ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
‘বিশ্বকাপে গত আসরকে ছাড়িয়ে যেতে চাই’

কিছুদিন আগে কনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে জাতীয় ক্রিকেট লিগে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন সাইফ হাসান। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক এবার মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। এরপরই শুরু হবে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এ খেলোয়াড়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

বিপিএলের পরই শুরু হবে আগামী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। বিশ্বকাপ নিয়ে কী লক্ষ্য স্থির করেছেন?
আমরা নিজেদের প্রস্তুতি নিয়েই ভাবছি। এখনো সেভাবে টার্গেট সেট করিনি। তবে যেহেতু গত বিশ্বকাপে আমাদের বড় ভাইয়েরা সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিলেন, এবার সেটা টপকাতে চাই। গত বিশ্বকাপকে ছাড়িয়ে গেলেই আমাদের কথা সবাই মনে রাখবে।

আপনার দল থেকেই গত বিপিএলে অভিষেক হয়েছিল আফিফ হোসেন ধ্রুবর। এবার বিপিএলে কী লক্ষ্য?
সুযোগ পেলে অবশ্যই নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা থাকবে। বলতে পারেন নিজেকে প্রমাণের চমৎকার প্ল্যাটফর্ম বিপিএল। গত বছর আফিফ খুব ভালো খেলেছিল, আমিও  তেমন কিছু করতে চাই। সুযোগ পেলে অবশ্যই কাজে লাগাব। যুব এশিয়া কাপে যে পারফরম্যান্স হয়েছে, সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করব।

বিপিএলে তো জাতীয় দলের অনেকের সঙ্গেই খেলার সুযোগ পাবেন। মাঠে সেভাবে সুযোগ না পেলেও অনুশীলনেই তো শেখার অনেক সুযোগ থাকে?
সেটা তো অবশ্যই। কারণ বিপিএলে সবার মধ্যেই ভালো করার তাড়না থাকে। সে কারণেই খুব ভালো একটি অভিজ্ঞতা হবে। এখানে জাতীয় দলের বড় বড় খেলোয়াড় আছেন। বিদেশিরা আছেন। এখান থেকে যতটা সম্ভব নেওয়ার চেষ্টা করব। বিপিএলে আমরা পাঁচ-ছয়জন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার আছি। টুর্নামেন্টে আমাদের মূল উদ্দেশ্য থাকবে, অভিজ্ঞতা অর্জন, এখানে যতটুকু সম্ভব শেখা।

কোচ হিসেবে মাহেলা জয়াবর্ধনেকে পাওয়া আপনার জন্য বড় কিছু শেখার সুযোগ এনে দেবে?
খেলোয়াড়ের মতো কোচ হিসেবেও মাহেলা অসাধারণ। ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার প্রিয় তিনি। ছোটবেলা থেকেই উনার ব্যাটিং অনুসরণ করি। তাঁর কাছ থেকে যতটা সম্ভব শেখার চেষ্টা করব। মাহেলা বলেছেন, তুমি যেহেতু অন্য ফরম্যাট থেকে এসেছ, তাই সবার আগে উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে ডট বল না দেওয়ার চেষ্টা করবে। এরপর শট খেলার চেষ্টা করো, তখন আউট হলেও সমস্যা নেই।

পাকিস্তানের বিপক্ষে আরও একটি ম্যাচে হার। বড়দের এশিয়া কাপের মতোই আপনারা মাত্র ২ রানে হেরেছেন। কষ্টটা তাই একটু বেশিই হওয়ার কথা?
কষ্ট তো থাকেই। এখনো মনে হলে খারাপ লাগে। আসলে পুরো ম্যাচে আমরা প্রভাব বিস্তার করে খেলেছি। বৃষ্টি আসার আগ পর্যন্ত আমরাই এগিয়ে ছিলাম। ঠিক তার আগের ওভারে ৯-১০ রান নিয়েছিল। ওখানে তারা এগিয়ে গিয়েছিল। দুর্ভাগ্য আমাদের, যদি পুরো ম্যাচ হতো, আমরা হয়তো ম্যাচটা জিততাম। আমরা সবাই ভালো খেলার চেষ্টা করেছি। এই ম্যাচে পিনাক ঘোষ ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছে।

সেমিফাইনাল ছাড়া ব্যাটসম্যানরা দুর্দান্ত খেলেছেন এশিয়া কাপে...
পিনাক ঘোষ তো ভালো খেলেছেনই। এ ছাড়া গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আমার ৯০ রান আর তৌহিদুল ইসলামের ১২০ রানের ইনিংসগুলো অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। সবাই নিজের জায়গা থেকে খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। সে কারণেই ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী।

মাহেলা জয়াবর্ধনের কাছে কি বিশেষ কিছু শেখার ইচ্ছা আছে?
আমি যেহেতু ব্যাটসম্যান, তাই অনেক সময় উইকেটে সেট হয়ে আউট হয়ে যাই। এ ছাড়া নার্ভাস নাইনটিজে যাওয়ার পরও সমস্যা হয়। নিজেকে ফিট রাখার পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে আরও কিছু শেখার লক্ষ্য রয়েছে। কারণ তিনি ব্যাটসম্যান হিসেবে যেমন ছিলেন, কোচ হিসেবেও কম যাননি। গত আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের কোচ হিসেবে দলকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। এবার খুলনা টাইটান্সও ভালো খেলছে। এসব বিষয় নিয়েই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি।

Disconnect