ফনেটিক ইউনিজয়
বিপিএলে ভালো করছেন টাইগাররা
তারিক আল বান্না
চিটাগংয়ের বিপক্ষে উইকেট লাভের পর আবু জায়েদের উল্লাস
----

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম আসর চলছে। আসরের প্রথম দিকে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ভালো করতে পারবে না। কিন্তু যতই এগিয়ে চলছে বিপিএল, ততই জেগে উঠছে টাইগাররা। বিদেশিদের সঙ্গে সমান তালে চলছে টাইগারদের ক্রিকেট নৈপুণ্য।
ইংল্যান্ডের রবি বোপারা ৮ ম্যাচে ২১টি চার ও ৭টি ছয়ে ৬৯.৫০ গড়ে ২৭৮ রান করেছেন। রংপুর রাইডার্সের এই ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ স্কোর ৫৯ রান। দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছেন বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি ৭ ম্যাচে ২৩ চার ও ৭টি ছয়ে ৪১.৩৩ গড়ে ২৪৮ রান করেছেন। খুলনা টাইটানসের এই খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ স্কোর ৫৯ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এরভিন লুইস ঢাকা ডায়নামাইটস দলের হয়ে ৭ ম্যাচে ৩৯.৮৩ গড়ে ২৩৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফ্লেচার সিলেট সিক্সার্স দলের পক্ষে ৭ ম্যাচে ৩৩.৪২ গড়ে ২৩৪, শ্রীলঙ্কার উপল থারাঙ্গা সিলেটের হয়ে ৬ ম্যাচে ৪১.৪০ গড়ে ২০৭ রান করেছেন। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি ইমরুল কায়েস। কায়েস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের পক্ষে ৭ ম্যাচে ১৫টি চার ও ৭টি ছয়ে ৪০.২০ গড়ে করেছেন ২০১ রান। কায়েসের সর্বোচ্চ স্কোর ৪৭ রান। নিউজিল্যান্ডের রঞ্চি চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে ৭ ম্যাচে ৩২.৫০ গড়ে ১৯৫ রান করে সপ্তম স্থানে রয়েছেন। অষ্টম স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের মুমিনুল হক। তিনি রাজশাহী কিংসের হয়ে ৮ ম্যাচে ১৮টি চার ও ৭টি ছয়ে ২৬.২৮ গড়ে ১৮৪ রান করেছেন।
ব্যাটিংয়ে সেরা দশের তিনজন বাংলাদেশের খেলোয়াড় হলেও বোলিংয়ে সেরা দশের বেশির ভাগই স্থানীয়। বাংলাদেশের আবু জায়েদ ৭ ম্যাচে ২৩১ রান দিয়ে পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১৩টি উইকেট। ৩৫ রানে ৪ উইকেট খুলনা দলের এই বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের আবু হায়দার ও পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি। হায়দার ৭ ম্যাচে ১৪৮ রান দিয়ে ১১টি উইকেট পেয়েছেন। ঢাকা দলের হায়দারের সেরা বোলিং ফিগার ১১ রানে ৩ উইকেট। আর ঢাকা দলের শহীদ আফ্রিদি মাত্র ৪ ম্যাচে ১০০ রান দিয়ে লাভ করেছেন ১১টি উইকেট। আফ্রিদির সেরা বোলিং ফিগার ১২ রানে ৪ উইকেট। যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদ। ঢাকার সাকিব ৭ ম্যাচে ১৫১ রানে ও চিটাগংয়ের তাসকিন ৭ ম্যাচে ১৯৭ রানে ১০টি করে উইকেট পেয়েছেন। সাকিবের সেরা বোলিং ফিগার ১৬ রানে ৫ উইকেট। আর তাসকিনের সেরা বোলিং ফিগার ৩১ রানে ৩ উইকেট। যৌথভাবে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের মোহাম্মাদ সাইফুদ্দিন ও আবুল হাসান। কুমিল্লার সাইফুদ্দিন ৭ ম্যাচে ১৯০ রানে ও সিলেটের আবুল হাসান ৮ ম্যাচে ২১৯ রানে সমান ৯টি করে উইকেট পেয়েছেন। ৮টি করে উইকেট নিয়ে যৌথভাবে অষ্টম স্থানে রয়েছেন পাকিস্তানের হাসান আলি (কুমিল্লা), পাকিস্তানের মোহাম্মাদ সামি (রাজশাহী), ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনিল নারিন (ঢাকা), শ্রীলঙ্কার থিসিরা পেরেরার সঙ্গে (রংপুর) বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা (রংপুর)। এ ছাড়া ৭টি করে উইকেট লাভ করে যৌথভাবে ৫ জনের সঙ্গে ১৩তম স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের তিনজন। তাঁরা হলেন চিটাগংয়ের সানজামুল ইসলাম, রাজশাহীর মেহেদি হাসান মিরাজ ও রংপুরের রুবেল হোসেন।
আগের বিপিএল আসরগুলোয় টাইগাররা বেশি আলো ছড়াতে না পারলেও এবার শুরু থেকেই বেশ ভালো করছেন। এতে ছোট ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে। টাইগারদের এই নৈপুণ্য অব্যাহত থাকলে সেটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক হবে।

Disconnect