ্যালেঞ্জিং
----

শত রকমের ব্যস্ততায় অফিসেও কর্মজীবী মায়েদের প্রধান চিন্তা থাকে তাদের শিশুসন্তানকে নিয়ে। একটা সময় ছিল যখন মনে করা হতো মেয়েরা শুধু বাসায় থাকবে, ঘরের কাজ করবে, বাচ্চা লালন-পালন করবে। এটা আমাদের সামাজিক শিক্ষণের একটি অংশ। ছোটবেলা থেকেই আমাদেরকে শেখানো হয় কোনটি  ছেলেদের কাজ আর কোনটি মেয়েদের কাজ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মেয়েরা তাদের যোগ্যতা ঘরের বাইরেও প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এতে করে মেয়েদের দায়িত্ব অনেকাংশে বেড়ে গেছে। বাস্তবতা হলোÑ কর্মজীবী মেয়েদের এখন ঘরের এবং বাইরের (অফিসের) সব কাজই সমানভাবে সামলাতে হচ্ছে। আর মায়েদের জন্য এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং  যে বাচ্চা আর ক্যারিয়ার দু’টোই ঠিক রাখা। তারপরও কিছু নারী পারছেন ব্যালেন্সটা করতে। জানা যাক কীভাবে তারা এ ব্যালেন্স করেন-

পরিকল্পনা
সন্তান ও কাজ দু’টো একসঙ্গে সামলাতে প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা। বাইরে থাকার সময় সন্তান কার কাছে থাকবে, স্কুলে কে নিয়ে যাবে, কখন তাকে খাওয়ানো হবে এসব তখনই ঠিকঠাক হবে যখন একটি সুন্দর পরিকল্পনা থাকবে। যে কোনো কাজের আগেই পরিকল্পনাটা ঠিকমতো করে ফেললে সেই মায়ের বাড়তি ধকল পোহাতে হয় না।

পরিবারের সঙ্গে আলোচনা
সন্তানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং পারিবারিক বা সামাজিক চাপ মোকাবিলা করতে পরিবারের সঙ্গে আলোচনার বিকল্প নেই। পরিবারের সাপোর্ট ছাড়া কর্মজীবী মায়ের পক্ষে সন্তান আর ক্যারিয়ার সামলানো মুশকিল। তাই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো ক্ষেত্রে কোন পদক্ষেপ নিতে হবে সেটা ঠিক করতে হবে। একা একা কোন সিদ্ধান্ত নিলে সেটি পরিবারের অন্যদের অজানা থাকলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যখন মা বাইরে আছে তখন সন্তানের পাশে যেন বাবা থাকতে পারে সেটা আগেই জানিয়ে দিতে হবে।

কর্মক্ষেত্রে আলোচনা
কর্মক্ষেত্রে সব সময় সন্তানের অজুুহাত দেখিয়ে সুবিধা গ্রহণ যেমন ঠিক না তেমনি বাচ্চার যে কোনো অসুবিধায় যেন তার পাশে থাকা যায় সেজন্য আলোচনার মাধ্যমে একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে নিতে হবে। অফিসে অহেতুক ছুটিছুটি না করে ছুটি জমাতে হবে, যেন শিশুর কোনো অসুস্থতায় হুট করে ছুটি নেয়া যায়।

মনোবল
মানসিক শক্তি দিয়েই এই কঠিন যুদ্ধে জয়ী হতে হবে এ ব্যাপারটি কর্মজীবী মায়েদের মাথায় রাখতে হবে। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লে যে কোনো মাকেই পিছিয়ে যেতে হয়। কারণ মনোবল না থাকলে আগের সব অর্জন নষ্ট হয়ে যায়। নিজেকে নিয়েও সন্দিহান হয়ে উঠেন। নিজেকে অপরাধী ভাবতে থাকেন কারণ তার সন্তানের সঙ্গে তিনি সারাদিন থাকছেন না। এটা কর্মক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে থাকে। তাই মনোবল রাখতে হবে। আর মাকে দুর্বল দেখলে সন্তান মানসিকভাবে অশান্তিতে ভুগতে পারে।

সন্তানের সঙ্গে আলাদা সময়
সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগের অভাব হলে অনেক সময় সন্তান মানসিকভাবে বিষণ্ন হয়ে পড়তে পারে। অফিসে সময় দেয়ার পর প্রতিদিন একটা সময় সন্তানের সঙ্গে কাটানো কর্মজীবী মায়েদের জন্য খুবই উপকারী। সন্তানের সঙ্গে কথা বলা খুনসুটি করা বা ওর পড়ার খোঁজ নেয়াসহ বিভিন্নভাবে সন্তানের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। কখনই যেন সন্তানের এমন মনে না হয় যে মা তাকে মনযোগ দেয় না। আবার বাইরে ছিলাম বলে ঘরে এসে সে যা বলে তাই করাও ঠিক হবে না। এতে সন্তান জেদি হয়ে যায়।

বেড়াতে যাওয়া
ছুটির দিনগুলোতে সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে যেতে হবে। সারা সপ্তাহ সন্তান সেইদিনের অপেক্ষায় থাকে মা কবে ঘরে থাকবে। সেদিন অল্প সময়ের জন্য বাচ্চাকে নিয়ে ঘুরে এলে সন্তানের মন ভালো হয়ে যায়। সন্তানকে মার্কেট প্লেসে না নিয়ে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে গেলে ভালো। অথবা কোনো জাদুঘর বা পার্কে। তাহলে মা ও সন্তান দু’জনেরই ভালো লাগবে।
সন্তানের ভালোমন্দ দেখতে পরিবারে অনেক সদস্য থাকলেও মাকেই সব ভাবতে হয়। সেটা ভেবেও নারীরা কর্মক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন এবং রেখে চলেছেন।

Disconnect