অসহায় হয়ে পড়া কর্মহীনদের পাশে দাঁড়ান

আর কয়েক দিন পর আসছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর; কিন্তু সারাবিশ্বের মুসলমানদের কাছে এ রকম মন খারাপের ঈদ সম্ভবত আর কখনো আসেনি। করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বেই ছোট-বড় সব ব্যবসা-বাণিজ্য এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে। ১০ মে থেকে দেশে সব ধরনের দোকানপাট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের পর লোকজনের চলাচল বেড়ে গেলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের খুব একটা উন্নতি হয়নি। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেনাকাটা ও খরচে মানুষ এখন অনেক সংযত। ফলে পহেলা বৈশাখের পর ঈদের মতো পরপর দুটি বড় উৎসবে বেচাবিক্রি না হওয়ায় বিশেষ করে ক্ষুদে ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা পুঁজির সংকটে পড়েছে। যদিও সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য এখন প্রয়োজন জামানতবিহীন ঋণ; কিন্তু সে ব্যাপারে ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এদিকে, দোকানপাট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হলেও লোকজনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। ঢাকায় প্রবেশ ও প্রস্থান দুটোই বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। যদিও সরকারি তরফে এই ছুটি চলাকালে যে যেখানে অবস্থান করছেন, তাকে সেখানেই ঈদ পালন করার কথা বলা হয়েছে; কিন্তু মানুষ নানা কৌশলে ঢাকায় ঢুকছে কিংবা বের হচ্ছে। সংক্রমণ ও মৃত্যু দু’টিই বেড়ে যাওয়ায় এই সময়টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সরকারের সিদ্ধান্তটি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নাই।

আসন্ন ঈদুল ফিতরের সময় কিছু খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। তবে সেই অনুপাতে সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় কিছু কিছু পণ্যের দাম বেশ বেড়ে গেছে। ঈদের সময় যেন আরো না বাড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের যে অংশটি বাড়তি মুনাফা লাভের চেষ্টায় সংঘবদ্ধভাবে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রমণ-পর্যটন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, পোশাক-ফ্যাশন; রফতানিমুখি পণ্যসংশ্লিষ্টরা, পরিবহন শ্রমিকসহ দিনমজুররা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অন্যান্য বছর ঈদের সময়ে যেখানে বাড়তি আয়ের প্রস্তুতি থাকে, সেখানে এবার দিন পার করতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অসহায় হয়ে পড়া কর্মহীন এইসব মানুষের খাদ্য সংস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজন কীভাবে মিটবে তা যেমন সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে, তেমনি সামর্থ্যবান মানুষকেও এ ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh