ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
‘মায়ের দোয়ায় গোল পেয়েছি’

বাংলাদেশের ফুটবলের ছোট ছোট অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০৩ সাফ ফুটবলের স্বর্ণজয়। সেখানে রোকনুজ্জামান কাঞ্চনের গোলেই শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। এই ফরোয়ার্ড এবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে করেছেন ৯ গোল। বসুন্ধরা কিংসের হয়ে এরই মধ্যে পেশাদার ফুটবলে জায়গা করে নিয়েছে তাঁর দল। তাঁর মুখোমুখি হয়েছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

আপনি তো মাঝখানে বেশ কিছুটা সময় খেলার বাইরে ছিলেন। হঠাৎ আবার কোথা থেকে এলেন?
আমি ফুটবলের মধ্যেই ছিলাম। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হয়ে পেশাদার লিগে খেলেছি। পরে দলগুলো আমাকে নিয়ে আগ্রহ না দেখালেও খেলা ছাড়িনি। নিয়মিতই দেশের বিভিন্ন জায়গায় খেলে গেছি। এবার সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। মনে হয় আমি পেরেছি।

বসুন্ধরা কিংস তো নতুন দল। এই দলের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ হলো আপনার?
সুযোগটা কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক ভাইয়ের মাধ্যমেই আসে। অনেক চিন্তা করে এই দলটার দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা কিন্তু বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল) সবার আগে দল গঠন করি। প্রতিষ্ঠান হিসেবে বসুন্ধরা আমাদের পুরোপুরি স্বাধীনতা দিয়েছে কাজ করতে।

চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে আসলে লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। সে কারণে দলের সবাই তো বেশ খুশি।
খুশি হওয়াটা তো খুবই স্বাভাবিক। আমরা খুব ভালো খেলেই এ পর্যন্ত এসেছি। আমাদের খেলায় সব সময় ধারাবাহিকতা ছিল। তাই দুই ম্যাচ আগেই আমরা প্রিমিয়ার লিগ নিশ্চিত করতে পেরেছি। আমার গোলে দলকে প্রিমিয়ারে তোলার আনন্দ অন্য রকম। আগামী দুই ম্যাচে নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করব। শীর্ষ গোলদাতা হয়ে লিগ শেষ করার মজা অন্য রকম।

পেশাদার লিগ না হলেও বসুন্ধরা কিংস তো তার কাছাকাছি চলে এসেছে। একেবারে নতুন দল হিসেবে কর্মকর্তারা কতটা সহায়তা করেছেন?
গ্রুপের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি। খেয়াল করলে দেখবেন, টুর্নামেন্ট-জুড়ে শীর্ষে ছিলাম আমরা। বাংলাদেশ পুলিশের বিপক্ষে এই ম্যাচটি জিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা নওফেলের সঙ্গে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৪ পয়েন্টে। এখন প্রিমিয়ারে না খেলার কারণ নেই।

আপনার বয়স তো নেই, এর চেয়ে জুনিয়ররাও অনেকেই অবসরে গেছেন। আপনি শুধু ফিরেই আসেননি, দলের চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জনেও ভূমিকা রাখছেন?
খেলোয়াড়দের বিষয়ে যেটা বুঝি তা হলো, বয়স যত বাড়বে খেলায় ধারও ততই বাড়বে। আর স্ট্রাইকারদের বয়স আসলে বাড়ে না। তাদের ভালো খেলতে উদ্ধুদ্ধ করাটাও একটা বড় কাজ। আমি আশায় থাকি সতীর্থরা ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পাস দেয় কি না, দিলেই গোলের সুযোগ তৈরি হয়। আসলে মনের জোর কখনোই কমেনি, যার জোরেই এখনো খেলে যাচ্ছি।

শুনেছি পুলিশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনেক কাজ করেছেন, মায়ের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছেন?
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য এই ম্যাচটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জেতার কোনো বিকল্প ছিল না। তাই মাঠে সিরিয়াস অনুশীলনও করেছি। আর বাসা থেকে বের হওয়ার আগে মায়ের পা ছুঁয়ে সালাম করেছি। মায়ের দোয়ায় গোল পেয়েছি, এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। আরও ভালো লাগছে মায়ের সঙ্গে দোয়া করতে বসেছিল আমার ছেলেও। ও বলেছিল, বাবা, আজ তুমি গোল করবেই। আসলে ওদের অনুপ্রেরণাই এখনো আমাকে মাঠে থাকতে সহায়তা করছে।

ফিটনেস অনেক বড় বিষয়। আপনার বয়স তো ৩৭ পেরিয়ে গেছে। নতুনদের অনেকেই সেভাবে ফিটনেস ধরে রাখতে পারে না। আপনি কীভাবে পারছেন?
যেহেতু শরীরটা আমার, তাই ফিটনেস ধরে রাখার দায়িত্বটাও আমাকেই নিতে হবে। নিয়মের মধ্যেই চলাফেরার চেষ্টা করি। নয়টার মধ্যে রাতের খাওয়া শেষ করে বিছানায় যাওয়ার চেষ্টা করি। ঘুম থেকে জেগে অনুশীলনের জন্য মাঠে যাই। তবে এখনকার ছেলেরা দরদ দিয়ে কিছুই করে না।

Disconnect