ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
‘নির্বাচন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত মানব না’

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা হকি। ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার পর তা স্থগিত করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এমন সিদ্ধান্তে ‘হতবাক’ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবদুর রশিদ শিকদার। নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থানের কথা সাম্প্রতিক দেশকাল-কে জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

কী কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
যতদূর জানি, বন্যার কথা বলে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বন্যা জাতীয় সমস্যা। এ প্রসঙ্গে কিছু বলার নেই। তবে ঢাকার বাইরের কোনো কাউন্সিলর আমাকে বলেননি যে বন্যার কারণে নির্বাচনে তাঁরা আসতে পারবেন না। তাহলে এমন সিদ্বান্ত নেওয়ার আগে কি প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন ছিল না? জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কোনো মতামত নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। তা না হলে হয়তো এভাবে স্থগিতের সিদ্বান্ত আসত না।

কখন শুনলেন যে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে? শুনেছি, আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী খাজা রহমতউল্লাহ কাউন্সিলরদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন-
হঠাৎ শুনলাম নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। মাত্র ১০ দিন বাকি থাকতে নির্বাচন স্থগিত করায় আমি হতবাক। আমার দাবি থাকবে, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হোক। ওই দিন দুপুরে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী খাজা রহমতউল্লাহ তাঁর প্যানেল চূড়ান্ত করার জন্য বসেছিলেন। তবে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দেওয়ার মতো প্রার্থী পাননি তিনি। তাঁর পক্ষে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দেওয়া সম্ভবও নয়। হয়তো এসব কারণে নির্বাচন স্থগিত হতে পারে বলে আমার কাছে মনে হয়। তবে নির্বাচন ছাড়া কোনো সমঝোতা মেনে নেব না।

সদস্য, যুগ্ম সম্পাদক থেকে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকার পরও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা হলো কেন?
আমি অনেক বছর ধরেই হকির সংগঠক হিসেবে রয়েছি। উষা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছি। এক হকি দিয়েই উষা ক্লাব দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক বড় অবদান রাখছে। আমার সময়ে উষা ছয়বার প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমি পাঁচতলা ক্লাব ভবন করেছি। ২০০১ সালে সদস্য হিসেবে ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটিতে সুযোগ পাই। ১৭ বছরে দুবার নির্বাহী কমিটির সদস্য, একবার কোষাধ্যক্ষ, দুবার যুগ্ম সম্পাদক এবং বর্তমান কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি সামসুল বারী, সাজেদ এ আদেল, খন্দকার জামিল উদ্দিন, খাজা রহমতউল্লাহ ও আবদুস সাদেকের অধীনে কাজ করেছি। তাদের মধ্যে খাজা রহমতউল্লাহর অযোগ্যতার কারণে দেশের হকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে উত্তরণের জন্য সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছি।

বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তো খাজা রহমতউল্লাহকে সমর্থন দিয়েছেন। পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ ফোরামও তাঁর পক্ষে রয়েছে।
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বললেই তো আর সব হবে না। আর ক্লাবগুলো দেশের হকি বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খচর করে ক্লাবগুলো দল গড়ে। তাদের টাকার ওপর নির্ভর করে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ। সেই ক্লাবগুলো আমার সঙ্গে আছে। তাদের সমর্থনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে ফোরাম কোনো বড় বিষয় না।

Disconnect