ফনেটিক ইউনিজয়
এবার হকিতে অর্থ কেলেঙ্কারি
তারিক আল বান্না

বাংলাদেশের হকির মান নেই, নেই জনপ্রিয়তাও। আসল এই দুটি বিষয় নিয়ে মাথাব্যাথা না থাকলেও নির্বাচন নিয়ে কিন্তু তোড়জোড় চলছে। আবার এটাকেও ছাপিয়ে এখন সম্মুখে চলে এসেছে অর্থ কেলেঙ্কারি। এটা নিয়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনে চলছে তুলকালাম। সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপ হকির দশম আসরে টুর্নামেন্ট কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক নিজেই এমন অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ মানতে মোটেও রাজি নন টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক মামুনুর রশীদ। বর্তমানে ফেডারেশন আর টুর্নামেন্ট কমিটি মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়টি নিয়ে ফেডারেশনে কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
বেশ কয়েক মাস ধরেই ফেডারেশনের নির্বাচন নিয়ে দমকা হাওয়া বইছে ক্রীড়াঙ্গনে। মাস চারেক আগে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণাও করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। মনোনয়নও কিনে ফেলেছিলেন নির্বাচনে অংশগ্রহণেচ্ছুকরা। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হয়নি বন্যার কারণে। তবে সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রী বীরেন শিকদার নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই ঘোষণার পরও প্রাণ ফিরে আসেনি ফেডারেশনে। বরং কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঢাকায় ৩২ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এশিয়া কাপ হকি। গত ১১ অক্টোবর শুরু হওয়া টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে ২২ অক্টোবর। যেখানে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত আর রানার্সআপ মালয়েশিয়া। আর স্বাগতিক বাংলাদেশ ষষ্ঠ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট ছিল।
এ টুর্নামেন্ট ঘিরে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ফেডারেশনের একাংশের কর্মকর্তারা! সে অনুসারে নিয়মের বাইরে গিয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করার দায়ে ফেডারেশন টুর্নামেন্টের পাঁচটি সাব-কমিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। কমিটিগুলো হল-মিডিয়া, ট্রান্সপোর্ট, গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফেসিলিটিজ, আইনশৃঙ্খলা ও লিয়াজোঁ। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর চেয়ারম্যান ও সম্পাদককে ১১ নভেম্বর চিঠি দিয়ে বেশি অর্থ ব্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক যখন সাব-কমিটিগুলোর কাছ থেকে বেশি অর্থ ব্যয়ের ব্যাখা চাইলে টুর্নামেন্ট কমিটির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ উল্টো ফেডারেশনের কাছে বলেন, ‘জাতীয় দল চীনে যাওয়ার সময় কলকাতা এয়ারপোর্টে একবেলা খাবারের বিল হয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। যদি অন্যদের বিল ধরা হয়, তাহলে এই বিল ধরা হবে না কেন?’ আর তাতেই জ¦লন্ত আগুনে ‘ঘি ঢালা’র অবস্থা হয়েছে। মামুনের এ বক্তব্যে আব্দুস সাদেক জানান, ‘কী আর বলব, ফেডারেশনের কাছেই কিনা ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে! আসলে ফেডারেশনে একরকম দুর্বৃত্তায়ন চলছে। ফেডারেশন সভাপতিকেও এ বিষয়ে বলেছি। নিঃসন্দেহে এর মধ্যে কারও ইন্ধন আছে, কেউ প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমরা আসলে সাব-কমিটিগুলোকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দিইনি। কিছু বিষয়ে আর্থিক অসংগতি আছে। সেসব বিষয়ে সাব-কমিটির কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছি। ফেডারেশনে স্বচ্ছতা আনার জন্যই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
যে দলটির খাবারের খরচের কথা বলা হয়েছে, সে দলের কোচ ছিলেন মাহবুব হারুন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পাঁচ তারকা হোটেলে এক বেলার খাবার বিলও তো ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হয় না! মামুন কথাটা কী মনে করে বলল বুঝতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কেউ জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে চাইবে না।’
কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য এ দ্বন্দ্বে ফেডারেশন স্পষ্টতই দুভাগে বিভক্ত। দুপক্ষের এ দ্বন্দ্বের কারণে স্থবির হয়ে পড়ছে হকি। খেলোয়াড়েরাও হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। আর এসব কিছু হচ্ছে অর্থ কেলেঙ্কারির কারণে। এর হাত থেকে হকিকে রক্ষা করতে না পারলে সবকিছুই বিফলে যাবে। আর এসব নিয়ে ভাবতে হবে সর্বোচ্চ ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকে।

Disconnect