ফনেটিক ইউনিজয়
আমার জীবন
বদরুদ্দীন উমর

বদরুদ্দীন উমর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ। খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দেন। তাঁর জীবনস্মৃতির বর্তমান অংশে উঠে এসেছে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ

আমরা টিকাটুলির কে এম দাস লেনের বাসা থেকে মিরপুরের রূপনগরে এসেছিলাম ১৯৯৪ সালের আগষ্ট মাসের শেষ অথবা সেপ্টেম্বর মাসের একবারে প্রথম দিকে। তার আগে ১৯৯৪ সালে ৬ই মার্চ আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছিল। রূপনগরে এসে প্রথমে আমরা থাকতাম এক ভাড়া বাড়ীতে। সুরাইয়া তখন ব্যাংকের চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছিলেন। রূপনগরে তিনি সরকারের গৃহ সংস্থান সংস্থার কাছে বাড়ী তৈরীর জন্য আড়াই কাঠার একটা জায়গা পেয়েছিলেন ২০ নম্বর রোডে। সেখানে বাড়ী তৈরীর কাজ দেখাশুনার জন্যই রূপনগরে আমার থাকার দরকার হয়েছিল। ভাড়া বাড়ীটি ছিল সে জায়গার খুব কাছে ২০ নম্বর রোডে, তাঁর জায়গার সামনের দিকে ২০ নম্বর রোডের অপর দিকে।
রূপনগরে এই ভাড়া বাড়ীতে থাকার সময়ই জন্ম হয়েছিল আমার ছেলে সোহেল আবদুল্লার প্রথম সন্তান ইনশার। সোহেলের ঢাকায় বদলী হওয়ার কথা হলেও সোহেল খুলনাতেই ছিল, তবে দীনা আগেই ঢাকা চলে এসেছিলো আমাদের বাসায়। সন্তান জন্মের তারিখ মোটামুটি জানা থাকায় তাকে সময়মত ভর্তি করা হলো হলি ফ্যামেলি হাসপাতালে। সোহেল ঢাকায় এসেছিলো তার আগেই। সেখানেই ১৯৯৪ সালের ২৮ নভেম্বর জন্ম হলো ইনশার। সোহেলের প্রথম সন্তান কন্যা হওয়াতে আমি খুশি হলাম। পুতনীকে দেখতে গেলাম হাসপাতালে। পশ্চিমবঙ্গে মেয়ের সন্তানকে বলা হয় নাতি, নাতনি  (দৌহিত্র, দৌহিত্রী) এবং ছেলের সন্তানকে বলা হয় পোতা, পুতনী (পৌত্র, পৌত্রী)। পূর্ব বঙ্গে ছেলে মেয়ে উভয়ের সন্তানকে বলা হয় নাতি নাতনী। ছেলের ঘরে নাতি-নাতনী ও মেয়ের ঘরে নাতি নাতনী। দুইয়ের জন্য বাংলা ভাষায় পৃথক শব্দ থাকলেও কেন পূর্ব বঙ্গে এ রীতি প্রচলিত হয়েছিল জানি না।
আমার পাঁচ নাতি নাতনী, পোতা-পুতনী। ১৯৮৬ সালে জন্ম হয়েছিল আমার বড় মেয়ে ফালুদার প্রথম মেয়ে নায়লার পরে ১৯৮৯ সালে জন্ম হয়েছিল তার ছেলে মায়েলের। সোহেলের মেয়ে ইনশার জন্মের পর ফালুদার দ্বিতীয় কন্যা সন্তান নাজলার জন্ম হলো, ১৯৯৬ সালে ১৮ই জানুয়ারী ঢাকার ধানমন্ডির এক ক্লিনিকে। সেই একই ক্লিনিকে পরে সোহেলের ছেলে জেহীনের জন্ম হয়েছিল ঐ একই ক্লিনিকে ১৯৯৬ সালে ডিসেম্বরের ৪ তারিখে।
১৯৯৫ সালের আগষ্ট মাসে ঢাকায় এসেছিলেন জার্মান কমিউনিস্ট পার্টি MLDP নেতা ষ্টিফান এঙ্গেল। তাঁর সাথে কয়েক বৎসর আগে আমার প্রথম দেখা ও পরিচয় হয়েছিল ঢাকায়। রনো মেননদের ওয়ার্কার্স পার্টির আমন্ত্রণে তিনি তখন ঢাকায় এসেছিলেন। এর পর তাঁর সাথে দেখা হয়েছিল হায়দারাবাদে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিআই (এমএন-জনশক্তি) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক মার্কসবাদী সম্মেলনে ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে। তার কথা আগেই বলেছি।
