ফনেটিক ইউনিজয়
কী করছে জাতীয় ফুটবল দল?
মনিরুল ইসলাম

বাংলাদেশ ক্রিকেট এগিয়েছে অনেকটা। বলা যায়, খুব ভালো করছে টাইগাররা। খেলাটিকে ঘিরে নিয়মিত চলছে বিভিন্ন আয়োজন। তবে এ খেলার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে ওড়ানো হয়নি জাতীয় পতাকা। দেশের ফুটবলের চরম দুর্দিন চলছে। আমাদের জাতীয় দল ফুটবলে বিশ্বকাপ খেলার কথা স্বপ্নেও দেখে না। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার যোগ্যতাও হারিয়েছি আমরা। তাই এখন সন্দেহ থেকে যায় বাংলাদেশে ফুটবলই কি সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা?
বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশের ১৯২তম অবস্থান সেটাই বলে দিচ্ছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ভুটানের বিপক্ষে থিম্পুর সেই দুঃস্বপ্নের পর বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল বলে আর কিছুরই যে অস্তিত্ব নেই। গত এক বছরে ফুটবল দুনিয়ায় কত কিছুই না ঘটে  গেছে। বিশ্বকাপ বাছাই পেরিয়ে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ৩১টি দেশ। আমাদের আশপাশের দেশগুলো খেলেছে একের পর এক প্রীতি ম্যাচ। এই সময় কেবল ফুটবল দুনিয়ায় লাল-সবুজ পতাকা উড়তে দেখা যায়নি।
১০ অক্টোবর, ২০১৬ সালে অর্থাৎ ১৪ মাস আগে থিম্পুতে ভুটানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিল ৩-১ গোলে। বাংলাদেশের ফুটবলে যে দিনটি চিরদিন চিত্রায়িত হয় ‘ভুটান ট্র্যাজেডির দিন’ হিসেবে। সেই ম্যাচটি জিততে না পারায় এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটা বড় ব্যর্থতাই। নিষেধাজ্ঞা ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশের জাতীয় দল এত দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় বসে থাকে না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আচার-আচরণে মনে হয়, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে ফুটবল মাঠে খারাপ সময় আসে না। অথচ এর আগেও বাংলাদেশ অনেক দুর্বল দলের সঙ্গে খেলে হেরেছে। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ নিয়োগ করা হয়েছে অ্যান্ড্রু অর্ডকে। তিনি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখে মন্তব্য করেছেন, এ ম–হূর্তে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো অবস্থানে নেই বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক  লেভেল থেকে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল। এখানে নেই কোনো ম্যাচ উইনার। নেই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো কোনো ফুটবলার। মাঠে নামার আগেই তাদের মধ্যে হারের চিন্তা ঢুকে যায়।
তাই ফুটবলে উন্নতি করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্লাব পর্যায়ের এই কোচ। কিন্তু বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন হয়তো কোনো প্রয়োজনীয়তা বোধ করছেন না। কারণ, আয়োজন করা হচ্ছে না কোনো প্রীতি ম্যাচ বা আন্তর্জাতিক খেলা। এই তো যেমন এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে যে দেশগুলো অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য এএফসি ‘সলিডারিটি কাপ’ নামের একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিল। কিন্তু বাফুফে সেই প্রতিযোগিতায় খেলেনি। এরপর বঙ্গবন্ধু কাপ খুব ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হয়েছিল ২০১৪-১৫ সালের দিকে। পরপর দুটি আয়োজনের পর সেটিও এখন আর হয় না। মাঝখানের সময়ে বেশ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ পেলেও বাফুফে ‘ব্যর্থতার ভয়ে’ সেগুলো  খেলেনি।
মূলত দেশের ফুটবল নিয়ে ভাবার দায়িত্ব যাদের, তারা সবাই যেন হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন। এভাবে চলতে থাকলে ফুটবল খেলাটাই না আবার এ দেশ থেকে বিলুপ্তির পথে হাঁটে!

Disconnect