ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
‘দাবায় উন্নতির সম্ভাবনা দেখছি না’

জাতীয় দাবা শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হয়েছে প্রিমিয়ার দাবা। প্রথমটায় না খেললেও শেষটায় খেলছেন নিয়াজ মোরশেদ। উপমহাদেশের প্রথম এ গ্র্যান্ডমাস্টার ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির ওপর চরম নাখোশ। নিয়াজ মোরশেদের সঙ্গে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

জাতীয় দাবায় না খেললেও প্রিমিয়ার দাবায় ঠিকই খেলছেন?
অনেক কারণেই জাতীয় দাবায় খেলিনি। আসলে ফেডারেশন সেভাবে খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করতে পারেনি। আমার জন্য জাতীয় দাবায় খেলাটা আকর্ষণীয় কিছু না। আর আমি থাকি উত্তরায়। সেখান থেকে ফেডারেশনে আসতে লাগে দুই ঘণ্টা আর যেতে তার চেয়েও বেশি। ফেডারেশন তো কোনো আবাসনের ব্যবস্থা করেনি। থাকার জায়গা পেলে জাতীয় দাবায় খেলার চিন্তা করতাম।

আপনি যে বলেছেন ফেডারেশনে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি, কেন এমনটি মনে হলো?
আসলে যে প্রত্যাশা ছিল, তার ছিটেফোঁটাও পূরণ করতে পারছে না বর্তমান কমিটি। দাবায় উন্নতির সম্ভাবনা দেখছি না। প্রকৃতপক্ষে দাবার উন্নয়নের জন্য কী কী করা প্রয়োজন, তা তারা করছে না। কত বছর হয় দেশে একটা গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট হয় না। দাবাড়–দের রেটিং তো সে কারণেই বাড়ছে না। অথচ নির্বাচিত কমিটির এটি বড় এজেন্ডা ছিল।

জাতীয় দাবায় না খেললেও প্রিমিয়ার দাবায় একেবারে নতুন একটি দলের হয়ে খেলছেন, লক্ষ্যটা কী?
দাবাড়– হিসেবে সব সময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। আর নতুন দলে খেলার আলাদা একটি আনন্দ রয়েছে। বেঙ্গল চেজ ক্লাব দাবায় নতুন হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার ভালো লেগেছে। তারা খেলাটির উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। সে কারণেই একেবারে নতুন হলেও এই দলে যোগ দিয়েছি।

আপনি তো ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ করেছেন। প্রিমিয়ার দাবা নিয়ে কি কোনো অভিযোগ আছে?
অভিযোগের তো শেষ নেই। অনেক দিন ধরেই বলছি, ভবিষ্যতে যদি একজন গ্র্যান্ডমাস্টার বাংলাদেশ থেকে বের হয়, তবে সে হচ্ছে মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান। তাকেই লিগ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাকে একরকম জোর করে অনূর্ধ্ব-১৬ দাবা অলিম্পিয়াডে খেলতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জন্য প্রিমিয়ার লিগটা হতো গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি তো বরাবরই ফাহাদ রহমানকে নিয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন। আসলে কি সে সঠিক পথেই এগোচ্ছে?
সেটা তো অবশ্যই। আমি এখনো তাকে নিয়ে আশাবাদী। সে তো নিয়মিতই গ্র্যান্ডমাস্টারদের হারাচ্ছে। এই তো জাতীয় দাবায় জিয়াউর রহমানকে হারিয়েছে। ফাহাদের গ্র্যান্ডমাস্টার নর্ম কীভাবে হয়, সেই বিষয়টি নিয়ে ফেডারেশনের ভাবনাটা থাকতে হবে সবার আগে। কিন্তু তাকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। লিগে একটি ভালো দলে সুযোগ পাওয়ার পরই তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি দাবার জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে না।

গতবারের মতো এবারও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ভালো দল গড়েছে। তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে বেঙ্গল চেজ ক্লাব তৈরি। লিগ কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে?
সাইফ স্পোর্টিং তো বরাবরই শক্তিশালী দল গঠন করে। আমরা এবার সেই সুযোগ পাব বলে মনে হয় না। লিগ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও আমাদের সম্ভাবনা থাকবে না। কারণ ফেডারেশন তো চায় একটি দলকে চ্যাম্পিয়ন করাতে। সেই দলটা যে আমরা নই, সেটা সবাই জানেন।

গত বছর ৫০ বছরে পা রেখেছেন। এই সময়ে আপনার সেরা অর্জন কী?
গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়াটা ক্যারিয়ারের দিক থেকে সেরা অর্জন। এর বাইরে আমি দুই ছেলের বাবা, এটাও আমার জন্য গর্বের। তা ছাড়া ব্যক্তিজীবনেও সুখী বলতে পারেন।

আপনার দাবায় হাতেখড়ি হয়েছে বাসায়। মনে পড়ে শুরুর সেই দিনগুলোর কথা?
ছোটবেলার সেই সময়কে তো এত সহজে ভুলতে পারি না। স্কুলে যাওয়ার আগেই দাবা খেলা শিখেছি। ইস্কাটনে আমাদের পাড়ায় দাবার চর্চা ছিল অনেক। আমার বড় ভাই মাহবুব মোরশেদ আমাকে দাবার চাল শিখিয়েছেন, তিনি রেনেসাঁয় হারমনিকা বাজাতেন। ২০১১ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এর বাইরে পাড়ার বড় ভাইয়েরাও দাবায় উৎসাহ দিতেন।

Disconnect