রনো মেননদের ওয়ার্কার্স পার্টি নিজেকে কমিউনিস্ট পার্টি বললেও তার সাথে মার্কসবাদ বা সমাজতন্ত্রের কোনই সম্পর্ক ছিল না। তারা বরাবরই ছিল সুবিধাবাদী। এর মধ্যে মেনন নানা ধরনের ধান্ধাবাজী করে নিজের আখের গোছাতো। কিন্তু রনোর এ ধরনের কোন প্রবণতা ছিল না, যদিও সুবিধাবাদ চর্চার ক্ষেত্রে তিনি নিজের মতো করে কাজ করতেন। মেনন তাকে দিয়ে নানা ধরনের মার্কসবাদী তত্ত্ব চর্চা করাতো এবং তাকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরীর কাজে নিয়োজিত রাখতো। সে কারণে রনো মাঝে মাঝে দেশের বাইরে মার্কসবাদী বিভিন্ন ধরনের সেমিনারে যোগদান করতেন। এভাবেই জার্মান MLDP পার্টি এবং ষ্টেফান এঙ্গেলের সাথে তাদের যোগাযোগ হয়েছিল। এছাড়া তারা ভারতের সিপিএম এর সাথে খুব ঘনিষ্ট যোগাযোগ রাখতেন যার শুরু হয়েছিল কলকাতায় ১৯৭১ সালে। রনোকে তত্ত্ব চর্চার কাজে লাগিয়ে ও বিদেশী পার্টির সাথে যোগাযোগ করে মেনন নিজেদের দলের একটা লোক দেখানো ‘কমিউনিস্ট’ ভাবমূর্তি তৈরীর চেষ্টা করতো। পরে রনো ও মেননের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর মেননের সাথে তার কমিউনিস্ট মুখোস ছিড়ে ফেলে সরাসরি একজন প্রতিক্রিয়াশীল ও সম্ভবতঃ কমিউনিস্ট বিরোধী লোক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করা ছাড়া আর উপায় ছিল না। তারই ধারাবাহিকতায় মেনন এখন আওয়ামী লীগ জোটের মন্ত্রী হিসেবে তাদের ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন মন্ত্রী। এটা রাতারাতি হয়নি। মেনন রনোরা ১৯৬৯ সাল থেকেই যে রাজনীতি করে এসেছে তার পরিণতি এ ছাড়া অন্য কিছু হওয়ার কথা নয়। মেননের সাথে ছাড়াছাড়ির পর রনো ভেকধারী কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবিতে যোগদান করে তার কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে ‘সমাজতন্ত্রের’ পতাকা নাড়ছেন।  
রনো আমাকে বলেছিলেন যে, ফ্রেডরিক এঙ্গেলস এর একশোতম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তারা এক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং সেই অনুষ্ঠানেই তারা স্টিফান এঙ্গেলকে আমন্ত্রণ করেছিলেন। এঙ্গেলস এর মৃত্যু হয়েছিল ১৮৯৫ সালের ৬ই আগস্ট। সে সময়  স্টিফান এঙ্গেল ঢাকায় এসে আমাদের সাথে দেখা করার জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। এর আগে তিনি একা এসেছিলেন। এবার তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রীও ছিলেন।
আমার বাসায় অসুবিধা থাকায় আমি আনু মুহম্মদের সাথে কথা বললাম তার বাসায় তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং আলোচনার। ব্যবস্থা হলো, সন্ধ্যায় তাঁরা আনুর বাড়িতে আসবেন এবং আলাপ আলোচনার পর সেখানেই ডিনার খাবেন। রনোরা তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিল ফার্মগেটের কাছে ‘কালিন্দী’ নামে এক বাড়িতে। হাসিবুর রহমান তাঁদেরকে সেখান থেকে আনুর বাড়িতে নিয়ে এলেন।
সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম আমি, আনু ও হাসিব এবং স্টিফান এঙ্গেল ও তাঁর স্ত্রী। ঘন্টা দুই এর মত আমরা কথাবার্তা বললাম। সব কথাই হলো জার্মানী এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন সম্পর্কে। MLDP পার্টি ইউরোপের এবং মাওবাদী পার্টি। স্টিফান এঙ্গেল বাংলাদেশের সম্পর্কে কোন কিছু জানতে চাইলেন না, আমরাও সে বিষয়ে নিজ থেকে তাঁকে কিছু না বলে আন্তর্জাতিক বিষয়েই আলাপ আলোচনা করলাম। এঙ্গেল যে বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুই জানতে চাইলেন না এতে আমি বেশ বিস্মিত হলাম। এজন্য ডিনার এর পর যখন তাঁদের যাওয়ার সময় হলো তখন আমি তাঁকে বললাম, এতক্ষণ আমরা কথা বললাম কিন্তু আপনি তো বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুই জানতে চাইলেন না। তিনি চুপ করে থাকলেন।
