ফনেটিক ইউনিজয়
টাইগারদের ব্যর্থতার কারণ খুঁজছে সবাই
মনিরুল ইসলাম

নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। বিপিএলের পরপর একদল ক্রিকেটার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নয় দিন অনুশীলন করালেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, যার খরচ প্রায় কোটি টাকা। প্রশ্ন ওঠে, দল খেলবে নিউজিল্যান্ডে, প্রস্তুতি ক্যাম্প অস্ট্রেলিয়ায় কেন? আর সেই প্রস্তুতিতে ২২ জন ক্রিকেটার কেন? অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে তেমন একটা মিল নেই। তারপরও  ওখানে কেন ইত্যাদি।
ছোটখাটো এমন কিছু ঘটনা, হয়তো ক্রিকেটারের বহর দলের মধ্যে অস্বস্তির বাষ্পই ছড়িয়েছে। তাই বড় গরমিলেই পড়ে হাথুরুসিংহের দল। না হলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গিয়ে সিরিজ না জিতুকÑআপাতত হোয়াইটওয়াশ হবে না, এমন একটা আশা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। অথচ ব্ল্যাকক্যাপদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পর এ দেশের মিডিয়ায় বাংলাওয়াশ শব্দের ছড়াছড়ি ছিল লক্ষণীয়। আর সিরিজের  শেষ ম্যাচেও তারই বদলা নিল তারা ব্ল্যাকওয়াশে। তিন ম্যাচের  কোনোটিতে লড়াই পর্যন্ত করতে পারেননি তামিম-সাকিব বা সাব্বির-মাহমুদউল্লাহ। একসময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বলতেই ছিল ‘অসহায় আত্মসমর্পণ’। দীর্ঘদিন পর সেটা আবার ফিরে এল। প্রথম দুই ম্যাচ তারা হারে যথাক্রমে ৭৭ ও ৬৭ রানে। আর নেলসনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হেরেছে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। জয় নিশ্চিত করার পর নিউজিল্যান্ডের হাতে বাকি ছিল ৫২ বল। অথচ এই নিউজিল্যান্ডকে নিজেদের মাটিতে নাস্তানাবুদ করে বাংলাদেশ। ২০১০ সালে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে কিউইদের ৪-০ ব্যবধানে হারায় টাইগাররা। এরপর ২০১৩ সালে বাংলাদেশের মাটি থেকে নিউজিল্যান্ড ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফেরে। ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে বাংলাদেশের জয়েরধারা শুরু হয়। নিজেদের মাটিতে জিম্বাবুয়েকে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। এরপর পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজ হারায় তারা। এই টানা ৬ সিরিজ জয়ের ছেদ ঘটায় ইংল্যান্ড। অক্টোবরে নিজেদের মাটিতে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে বাংলাদেশ। আর এবার ২০১৬ সাল শেষ হলো হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দিয়ে। তবে এ ব্যর্থতার কারণ বাজে ক্রিকেট। একটু ব্যাখ্যায় বলা যায়, খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্যরে প্রতি অবিচার করা এবং কারও কারও খেয়ালি মনোভাব। বিশেষ করে দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নিয়ে খেলার মানসিকতার অভাব প্রকটভাবে ধরা পড়েছে সিরিজে।
দলের অধিনায়ক মাশরাফিও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এ কথাই বলতে চেয়েছেন। টানা দুটি ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে মাশরাফি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে সমস্যাটা মানসিক। স্কিল কিংবা সামর্থ্য নিয়ে সংশয় নেই। এই ব্যাটসম্যানরাই এর চেয়ে কঠিন সময়ে পারফর্ম করেছে। কিন্তু এখানে পর পর দুটি ম্যাচে পারেনি। মাইন্ডসেটে সমস্যা ছিল বলেই মনে হয় আমরা পারিনি।’ একই সঙ্গে খানিকটা আক্ষেপ করে অধিনায়ককে বলতে শোনা যায়, ‘কেউ চোট পেলেই উপযুক্ত রিপ্লেসমেন্ট পাওয়া যায় না।’ তাই সব মিলেয়ে এখন বলা যায়, চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সাম্রাজ্যে এখন হাহাকারই চলছে। তবে এখন দেখার বিষয়, সিরিজের অন্য টি-টোয়েন্টিগুলোতে কেমন করেন টাইগাররা।

Disconnect