ফনেটিক ইউনিজয়
ব্যাডমিন্টনে আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত
কর্মকর্তার অবহেলায় আয়োজক হতে পারল না ঢাকা
তারিক আল বান্না

শীতকাল এলেই বাংলাদেশে ব্যাডমিন্টন চর্চা শুরু করে সারাদেশের লাখ লাখ অপেশাদার খেলোয়াড়। অথচ তাদের মধ্য থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপই নিতে দেখা যায় না বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনকে। খেলা নিয়ে বরাবরই উদাসীন থেকেছে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন। এ কারণে বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনে একেবারে তলানিতে।
এবার আরো একটি অভিযোগ উঠেছে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে। কয়েক বছর ধরেই ঢাকায় নিয়মিত হয়ে আসছে ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ওপেন ব্যাডমিন্টন চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্ট। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যক্তিগত র‌্যাঙ্কিং বাড়িয়ে নেওয়ার একমাত্র সুযোগ এই টুর্নামেন্ট। তবে এনায়েত, এলিনা, শাপলাদের সেই সুযোগ আর থাকছে না। আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় হওয়ার কথা থাকলেও ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের অবহেলায় এবার ঢাকায় হচ্ছে না। নিয়ম অনুসারে টুর্নামেন্ট শুরুর নয় মাস আগে আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনের নিয়ন্ত্রক এ ফেডারেশন স্বাগতিক হতে ইচ্ছুক দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠায়। এবারও সেটি বাংলাদেশে এসেছিল। কিন্তু ওই ই-মেইল খুলেই দেখেননি ফেডারেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজিজ জিলানী। বাংলাদেশের সাড়া-শব্দ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভেন্যুটি সরিয়ে নেয় ব্যাডমিন্টনের সর্বোচ্চ অভিভাবক সংস্থা।  
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বলেন, ‘একজনের দায়িত্বহীনতার কারণে আমাদের বিব্রত হতে হচ্ছে। তবে ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশা করি, মার্চ-এপ্রিলে আবার ঢাকায় এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে পারব।’ টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষণা বাবদ প্রতিবছর ফেডারেশনকে ১৫ হাজার ইউএস ডলার (প্রায় ১২ লাখ ১৮ হাজার টাকা) ও অন্যান্য ক্রীড়া সরঞ্জাম দিত ইউনেক্স। এবার স্বাভাবিকভাবেই এসব পাওয়া যাবে না। সব মিলিয়ে খেলোয়াররাও বেশ হতাশ। আর সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ মহিলা এককে পাঁচবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন শাপলা আক্তার বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা হতাশ। এখানে খেলে নিজেদের র‌্যাঙ্কিং বাড়িয়ে নিতে পারতাম। সামার টুর্নামেন্ট খেলেছি গত বছর অক্টোবরে। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্ট নেই। এভাবে চলতে থাকলে খেলাটাই হয়তো ছেড়ে দিতে হবে।’
এসব কারণে বিশ্ব ব্যাডমিন্টনের দলীয় র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ৭০ নম্বরে। যেখানে পার্শ্ববর্তী ভারত রয়েছে ৯ নম্বরে। শ্রীলঙ্কা ৩৭ নম্বরে, নেপাল ৪৮ নম্বরে, মালদ্বীপ ৪৯ নম্বরে এবং পাকিস্তান রয়েছে ৬৩ নম্বরে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থানকে লজ্জাজনকই বলা যায়।  
এদিকে, ফেডারেশনকে শুধু নির্বাচনের সময় সিরিয়াস থাকতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই বলা হয়, ফেডারেশনের প্রধান উদ্দেশ্য, নির্বাচন, খেলাটির উন্নতি নয়। এ বিষয়টি ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখতে হবে। তা না হলে এর ছোঁয়া অন্যান্য ফেডারশেনেও গিয়ে পড়বে। ক্ষতি হবে বাংলাদেশের ক্রীড়ার।

Disconnect