১৯৯৫ সালে প্রথম দিকেই আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তাঁর ডান হাটুর উপর দিকে ব্যথা অনুভব করতে থাকেন। কোনো চিকিৎসাতেই কাজ হচ্ছিলো না। সে সময় তাঁর মা থাকতেন তাঁর বাসাতেই। কে এম দাস লেনের সেই বাসাতেই মৃত্যু হয় ১৯৯৬ সালের প্রথম দিকে। তখন তাঁর ব্যথা বেশ বেড়েছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা বললেন তাঁর ক্যান্সার হয়েছে। স্থির হলো, এর পর ঢাকায় কোন চিকিৎসা না করে কলকাতা যাওয়ার। জানুয়ারী মাসেই ইলিয়াস কলকাতা গেলেন। তার আগে তিনি আমাকে বললেন কলকাতায় কোথায় থাকবেন ঠিক নেই, আমি এই ব্যাপারে কিছু করতে পারি কিনা। আমি তাঁকে বললাম সেটা সম্ভব। কলকাতায় আমার ফুফাতো ভাই মনসুর হবিবুল্লাহর পার্ক সার্কাসের বাড়ীর কাছেই তাঁর একটা গেস্ট হাউজ ছিল। সেখানে থাকার একটা ব্যবস্থা ছিল। আমি ইলিয়াসকে বললাম, আমি মনসুর ভাইকে চিঠি দিয়ে দেবো সেখানে তাঁর থাকার ব্যবস্থার জন্য। সে অনুযায়ী ইলিয়াস ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া কলকাতায় গিয়ে মনসুর ভাইয়ের সাথে দেখা করে আমার চিঠি তাঁকে দিলেন। মনসুর ভাই তাঁর গেস্ট হাউজে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করলেন। ইলিয়াসের সাথে আগেই ঢাকায় আমি আমার এক ভাইপো নাজেস আফরোজের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম এবং তাঁদের মধ্যে একটা ভাল সম্পর্ক হয়েছিল। আমি ইলিয়াসকে বললাম, কলকাতায় গিয়ে নাফেজের সাথেও যোগাযোগ করতে।
মনসুর ভাইয়ের গেস্ট হাউজে থাকার ব্যবস্থা হলেও সেখানে নিয়মিত রান্না ইত্যাদির ব্যবস্থা ছিল না। তাছাড়া গেষ্ট হাউজের নিয়মিত দেখাশুনার তেমন ভাল লোক ছিল না। কাজেই সেখানে অসুস্থ অবস্থায় ইলিয়াসের থাকার অসুবিধা হচ্ছিল। তখন নাজেস তাঁদেরকে নিয়ে গেল তার খালা বেলার বাসায়। বেলা ছিল সম্পর্কে আমার এক ফুফাত ভাই আবদুর রহমান সাহেবের (আবাদী ভাইয়ের) স্ত্রী আমেনার ছোট বোন। তার স্বামী ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের এ্যাডভোকেট। তাঁর নিয়মিত পড়াশুনার অভ্যাস ছিল এবং বাসায় বেশ বড় একটা ব্যক্তিগত লাইব্রেরী ছিল। খুব সজ্জন মানুষ ছিলেন তিনি। নাজেস ইলিয়াসকে তাঁদের বাসায় নিয়ে যাবার পর বেলা ও তার স্বামী দুজনেই খুব যতেœর সাথে তাঁদের দেখাশুনা করতেন। তাঁদের বাসাটাও বেশ বড় ছিল।
কলকাতার চিকিৎসকরা ইলিয়াসকে পরীক্ষা করে একই কথা বললেন, ঢাকার চিকিৎসরা যা বলেছিলেন। তাঁর ক্যান্সার হয়েছে এবং খুবই খারাপ টাইপের ক্যান্সার। চিকিৎসা চলতে থাকলো। প্রায় দেড় দুই মাস চিকিৎসার পর কোন উন্নতি না হওয়ায় এবং অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় তাঁরা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলেন ইলিয়াসের ডান পা হাটুর উপর থেকে কেটে ফেলার। ইলিয়াসের সাথে তাঁর চিকিৎসকের সম্পর্ক