ভয়ের সিনেমা দেখলে যা হয়...

রোমান্স, কমেডি, থ্রিলার সব কিছুকে পিছনে ফেলে আজও জিতে যায় হরর সিনেমা বা ভয়ের সিনেমা। ভৌতিক গল্প নিয়ে নির্মিত ছবি দর্শক বেশ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন।  

‘দ্য এক্সোরসিস্ট’ চলচ্চিত্রটিকে অনেকেই সর্বকালের সেরা হরর সিনেমা বলে থাকেন। কেউ কেউ আবার ‘কিং অব হরর মুভি’ বলেও মন্তব্য করেছেন। উইলিয়াম ফ্রেডকিন পরিচালিত এ সিনেমাকে তিন কারণে সর্বকালের সেরা হরর মুভি বলে মানতে হবে। 

প্রথমত, ছবিটি এতই ভয়ের যে, শো চলাকালে হলের বাইরে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হতো, ভয় বা আতঙ্কে অজ্ঞান হয়ে পড়া দর্শকদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ভয়ংকর ছবি হওয়ায় এক বছরের মাথায় এর সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। অবশ্য ছবিটি এখন সবার জন্যই উম্মুক্ত। তৃতীয়ত, এটিই প্রথম অস্কারপ্রাপ্ত ভৌতিক ছবি। 

১৯৭৩ সালে নির্মিত ‘দ্য এক্সোরসিস্টের’ কাহিনি এগিয়েছে কিশোরী রিগানকে কেন্দ্র করে। ‘দ্য এক্সোরসিস্ট’ মূলত বিখ্যাত লেখক পিটার ব্লেটির উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র। 

একটি ভালো হরর চলচ্চিত্র শরীরে বেশ প্রভাব ফেলতে পারে। আবার কখনো কখনো আতঙ্কিতও করে ফেলতে পারে এসব সিনেমা।

দেখে নেয়া যাক হরর সিনেমা কি প্রভাব ফেলে:

১. সাদা রক্তকণিকার জন্য ভালো: ভীতিকর সিনেমা আমাদের জন্য ভালোও হতে পারে। একটি পরীক্ষায় ৩২ জন পুরুষ ও নারী (২০-২৬ বয়সি) একটি ঘরে শান্তভাবে বসেছিলেন, আবার কেউ কেউ ‘দ্য টেক্সাস চেইনস ম্যাসাকার’ চলচ্চিত্রটি দেখেন। যারা ওই চলচ্চিত্র দেখেছেন তাদের শ্বেত রক্তকণিকা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে।

২. ক্যালরি কমায়: লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার বিশ্ববিদ্যালয় অ্যামাজন ডটকমের লভইফিলমের সঙ্গে মিলে গবেষণা করে দেখায়, ‘দ্য শাইনিং’ দেখে ১৮৪ ক্যালরি, ‘জওস’ দেখে ১৬১ ক্যালরি, ‘দ্য এক্সোরিস্ট’ দেখে ১৫৮ ক্যালরি ও ‘এলিয়েন’ দেখে ১৫২ ক্যালরি পোড়ায়।

প্রশিক্ষণের একটি ফর্ম: হরর মুভিগুলো এক ধরনের অনুশীলনমূলক ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আমাদের চালিত করে। হরর গবেষক মাটিয়াস ক্লাসেন বলেন, এটি আচরণগত আবেগগুলোর বিকাশ করে, যা ঝুঁকিগুলো নিয়ে দ্রুত ও যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়ার জানান দেয়। উদাহরণস্বরূপ ‘দ্য শাইনিং’ দেখুন এবং আপনি আপনার দূরবর্তী হোটেলটিতে ভ্রমণের জন্য আরো ভালোভাবে প্রস্তুত হবেন।

দ্রুত শনাক্ত: যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার গবেষকরা আটটি বিভ্রান্তিমূলক চিত্রের মধ্যে প্রাকবিদ্যালয় ও প্রাপ্তবয়স্কদের একটিমাত্র চিত্র খুঁজে নিতে বলেছিলেন। শিশু ও বয়স্ক উভয়ই ফুল, ব্যাঙ বা শুঁয়োপোকার চেয়ে সাপকে অনেক বেশি দ্রুত শনাক্ত করেন।

ভয়: ভয় ও মনোভাব পরিবর্তনের অনুভুতিগুলো আমাদের রক্ষার জন্য। মাকড়সা, সাপ, উচ্চতা, বদ্ধস্থান নিয়ে আমরা ভয় পেলেও সত্যিকার অর্থে যা আমাদের হত্যা করতে পারে, তার সঙ্গে এগুলোর খুব কম মিল।

ভয়ের গন্ধ: কোনো হরর ফিল্ম দেখার পর কী অন্যরকম গন্ধ পাওয়া যায়। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় একদল সিনেমাপ্রেমীকে একটি ভয়ের ছবি (ক্যান্ডিম্যান) ও একটি সাধারণ চলচ্চিত্র দেখানো হয়েছিল। যারা ভয়ের সিনেমা দেখেছিলেন তারা তাদের বগল থেকে ভয়ের ঘ্রাণ পান।

পানিতে যাবেন না: হরর ফিল্মগুলো দেখার পর তা একটি স্থায়ী ও নেতিবাচক ছাপ রেখে যেতে পারে। ফলে এসব সিনেমা দেখে সাঁতার কাটতে যাওয়া ঠিক নয়।

হরর ভিডিও গেমস: হরর ভিডিও গেমগুলোর প্রভাব খুব বেশি আর এই ধরনটি বেশ নতুন। গবেষণায় দেখা যায়, ভিডিও গেমিংয়ের অভিজ্ঞতার তীব্রতা ঘুমকে ব্যাহত করে। -ডয়চে ভেলে


মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh