ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
সাব্বিরের শাস্তি ক্রিকেটারদের জন্য একটি বার্তা

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকও তিনি। চন্ডিকা হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর জাতীয় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হয়েছেন। ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

হঠাৎ চলে গেলেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে কোচ হিসেবে আপনার নামটিই বেশি উচ্চারিত হচ্ছিল। কিন্তু হয়ে গেলেন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর?
টেকনিক্যাল ডিরেক্টর আসলে কোচের মতোই। জাতীয় দলে যেহেতু প্রধান কোচ নেই, তাই আমাকে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর করা হয়েছে। আর ত্রিদেশীয় সিরিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে যতটুকু প্রস্তুতি প্রয়োজন, আমি ঠিক সেভাবেই খেলোয়াড়দের তৈরি করছি। যে লক্ষ্যে ক্রিকেট বোর্ড আমার ওপর দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি যথাযথভাবে পালন করতে চাই।

দেশের মাটিতে দর্শকের সামনে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয় করতে বাংলাদেশ দলের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে। আপনি কীভাবে দেখেন?
একজন কোচ কিংবা খেলোয়াড় সবার জন্যই চ্যালেঞ্জ থাকে। সেটা উতরাতে যা কিছু করা প্রয়োজন, সময় অনুসারে তা-ই করতে হবে। তবে চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই রয়েছে। তবে আমি মনে করি সুযোগ। বাংলাদেশে প্রত্যাশার চাপ থাকে আবার সাপোর্ট ওরিয়েন্টেড ব্যাপারও থাকে। যেমন আমরা ভালো খেলি তখন দর্শকদের চিৎকার আমাদের সহায়তা করে। দায়িত্ব নিতে গেলে চাপ থাকবেই। আসলে শেষ সাড়ে তিন বছরে আমাদের যে পারফরম্যান্স, সেখান থেকে প্রত্যাশার এই চাপটা আমরা উপভোগ করি।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন দেখছে। কোচ হিসেবে আপনি কী মনে করেন?
সাম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের ক্রিকেট আমরা খেলছি, তাতে সেই আশা করাই যায়। বিশেষ করে দুই প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে দল হিসেবে খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে না। এটিই আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। আগে অনেক ম্যাচ জিতেছি আমরা ঢাকায় বা আমাদের কন্ডিশনে। ছেলেরা এটি উপভোগ করে। টিম ম্যানেজমেন্টের একজন হিসেবে মাঠের বাইরে থেকে আমিও তা উপভোগ করি।

আগে আপনি জাতীয় দলের অধিনায়ক, ম্যানেজার ও সহকারী কোচ ছিলেন। এই প্রথম প্রায় কোচ হিসেবেই খেলতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কী লক্ষ্য থাকবে?
এখানে ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্যের সুযোগ নেই। জাতীয় দলের লক্ষ্যটাই বড়। এই চ্যালেঞ্জ নিতে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। আমার বিশ্বাস সিরিজটা ওরা উপভোগ করবে। সবাই অনেক ফিট আছে। সমন্বয় করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব করতে হবে। সেটা করতে পারলে এই সিরিজে ডেফিনেটলি আমরা টপ ফেবারিট।

ত্রিদেশীয় সিরিজে বাকি দুই দল শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কেমন?
অনেক দিন পর ত্রিদেশীয় সিরিজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সত্যি কথা বলতে জিম্বাবুয়ে একধরনের স্টাইলে খেলে। শ্রীলঙ্কা আরেক ধরনের টিম। দুটো দলের সঙ্গে আমাদের হয়তো দুই ধরনের প্ল্যানিং থাকবে। এ জন্য ছোটখাটো পরিবর্তন তো থাকবেই। তবে এই সিরিজ জেতার জন্য পিছপা হব না কোনো কিছু করতে। কম্বিনেশনের জন্য যেটা ভালো আমরা সেটাই করব। নির্বাচকেরা আছেন, মাশরাফি-সাকিবরাও অনেক অভিজ্ঞ। দেশের মাটিতে খেলা, আমরা জানি কিসে ভালো হতে পারে। সবকিছু মাথায় রেখেই হবে।

সাব্বির রহমান ও তামিম ইকবালের শাস্তি নিয়ে এখন অনেক কথাই হচ্ছে?
আপনি জাতীয় দলে খেলবেন আর আইন মানবেন না, এটা তো হতে পারে না। আইন অনুযায়ীই তাদের দুজনের শাস্তি হয়েছে। যদি কেউ অন্যায় করে, সেটার শাস্তি পাবেই। পুরো দেশ যেখানে খেলোয়াড়দের আইডল মনে করে, সেখানে তারা তো অন্যায় কিছু করতে পারেন না। বিশেষ করে বলতে পারি সাব্বিরের শাস্তি ক্রিকেটারদের জন্য একটি বার্তা।

Disconnect