ফনেটিক ইউনিজয়
স্ট্রাইকার থেকে ডিফেন্ডার
মনিরুল ইসলাম

ফুটবল যেন তাঁর নেশা। ফুটবলে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন স্ট্রাইকার হিসেবে। সেই স্ট্রাইকার এখন দেশের সেরা ডিফেন্ডার। তিনি নাসিরউদ্দীন চৌধুরী। দেশের ফুটবলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম। ডিফেন্সে দলকে রক্ষা করছেন। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাচ্ছেন। আবার দলের প্রয়োজনে এই নাসির স্ট্রাইকিং পজিশনে গিয়ে ত্রাতা হয়ে কাজ করছেন। গোল করছেন ম্যাচ জেতাচ্ছেন। এমন প্রতিভাবান ফুটবলার আরও একজন ছিলেন তিনি কায়সার হামিদ। দল যখন গোল পায় না, তখন নিজেই আক্রমণভাগে গিয়ে গোলের চেষ্টা করতেন। ঠিক যেন কায়সার হামিদের চরিত্রের প্রতিচ্ছবি নাসিরউদ্দীন চৌধুরী। বয়স ৩৫ বছর হলেও এখনো প্রতিপক্ষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক তিনি। এবারের প্রিমিয়ার লিগে ছয় গোল করে আবাহনীর শিরোপা জয়ে বড় অবদান তাঁর। গত ৫ জানুয়ারি শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে শিরোপা নিশ্চিত করা জয়ে প্রথম গোল এসেছে নাসিরের হেড থেকে।
এক সময় স্ট্রাইকার থাকলেও  জাতীয় দলের সাবেক কোচ জোরান দর্দেভিচের অনুপ্রেরণায় পজিশন বদলে হয়ে যান ডিফেন্ডার। ২০১০ সালে ঢাকার এসএ গেমসের আগে অনুশীলন ম্যাচ খেলার সময় ডিফেন্ডার সংকটে পড়ে যায় জাতীয় দল। সেই সময় সার্বিয়ান কোচ দর্দেভিচ ডিফেন্সে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন নাসিরকে। সেই পরামর্শ মেনেই আজ তিনি পুরোদস্তুর ডিফেন্ডার। তবে স্ট্রাইকার থেকে ডিফেন্ডার হলেও নাসিরের মনে কোনো আফসোস নেই। বরং ডিফেন্স থেকে উঠে গোল করতে অন্য ধরনের তৃপ্তি পান তিনি। সে জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেন দর্দেভিচকে, ‘জোরানের সেই পরামর্শই আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। পজিশন বদলে ফেলে তিনি আমাকে খেলিয়েছেন, আমিও ঝুঁকি নিয়ে সফল হয়েছি।
১৯৯৬ সালে সেনাবাহিনীতে খেলোয়াড় হিসেবে চাকরি নিয়েছিলেন নাসির। সেই সুবাদে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে গিয়েছিলেন লাইবেরিয়ায়। সেখানে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁর চাকরির সুবাদে। আত্মরক্ষার জন্য তাঁকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণও নিতে হয়েছিল। ৫০০ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্র কাঁধে রাখা, প্রয়োজনে দায়িত্ব পালন করাসহ নানা কাজ করতে হয়েছে। আর বিকেলে ফুটবল নিয়ে মেতে উঠতেন। টুর্নামেন্টে খেলে সেরা পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতেও মন ভরেনি নাসিরের। মন পড়ে থাকত ঢাকার মাঠের ফুটবলের বড় আসরে। স্বপ্ন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের জন্য লড়বেন। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর চাকরিটা ছেড়েই দিলেন। ২০০৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে যোগ দেন। শুরু হয় তাঁর স্বপ্নের পথের সিঁড়ি বেয়ে চলার দিন। মোহামেডান হয়ে নাসির এখন ঢাকা আবাহনী আর জাতীয় দলের অপরিহার্য খেলোয়াড়।

Disconnect