ফনেটিক ইউনিজয়
অনুগল্প
ফেসবুকের ফুলকুমারী
রণজিৎ সরকার

ফেসবুকে সজলের সঙ্গে শশীর পরিচয়। প্রথম দিন। চ্যাট লাইনে সজল শশীকে লিখল, ‘হায়, ফুলকুমারী।’
শশী লিখল, ‘আমাকে?’
‘হ্যাঁ, আপনাকে?’
‘আমাকে ফুলকুমারী বললেন কেন?’
‘আপনার প্রোফাইলের ছবিটার খোঁপায় ফুল দেখলাম। তাই লিখলাম ফুলকুমারী।’
‘এটা কি আপনার কৌশল। যার সঙ্গে পরিচয় হয়, তার নাম রেখে দেন।’
‘না না, এই প্রথম আপনার নামটাই রাখলাম।’
‘কেন লিখলেন?’
‘কেন যে লিখলাম। তবে আমার খুব ইচ্ছে ছিল “ফুলকুমারী” বলে কাউকে ডাকব। সব মিলে গেল, তাই আপনাকে বললাম।’
‘ফুলকুমারী নামটা আপনার এত পছন্দ কেন?’
‘জানি না, ফুল থেকে ফুলকুমারী। আর ফুলকুমারী তো যাকে-তাকে বলা যায় না। আপনি যোগ্য। তাই বললাম। আপনার ভালো লেগেছে?’
‘না। ছদ্মনাম আমি পছন্দ করি না। বাবা-মা আমার নাম রেখেছেন। সেই নামেই পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি।’
সজলের রাগ হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে ‘ওকে বাই’ লিখে চ্যাট লাইন অফ করে দিল।
শশী ভাবল, রাগ কি রে বাবা। এই প্রথম কেউ আমাকে নাম দিল। বাবা-মার দেওয়া নামের বাইরে। তা-ও আবার ‘ফুলকুমারী’। নামটা মন্দ না। অনেক ভালো হয়েছে। আমার পছন্দ হয়েছে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে না করে দিলাম। এটা কি ঠিক হলো আমার। মনে হয় হলো না।
পরদিন। শশী ফেসবুক ওপেন করেছে। দেখতে পেল সজলের একটা স্ট্যাটাসে অনেক লাইক, কমেন্ট পড়েছে। ভাবল, ফেসবুকে তো সজল বেশ জনপ্রিয়। সজল ফেসবুক ওপেন করল। শশী দেখতে পেল সজল চ্যাট লাইনে।
দুজনই অপেক্ষায়Ñকে আগে নক করে। কিন্তু শশী ধৈর্য ধরে রাখতে পারল না। শশী চ্যাট লাইনে গিয়ে লিখল। ‘কী অবস্থা? সেদিনের ব্যবহারের জন্য সরি।’
সজল কোনো উত্তর দেয় না। শশী মনে মনে রাগ করছে।
শশী আবার লিখল। ‘সরি’ আমাকে ‘ফুলকুমারী’ বলতে পারেন।
সজল লিখল, ‘ফুলকুমারী, তোমাকে ধন্যবাদ।’
‘তোমাকে মানে?’
‘আজ থেকে তোমাকে ‘তুমি’ বলে ডাকব।’
‘তাই, ব্যাপার বুঝেছি!’
তারপর থেকে দুজন প্রচুর চ্যাট করে।
একদিন সজল বলল, ‘ফুলকুমারী, তোমার কাছে একটা জিনিস চাই। তুমি কি দেবে?’
‘কী জিনিস?’
‘তোমার মোবাইল নম্বরটা?’
‘মোবাইলে কথা বলতে ভালো লাগে না আমার।’
‘ফুলকুমারী, তোমার কি কানে সমস্যা?’
‘কানে কোনো সমস্যা নেই। মোবাইলে কথা বলতে ভালো লাগে না। ফেসবুকের বন্ধু ফেসবুকে থাক।’
‘তাহলে কি আমরা দুজন বোবা প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে থাকব?’
শশী লাইন অফ করে দেয়।

Disconnect