ফনেটিক ইউনিজয়
শরৎ-এর স্নিগ্ধ সাজে...
শারমিন সেতু

ঋতুর রানী বলা হয় শরৎকে। ঘন নীল আকাশ, গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা মেঘ, কাশবন, শিউলীর হালকা মৃদুমন্দ সৌরভে শরৎ-এর রূপে মুগ্ধ হয় না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যদিও প্রতিটি ঋতুরই আলাদা আলাদা আবেদন থাকে। তবে শরৎ বলতে আমরা বুঝি নীল-সাদা আর সবুজের ঐকতান। শরৎ এ নীল আকাশের রোদ আর ছায়ার লুকোচুরি খেলা যেন সত্যিই সকলকে প্রভাবিত করে। এই সময়ে সবুজ আর নীলের প্রকৃতি যেন ছুঁয়ে যায় পোশাকের বর্ণচ্ছটায়। তাই কখনও নারীর শাড়ির আচঁলে প্রাধান্য পায় নীলের বাহার। আবার কখনও কিশোরীর কামিজের প্রান্তে দোল খেলে যায় কাশবনের ছোঁয়া। এ সময় সকলের সাজ-গোজেও দেখা যায় ভিন্নতা। আর সাজের এই পরিবর্তন নির্ভর করে ব্যক্তির  নিজস্ব রুচির ওপর। তবে সকলের মধ্যে স্নিগ্ধ থাকার প্রতিযোগিতা দেখা যায় বাঙালি নারীদের মধ্যে।

শরৎ-এর পোশাক
বলা হয় শরৎ এর আছে নিজস্ব বর্ণ আর গন্ধ। তবে এ সময়ের পোশাকে সাদা ও নীলের ছোঁয়া বেশি থাকে। তবে পোশাক ডিজাইনাররা বলছেন, সাদা ও নীলের পাশাপাশি বেঁছে নিতে পারেন সবুজ আর সোনালি রংও। কারণ, শরৎ আবার নানান রংয়ের ছড়াছড়ি। শরৎ- এর আবহাওয়ায় চলে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির খেলা। এই গরম, আবার যে কোনো মুহূর্তেই শুরু হয় ঝমঝম বৃষ্টি। তাই পোশাকের রং এর ক্ষেত্রে নীল এবং সবুজ রংয়ের কম্বিনেশনও দারুণ মানাবে। পাশাপাশি লাল আর কমলার ব্যবহার তো সর্বত্রই গ্রহণযোগ্য। অনেকের কাছেই, রংয়ের ক্ষেত্রে শরৎ মানেই হালকা কিছু। আর তাই শরতের নীল এবং সাদার পাশাপাশি বেগুনী, সবুজ, টিয়া ও কমলার হালকা রংয়ের পোশাকও দারুণ মানানসই।
ফ্যাশন ডিজাইনার ও নকশাকার সিনথিয়া তুষি জানান, শরৎ এর পোশাকে সুতির  কোনো বিকল্প নেই। এ সময় তাই বেছে নিতে পারেন অ্যান্ডিকটন, তাঁত, ভয়েল প্রভৃতি ফেব্রিক্স। একটু গর্জিয়াস পোশাক চাইলে সিল্ক, জয়সিল্ক বা মসলিন ভালো লাগবে। লং কামিজের সঙ্গে সুতি পালাজ্জো, চাপা সালোয়ার কিংবা চুড়িদার পরলেও ভালো লাগবে। শরৎ এর পোশাকের ডিজাইনে বেশি প্রাধান্য থাকে হ্যান্ডপেইন্ট,  মেশিন এমব্রয়ডারি, ব্রাশপেইন্ট, স্ক্রিনপেইন্ট প্রভৃতি।
তিনি আরও বলেন, এ সময় সাজে শাড়িই বেশ ভালো মানায় মেয়েদের। একরঙা সাদা বা অফ হোয়াইট শাড়ি এক্ষেত্রে বেছে নেয়া যায়। তবে ব্লাউজটা হওয়া চাই গর্জিয়াস। শাড়ির সৌন্দর্যটা পুরোপুরি নির্ভর করছে ব্লাউজের কাটিং এবং ডিজাইনের ওপর। ভারি কাজের একটি ব্লাউজ শাড়িকে আরও বেশি গর্জিয়াস করে তোলে। তবে  শাড়ি যদি গর্জিয়াস হয়, তাহলে সিম্পল ব্লাউজ পরলে বেশ ভালো লাগবে। চাইলে সিøভলেস ব্লাউজ পরতে পারেন। তাতেও মানাবে ভালো।

চুলের যত্ন
চুলের সাজে ভালো লাগবে খোঁপা, বেণি সবকিছুই। তবে শরৎ এ খোলা চুলের  সৌন্দর্যই আলাদা। বেণি, খোঁপা কিংবা খোলা যেভাবেই চুল সাজিয়ে নিন না কেন, চুলে গুঁজে দিতে ভুলবেন না শরৎ এর কোনো ফুল। চুল খোলা রেখে কানের পাশে শুধু একটি দোলনচাঁদা গুঁজে দিলেও দেখতে অসাধারণ লাগবে। কিংবা একটা লম্বা কাশফুল ছিঁড়েও যদি খোঁপায় পেঁচিয়ে দেন তাতেও ফুটে উঠবে শরতের সৌন্দর্য। কিশোরীরা চুলগুলো একটু টেনে পনিটেল করে নিলে বেশ ভালো লাগবে। তবে চুলের যতœ দীর্ঘমেয়াদি। চুল ভালো দেখাতে এ সময় প্রতিদিন চুল ভালো করে ধুয়ে শুকাতে হবে। না হলে স্যাঁতস্যাঁতে ভাবে চুলে খুশকি দেখা দিতে পারে। আর বাড়তি যতœ নিতে চুলে সপ্তাহে তিনদিন গরম তেল ম্যাসাজ করা ও উপকারী নানা ধরনের প্যাক লাগানো ভালো।

বাড়তি সতর্কতা
এ সময়ে এই রোদ এই বৃষ্টি বলে ব্যাগে ছোট তোয়ালে ও চিরুনি রাখলে উপকৃত হবেন। চুল বড় হলে খোলা রাখতে পারেন। তবে বড় ব্যাগ না নিয়ে ছোট মানানসই ব্যাগে সানগ্লাস, কলম, টিস্যু ইত্যাদি দরকারি জিনিস ভরতে হবে। সুগন্ধি ব্যবহার করা ভুলে গেলে চলবে না।

ত্বকের সাজ
শরৎ এর শুভ্রতায় নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে  ব্যস্ত থাকে সবাই। তবে সাজে প্রাধান্য প্রায় স্নিগ্ধতা। ‘রোজ মেকওভার’ বিউটি স্যালুনের রুপবিশেষজ্ঞ আলভিনা তাজরিয়ান জানান, যারা বেশি রঙিন পছন্দ করেন তারা পোশাকের রংয়ের বিপরীত রংও বেছে নিতে পারেন হালকা মেকআপে। এটি চোখের কাজল, শ্যাডো, লিপস্টিক সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দিনের বেলা ব্লাশন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কপালে টিপ দিতে পারেন। স্কিন কালার লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট ভালো করে এঁকে নিন। এবার ঠোঁটে স্কিন কালার লিপস্টিক দিন। সবশেষে সামান্য সিমারি  গোল্ডেন লিপগ্লস দিন। এখন যেহেতু বাইরে রোদ-বৃষ্টির খেলা, তাই সাজের বেলায় উপকরণটি অবশ্যই যেন পানিরোধক হয়।

Disconnect