ফনেটিক ইউনিজয়
শাম্‌স-উল-হুদা একাডেমীর ৯ কৃতী ফুটবলারকে সংবর্ধনা
ফুটবল নিয়ে যশোরে আনন্দ ও আশাবাদ
দেবু মল্লিক, যশোর

জাতীয় দলের হয়ে বিদেশ জয় করে আসা ৯ ফুটবলারকে সংবর্ধনা দিয়েছে যশোর শাম্‌স-উল-হুদা ফুটবল একাডেমী। বছরের প্রথম দিনে যশোর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের জাহানারা হুদা মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়।
সংবর্ধিতদের মধ্যে মান্নাফ রাব্বি বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ-২৩ দলের খেলোয়াড়। তিনি বলেন, ‘শাম্‌স-উল-হুদা একাডেমী আমাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। বাংলাদেশ ফুটবলকে আমরা ভালো জায়গায় নিয়ে যাবই।’ রাজা শেখ ২০১৩ সালে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৪ দলের সদস্য হিসেবে মালয়েশিয়ার মধ্যমাঠ দাপিয়ে আসে। একই বছর নেপাল সফরে বাংলাদেশ অনূর্র্ধ্ব-১৬ দলের রক্ষণদুর্গ ভালোভাবেই সামাল দেয় জাহাঙ্গীর আলম সজীব। আর গোলপোস্টে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় সাইদুর রহমান সাইদ। আর যোগ্যতার বলে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাটেড ক্লাবে ১০ দিনের ট্রেনিংয়ের অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় রক্ষণভাগের খেলোয়াড় অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হাফিজুর রহমান।
এ ছাড়া সংবর্ধনা দেওয়া হয়, গত ডিসেম্বরে মালয়েশিয়া মক কাপে প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল দলের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা আরিফ হোসেন লাল, মেহেদী হাসান ফাহাদ, মিরাজ মোল্লা, মিনহাজুল করিম স্বাধীনকে।
একাডেমীর প্রেসিডেন্ট মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন একাডেমীর সদস্য ও যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান, যশোর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুলতান আহম্মেদ, শাম্‌স-উল-হুদা স্মৃতি সংসদের সভাপতি আলী আকবর প্রমুখ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘একসময় দেশের যেখানে-সেখানে খোলা মাঠে, রাস্তার ওপর ছেলের দল ফুটবল নিয়ে নেমে পড়ত। কিন্তু আজ সময় বদলেছে। ক্রিকেটে মাত্রাতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের কারণে সেখানে পৃষ্ঠপোষকতা বেশি। কিন্তু ফুটবলে তা একেবারেই নেই। এখানে যাঁরা বিনিয়োগ করছেন, তাঁরা ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই করছেন। আমরা আশা করি, শাম্‌স-উল-হুদা ফুটবল একাডেমী যে ভালোবাসা থেকে জন্ম নিয়েছে, তার সেই লক্ষ্য একদিন বাস্তবায়িত হবে।’
নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ‘খেলাধুলা সমাজকে পরিশুদ্ধ করে। এর ব্যাপক সামাজিক প্রভাব রয়েছে। দিন দিন নতুন প্রজন্ম মাদকাসক্তির মতো ভয়াবহ ব্যাধির দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। তাদের সামনে কোনো আশা নেই। এ জন্য আমাদের খেলাধুলার চর্চাটা বাড়াতে হবে। শাম্‌স-উল-হুদা ফুটবল একাডেমী প্রতিষ্ঠার প্রথম থেকে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। ইতিমধ্যে তার অনেক কিছু আমরা উত্তরণ ঘটিয়েছি। ভবিষ্যতে এই একাডেমী শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশের অন্যতম একাডেমী হবে। এ জন্য আমাদের যা যা করা দরকার, সবই করব।’

Disconnect