ফনেটিক ইউনিজয়
চলে গেল ‘লিটল সুপার হিরো’
মনিরুল ইসলাম

বর্তমানে সমগ্র ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে গেল একটি নাম, ব্রাডলি লরি। মাত্র ৬ বছর বয়সে যে বর্তমানের ফুটবল দুনিয়ায় পরিচিত ‘লিটল সুপার হিরো’ হিসেবে। ফুটবলপ্রেমী এ শিশুটি ইংল্যান্ডের জাতীয় দল ও ক্লাব দল সান্ডারল্যান্ডের দারুণ ভক্ত। তার প্রিয় তারকাদের মধ্যে অন্যতম স্ট্রাইকার জার্মেইন ডিফো। সান্ডারল্যান্ডের শুধু ভক্ত বললে ভুল হবে। সান্ডারল্যান্ডের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে মাঠে নেমে গোলও করেছিল সে। আর সেই গোলের আনন্দে ভেসে গিয়েছিলো পুরো ষ্টেডিয়াম। কিন্তু সেই আনন্দকে ফিকে করে চলে গেল লরি অজানার উদ্দেশ্যে। মাত্র ছয় বছরের একটি ছেলের জন্য বিশ্বের ফুটবল অঙ্গনে এখন শোকের ছায়া। গত ৭ জুলাই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে হার মেনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ‘সুপার হিরো’ লরি।
তাকে হারিয়ে বলের মাঠ যেন কালো চাদরে ঢাকা পড়েছে। পড়বে নাই বা কেন, ক্যান্সার নিয়েও যে লরি ছুটে যেত মাঠে। মাত্র ১৮ মাস বয়সে শরীরে প্রাণঘাতি ক্যানসার বাসা বাঁধার পর ফুটবল দুনিয়ার গভীর সখ্য গড়ে উঠেছিল লরির সঙ্গে। প্রিয় ক্লাব সান্ডারল্যান্ডের জার্সি গায়ে লরি একাধিক ম্যাচও খেলেছে সেটা অবশ্য তারই উদ্দেশ্যে আয়োজিত প্রন্দশনী ফুটবল ম্যাচে। গত বছর চেলসির বিপক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচের আগে গা-গরমের সময় পেনাল্টি থেকে একটা গোলও করেছিল লরি পরে ওই গোলটি ‘মাসের সেরা গোলের’ মর্যাদা পায়। এভারটনের সঙ্গে প্রদর্শনী ম্যাচেও মাঠে নামে লরি। সেসব আয়োজনই ছিল নিষ্পাপ লরির জন্য নির্মল আনন্দের উপলক্ষ্য। কিন্তু মাঠে হাসলেও তার সেই হাসি কাঁদিয়েছে পুরো গ্যালারি। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়েরাই তাকে আদর করে কোলে নিয়েছে, চুমু দিয়েছে। তবে লরির সবচেয়ে বেশি সংখ্যতা ছিল ডিফোর সঙ্গেই। ডিফো যে তার স্বপ্নের নায়ক। ডিফোও প্রিয় ভক্তকে ভালোবাসতেন খুব। সময় সুযোগ পেলেই দেখতে যেতেন লরিকে।
তার শরীরের দুরারোগ্য ‘নিউরোব্লাস্টোমা’ বাসা বাঁধার পর এই রোগ সারানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলেন খোদ ফুটবলাররা। তবে অনেক চেষ্টার পর ফুটবলপ্রেমীদের ভালোবাসার বন্ধন ছিঁড়ে সে চলে গেছে না ফেরার দেশে। এরপরই গোটা ফুটবল বিশ্ব লরি বন্দনায় মেতে উঠে। জীবন বন্দনার জয়গান গাওয়া ও অনুপ্রেরণাদায়ী লরির জন্য অনেকের চোখেই আজ জল।

Disconnect