দাঁড়িয়েছিল ঘনিষ্ট আত্মীয় বা বন্ধুর মতো। এই সিদ্ধান্ত বাধ্য হয়ে নিতে হওয়ায় তারা খুবই মর্মাহত হয়েছিলেন। যাই হোক, তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইলিয়াসের ডান পা কেটে ফেলা হলো। সে সময়ে তার একমাত্র সন্তান পার্থও কলকাতায় ছিল। ইলিয়াসের মনের জোর দেখে চিকিৎসকরাও বিস্মিত হয়েছিলেন। পা কাটার পর ইলিয়াস মাস খানেকের মত বেলার বাসায় ছিলেন। তারা তাঁর যথাসাধ্য যত্ন করেছিল এবং ইলিয়াস ও তাঁর স্ত্রীর সাথে তাদের সম্পর্ক দাঁড়িয়েছিল খুবই আপন জনের মতো।
অপারেশনের পর ইলিয়াস ঢাকায় এসে কিছু দিনের মধ্যে ঢাকা কলেজে তাঁর ক্লাস নিতে চাইলেন। তখন তাঁকে ক্রাচ নিয়ে হাটতে হতো। কিন্তু নিজের পেশা ও ছাত্রদের প্রতি তাঁর এমননই ভালবাসা ও দায়িত্ববোধ ছিল যে কঠিন অসুবিধা সত্ত্বেও তিনি ঐ অবস্থাতেও ঢাকা কলেজে যেতেন। তখনো তিনি থাকতেন টিকাটুলির কে এস দাস লেনের বাসায়। সেখানে থেকে ঢাকা কলেজে যাওয়া আসার অসুবিধা হওয়ায় তিনি ১৯৯৬ সালের মাঝামাঝি আজিমপুরে এক সরকারি ফ্ল্যাটে উঠে গেলেন। ইলিয়াস অসুস্থ থাকার সময়ে আমরা মিরপুরের রূপনগরে ছিলাম। কিন্তু কয়েক দিন পর পরই আমি টিকাটুলি এবং আজিম পুরের বাসায় তাঁকে দেখতে যেতাম। গল্প-স্বল্প করতাম। তাঁকে দেখে মনে হতো না, তাঁর শারীরিক অবস্থা কতো গুরুতর।
কিছু দিনের মধ্যেই ইলিয়াসের অবস্থা অবনতি হতে শুরু করলো। তাঁর ঢাকা কলেজ যাওয়া বন্ধ হলো। ডিসেম্বারের দিকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার বড় রকম অবনতি হলো। এ অবনতি ঠেকানো কোন চিকিৎসকের দ্বারা সম্ভব ছিল না। তবু তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো ঢাকার কমিউনিটি হাসপাতালে। সেখানে তিনি অল্প দিনই ছিলেন। তবুও তার মধ্যেই একাধিকবার গিয়েছিলাম। সে অবস্থাতেও  তিনি বেশ স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলতেন, যদিও শরীরে যন্ত্রণা থাকতো। ৩রা জানুয়ারী আমাদের একটা পূর্ব নির্ধারিত জরুরী সাংগঠনিক বৈঠক ছিল সেজন্য আমি যেতে পারিনি। বাড়ীর বাইরে ছিলাম। তখন তো মোবাইল ফোন ছিল না। কাজেই খবর পাইনি যে, ঐদিন ইলিয়াসের অবস্থা মারাত্মক অবনতি হয়েছে। আনু মুহম্মদ প্রায় সারাদিনই সেখানে ছিল, হয়তো রাতেও। ৪ঠা জানুয়ারী বেশ সকালের দিকেই জোনায়েদ সাকি কমিউনিটি হাসপাতাল থেকে আমাকে ফোন করে বললো যে, তার একটু আগেই আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মৃত্যু হয়েছে। এটা ছিল এক মর্মান্তিক সংবাদ, মাথা ঘুরে যাওয়ার মত। অপ্রতাশিত না হলেও এটা ছিল এক বড় রকমের ধাক্কা।
খবর পাওয়ার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটি হাসপাতালে যাইনি। লালা ইলিয়াসের আজিমপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে গেলাম। এখনকার মতো তখন এ ধরনের মানুষের লাশ শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়ার রেওয়াজ চালু হয়নি। লালা আজিমপুরের বাসাতেই থাকলো। স্বাভাবিকভাবে অনেক লোক সেখানে এলেন। ইলিয়াসের লাশ বগুড়ায় নিয়ে গিয়ে সেখানকার কবরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় বিকালের দিকে আজিমপুরের বাসা থেকে লাশ নিয়ে কয়েকটা গাড়ী রওয়ানা হলো। সে পর্যন্ত আমি আজিমপুরে থাকলাম।

আরো খবর

Disconnect