ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
‘আর্চারিতে বাংলাদেশের উন্নতি চোখে পড়ার মতো’

বাংলাদেশে এখন চলছে এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ। ৩৫টি দেশের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক দেশ হিসেবে খুব বেশি চাওয়ার ছিল না বাংলাদেশের। তবে আর্চারির কোচ নিশিত দাস খেলাটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী। এসব বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

আপনিসহ ফেডারেশনের কোনো কর্মকর্তাই এশিয়ান আর্চারিতে কোনো পদক জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন না, কারণ কী?
কারণ হিসেবে প্রথমেই বলব, বাংলাদেশ এখনো শেখার পর্যায়ে রয়েছে। আর যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভারতের মতো শক্তিশালী দেশ খেলছে, সেখানে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কিছুটা কম। কারণ কোরিয়া অলিম্পিকের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। আর বাংলাদেশ মূলত এই টুর্নামেন্ট থেকে কিছু শিখতে মাঠে নেমেছিল। পদক জয় করাটা বেশ কঠিন ছিল।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আপনি বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। কতটা সম্ভাবনাময় এই খেলাটি?
সম্ভাবনাময় তো অবশ্যই। এই দেশের আর্চারির জন্মলগ্ন থেকেই আমি কাজ করছি। এখন পর্যন্ত বেশ কিছু সাফল্য এসেছে। উন্নতির ধারাটা আশাব্যঞ্জক। সে কারণেই বাংলাদেশে আর্চারির ভবিষ্যৎ অনেক ভালো। এখন পৃষ্ঠপোষকেরাও এগিয়ে এসেছেন। তীরের মতো বড় প্রতিষ্ঠান এসে অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ের লক্ষ্য স্থির করেছে। এটি এই খেলার জন্য ভালো একটি দিক বলতে পারেন। এখন আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি।

বাংলাদেশের লক্ষ্য তো সরাসরি অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করা-
বাংলাদেশ তো অলিম্পিকে এত দিন ওয়াইল্ড কার্ডের কল্যাণে খেলে আসছিল। আমরা সেই ধারা থেকে বের হতে চাইছি। সরাসরি অলিম্পিকে খেলতে চাই। এখানকার আর্চারদের দক্ষতা অনেক ভালো। যেহেতু এটি ইনডিভিজ্যুয়াল গেম, সে কারণে ভালো করা সম্ভব। খেলোয়াড়েরা তাদের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সামনেই সেই সুফল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি, কারণ আমাদের উন্নতি ভালোভাবেই হচ্ছে।

শুরুর সময়ের সঙ্গে এখনকার পার্থক্য কতটা চোখে পড়ে?
পার্থক্য তো অবশ্যই আছে। শুরুতে সব কাজেই কষ্ট করতে হয়। আমরাসহ আর্চাররা সেই কষ্ট করেছি। মালামাল আর থাকা নিয়ে অনেক সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে। খেলোয়াড়দের সংখ্যা এখনকার মতোই ছিল শুধু মালামাল ছিল না। ইচ্ছে করলেই দেশে এসব তৈরি করতে পারতাম না। আর্থিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলা সম্ভব হতো না। এখন সেসব সমস্যা অনেকটাই কেটে গেছে। যেমন অনুশীলনের জন্য টঙ্গীর আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম পেয়েছি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের জায়গাটি দারুণ।

আপনার খেলোয়াড়ি জীবন সম্পর্কে জানতে চাই-
আমি ১৩ বছর আর্চারি খেলেছি। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা চারবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। জুনিয়র বিশ্বকাপসহ দুটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলেছি। ১৯৮৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নিয়মিত খেলেছি। এরপর হায়দারাবাদে একটি ট্রেনিং সেন্টারে কোচিং শুরু করি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। ২০০৪ সাল থেকে এখানে কোচিংয়ে আছি। এর দুই বছর আগে বাংলাদেশে খেলাটি শুরু করে।

বাংলাদেশের কাছে অলিম্পিকে অংশ নেওয়াই পদক জয়ের সমান। ২০২০ অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা থেকে আমরা কত দূরে আছি?
দক্ষতার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকেও অনেক খেলাতেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা পিছিয়ে। সে কারণেই আলাদা করে প্রত্যেকের খেলার দিকে নজর দিয়েছি। এখানেই সফলতার সম্ভাবনা। জুনিয়র লেভেলের পাশাপাশি সিনিয়র লেভেলেও বাংলাদেশ ভালো করছে। প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে অনেক আর্চারকে খুঁজে বের করা হয়েছে। সেখান থেকে বাছাইকৃতদের নিয়ে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছি। সেখান থেকে সেরা একজনকে বেছে নিতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। আশা করি যে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে, সেটা সফল হবে।

ভারত তো আর্চারিতে অনেক উন্নতি করেছে। কীভাবে এতটা সম্ভব হলো?
আপনাদের দৃষ্টিতে ভারত যতটা উন্নতি করেছে, আসলে তার চেয়ে বেশি করা প্রয়োজন ছিল। ৪৫ বছর ধরে তারা এই খেলাটি খেলছে। অনেক আর্চারই র‌্যাঙ্কিংয়ে ওপরে উঠে এসেছে। তাদের অনেক টিম রয়েছে। সে কারণেই তারা দ্রুত উন্নতি করতে পারছে।

Disconnect