ফনেটিক ইউনিজয়
রাশি যা-ই হোক, লগ্ন শুভ
সোহেল হাসান গালিব

লঞ্চের রেলিং ধরে দাঁড়ালেই আমার কেন যে
হঠাৎ পানিতে পড়ে যেতে ইচ্ছে করে, তাই ভাবি।
শাদা চিল-পাখিদের মনে জাফরানি প্ররোচনা
যেন এই নদী; ঢেউয়ে তার নকশিপাড় বুনে চলে
সূর্যাস্তলিখন। যেতে যেতে কেন তবু আমাকেই
বাতাসে লুকানো সুতো বেঁধে টানে? থেকে থেকে মেঘ
ছড়ায় ইশারা : ‘নদী পেরোলেই হিজলের বন।
ওইদিকে যাও। ওইখানে কালো নেকড়ের বাস।’

নেকড়ে না নির্জনতা-কাকে চাই আমি? স্মৃতিকেই
হাঁক দেই : তুই বেলগাছটির সাথে একবার
গিয়ে কথা বল, ঘ্রাণোদ্বেল আশঙ্কার নিচে বসে।
গাছেদের কোনো কাজ নেই, তার পাতার আশ্রয়ে
ফিরে আসা পাখিদের গোষ্ঠীবিচার বিনা। আজ
আমিও নিজের কোষ্ঠী জেনে নেব জলে ডুব দিয়ে।
বুঝে নেব রাশিচক্র ওই তারাম-লীর কাছে।

‘রাশি যা-ই হোক, লগ্ন শুভ’ বলে গেল মাঝরাতে
বশিষ্ঠ, অঙ্গিরা : ‘এইবার এই নদীতে লাফ দে,
ঝাঁপ দে এক্ষুনি। ওরে, জলে ডুবে তুই মরবি না।’

Disconnect