মেঘ পাহাড়ের দেশ সাজেক

সাজেক ভ্যালির নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ছবি: সংগৃহীত

সাজেক ভ্যালির নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ছবি: সংগৃহীত

যাপিত জীবনের ক্লান্তি মুছে একটু সজীবতা পেতে চায় প্রাণ। ভ্রমণ ক্লান্ত প্রাণে দিতে পারে স্বস্তি। পরিশ্রান্ত মনকে সজীবতার দোলা দিতে ঘুরে আসতে পারেন, মেঘ পাহাড়ের দেশ নামে খ্যাত সাজেক ভ্যালি থেকে। একে রাঙামাটির ছাদ বলেও অভিহিত করা হয়।   

সাজেক ভ্যালীর অবস্থান রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নে। এটি সর্বউত্তরে মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেকের আয়তন ৭০২ বর্গ মাইল। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। এখানে চোখে পড়ে মেঘ আর পাহাড়ের মিতালি। মাথার ওপরে দলবেধে ভেসে যায় ভেজা তুলোর মতো মেঘ। আর মন ও শরীরে দিয়ে যায় শীতলতার পরশ। কেউ কেউ সাজেককে মেঘের উপত্যকাও বলে। 

এখানে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন হয়। দেখা মিলে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ার। কখনো শীত, কখনো গরম আবার কখনো নাতিশীতোষ্ণ অনুভূত হয়। প্রকৃতি যে কত রঙে, কত ঢঙে সাজে তা সাজেকে আসলে বুঝতে পারবেন। একদিকে মেঘাচ্ছন্ন ভোর, অপরদিকে সূর্যের আলোছায়া খেলা মুগ্ধতার রেশ রেখে যায়। এখানের সব স্থান থেকে সূর্যাস্ত দেখা গেলেও, হেলিপ্যাড থেকে সবচেয়ে সুন্দর সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। 

পড়ন্ত বিকেলে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, তখন সাজেকের পরিবেশ মাদকতায় ভরে ওঠে। তাছাড়া রাতের সাজেক ধরা দেয় ভিন্ন আঙ্গিকে। রাতের আকাশ পাহাড়া দেয় অজস্র তারা। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছাড়াও দেখতে পাবেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন। চাইলে স্বল্প খরচে আদিবাসীদের রিসোর্টে থাকতে পারবেন।  

সাজেক রাঙামাটি জেলায় হলেও ভৌগোলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেকে যাওয়া সহজ। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার হলেও দীঘিনালা থেকে দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। সাজেক ভ্রমণ করতে হলে বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিতে হবে। 

ভ্রমণপিপাসুরা সাজেকে যেতে পারেন বর্ষা কিংবা শীতের মৌসুমে। এই সময়ে দারুণভাবে প্রকৃতিকে উপভোগ করা যায়। সাজেকে থাকার জন্য অনেক রিসোর্ট আছে। যেমন সারা রিসোর্ট, ইমানুয়েল রিসোর্ট, জলবুক কটেজ, আলো রিসোর্ট, মেঘ মাচাং, লুসাই কটেজ ইত্যাদি। তবে রিসোর্টে থাকার খরচ একটু বেশি।

যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে শ্যামলী, হানিফ ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে চড়ে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। ভাড়া প্রতিজন ৫২০ টাকা করে। আপনি যদি সরাসরি দীঘিনালা যেতে চান তাহলে শান্তি পরিবহনের বাসে যাবেন। ভাড়া বাবদ খরচ হবে ৫৮০ টাকা। 

খাগড়াছড়ি কিংবা দীঘিনালা থেকে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে একদিনে সাজেক ভ্যালি ঘুরে আসতে পারেন। ভাড়া বাবদ খরচ হবে ৫৪০০ টাকা। একরাত থেকে পরদিন ফিরে আসতে চাইলে খরচ হবে ৭৭০০ টাকা। 


মন্তব্য করুন

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh