ফনেটিক ইউনিজয়
কেন ভুলে যাই?
শারমিন সেতু

দৈনন্দিন নানা কাজ-কর্ম করতে গিয়ে আমরা অনেক বিষয় ভুলে যাই। অনেক সময় কারো নাম মনে করা, জরুরি কোনো ফোন নম্বর মনে করা, প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো কোথায় রাখা হয়েছে  সেটি মনে করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদি হলে এটাকে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া বলে। ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির বুদ্ধি, স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব ক্রমান্বয়ে লোপ পায় এবং সমস্যার পরবর্তীতে বাড়তে থাকে। ধারণা করা হয়, প্রবীণদের মাঝে এ রোগ বেশি দেখা যায় এবং তারা অনেক কিছুই মনে করতে পারেন না।  স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে এবং শরীরের বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেললে হৃদরোগ ঠেকানোর পাশাপাশি আলঝেইমারও ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু কোন কারণগুলোর জন্য মানুষ এ ধরনের সমস্যায় পড়ে সেগুলোর দিকে আগে দৃষ্টিপাত করতে হবে।
রাজধানীর বারডেম হসপিটালের চিকিৎসক ডা. বিপুল বসাক বলেন,
-কিছু মানুষ কারণে অকারণে রাত জাগেন, নিজের স্বাস্থ্যের দিকে তারা নজর দেন না। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।  
-তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধসহ বেশ কিছু ওষুধ মানুষের মনের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এ প্রবণতা মানুষের প্রয়োজনীয় কাজ ভুলিয়ে দিতে পারে।   
-জীবনের কোন কোন সময়ে অনেকেই মারাত্মক হতাশায় ভোগেন। একজন মানুষকে যখন ক্রমাগত হতাশা গ্রাস করতে থাকে তখন তার মধ্যে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
-থাইরয়েডের সমস্যার জন্যও অনেক মানুষের মধ্যে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।  
-বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি স্বাভাবিকভাবেই দিন দিন কমতে থাকে। তাই অনেক সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোন কারণ ছাড়াই ভুলে যান।
-আবার ধূমপান, মদ বা অ্যালকোহল গ্রহণ মানুষের স্মৃতিতে খারাপ প্রভাব পড়ে। এর প্রতিক্রিয়া আবার মানুষভেদে ভিন্ন হতে পারে। কিছু মানুষ আছেন যাদের স্বল্প অ্যালকোহল গ্রহণেই মস্তিষ্কের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
মূলত, আমরা যে কারণেই যাই না কেন বিষয়টি প্রায়শই আমাদের জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে। তবে হঠাৎ করে কিছু ভুলে গেলেই যে তা ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার, এমনটা নয়। কারণ আগেও বলা হয়েছে যে, প্রতিদিনকার নিয়মিত কাজ যখন ব্যাহত হয় তখনও আমরা কাজকর্ম থেকে মনোযোগ হারাতে পারি। তাই হঠৎ ভুলে যাওয়া মানেই বড় কোন রোগ নয়। বরং প্রতিদিন ছোট ছোট বিষয়গুলোতে অবহেলার কারণে এই অবস্থা হতে পারে। আর সেই ছোটখাট কিছু জিনিস খেয়াল রাখলেই এর প্রতিকার মেলে। এক্ষেত্রে কিছু উপায় অনুসরণ করা  যেতে পারে-

শব্দ নিয়ে খেলা
শব্দ নিয়ে খেলতে থাকলে ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে। ধরুন ই-মেইলের পাসওয়ার্ডের  ক্ষেত্রে এমন একটা পাসওয়ার্ড দেয়া যাক যার, এক একটা অক্ষর এক একটি শব্দের আদ্যাক্ষর। আর সবগুলো মিলিয়ে একটা বাক্য, যা হয়তো আপনার জীবনের খুব প্রিয় কোনো ঘটনাকে বর্ণনা করছে। এ রকম পাসওয়ার্ড থাকলে ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এটিএম পিনের ক্ষেত্রেও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংখ্যা ব্যবহার করা যেতে পারে।

লিখে ফেলা
কোনো দরকারি জিনিস চট করে কোথাও লিখে রাখা ভালো। পরে যদি হাতের কাছে লেখা কাগজটি নাও পান, তবু কী লিখেছেন মনে করতে গিয়ে অনেক সময় আসল জিনিসটা মনে পড়ে যায়। পড়ার পর শিক্ষার্থীদের যে কারণে লিখতে বলা হয় এখানেও একই যুক্তি কাজ করে। লেখার এই অভ্যাস ভুলে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।

স্মৃতিকে চ্যালেঞ্জ করা
চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে মস্তিষ্ককে। ক্রসওয়ার্ড পাজল খেললে এ রকম মস্তিষ্কের ব্যায়াম হয়। এতে অনেক ভুলে যাওয়া জিনিসও মনে পড়ে যায়।

বারবার এক জিনিস বলা
ধরা যাক নতুন কোনো নাম বা ঠিকানা মনে রাখতে হবে। সেই শব্দটি বারবার করে বলতে থাকুন। এক কথা বারবার বললে তা মনে থাকতে বাধ্য।

লাইফস্টাইল
ভুলে যাওয়ার জন্য অনেকাংশেই দায়ী লাইফস্টাইল। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও শরীরে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। ধূমপান আর মদপানের ফলে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হয় এবং স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চর্বি ও স্নেহপদার্থ জাতীয় খাবার বেশি  খেলে এই সমস্যা বড় আকারের হতে পারে। সুতরাং জীবনযাপনের ধরন বদলালে এ থেকে মুক্তি মিলতে পারে।

Disconnect