বাংলাদেশ-ভারত-চীন সম্পর্ক

সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে ভারতের সংঘর্ষে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই চীনের তরফ থেকে পাঁচ হাজার ১৬১টি পণ্যের শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয় চীন। এ সময় চীনের দেয়া এ সুবিধা ভারতীয় মিডিয়ার কাছে ভালো ঠেকেনি। 

আনন্দবাজার পত্রিকা ও জি-নিউজের বাংলা সংস্করণ ‘২৪ ঘণ্টা’র খবরে বিষয়টিকে ‘খয়রাতি’ বলেও আখ্যা দেয়। এই ‘খয়রাতি’ শব্দটি নিয়ে বাংলাদেশে অলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এ সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ভারত সরকার এ বিষয়ে এখনো কিছু বলেনি। দেশটির কয়েকটি পত্রিকা আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করেছে। তারা এমন শব্দ ব্যবহার করেছে, যা কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়।’

ভারত ও চীন দুটি দেশই বাংলাদেশের তুলনায় বৃহৎ। উভয় দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তা করেছে। চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও আশির দশক থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব আরোপ করে। অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তা করলেও পরবর্তী সময়ে পানি বণ্টন, রোহিঙ্গা সংকট, নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ইস্যুগুলোতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

ভারত ও চীনের মধ্যে উদ্ভূত উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে। উভয় দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য জরুরি। সর্বোপরি সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে তার সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি সম্মান বজায় রেখে, অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের নীতিতে অটল থাকতে হবে।

ভারত ও চীন উভয় দেশের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে রফতানি করেছে ১২৫ কোটি ডলার, আমদানি করেছে ৭৬৫ কোটি ডলার। একই বছর চীনে রফতানি করেছে ৮৩ কোটি ডলার, আমদানি করেছে ১৩৬৪ কোটি ডলারের পণ্য। একই অর্থবছরে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ প্রায় ৬০ কোটি ডলার। ভারত একই সময়ে বিনিয়োগ করেছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি ডলার। বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক লেনদেন ছাড়াও দেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকার বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশকে চীন ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং উভয় দেশের যে কোনো বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে উদ্যোগী হওয়াটাই সমীচীন হবে।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

<