ফনেটিক ইউনিজয়
হাথুরুর বাংলাদেশ হাথুরুর শ্রীলঙ্কা
তারিক আল বান্না

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ব্যর্থতা নিয়ে সরগরম তখন বাংলাদেশের মিডিয়া। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বরাবর পদত্যাগপত্র ই-মেইল করলেন হাথুরুসিংহে। শুরু হলো নতুন অধ্যায়। এরপর হাথুরু নিজে আসলেন বাংলাদেশে পদত্যাগের কারণ বলতে। তত দিন তিনি শ্রীলঙ্কার কোচ হয়ে গেছেন। ঝটিকা সফরে এসে তিনি বলে গেলেন, সামর্থ্যরে সবটুকু তিনি দিয়েছেন বাংলাদেশকে, বাকি আর কিছুই নেই। সামনে হাথুরুর সাবেক দল বাংলাদেশ আর বর্তমান দল নিজ দেশ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে।
হাথুরু নিজের সামর্থ্যরে সবটুকু দেওয়ার চেষ্টা করবেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে। যে দলটি গত কয়েক বছরে রীতিমতো ধুঁকছে ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে। ছন্নছাড়া দলকে গোছাতে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। তাও আবার তাঁর প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট বাংলাদেশ সফর। যা টাইগারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক মাস আগেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যে কোচের অধীনে খেলেছেন মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা, সেই হাথুরুই কিনা এবার প্রতিপক্ষ দলের কোচ। ঘরের মাঠে হাথুরুকে জবাব দেওয়ার এটাই যেন মোক্ষম সময়। হাথুরু অবশ্য নিজেও জানেন, ঘরের মাঠে কেমন দল বাংলাদেশ। তবে তিনিও ছক কষবেন, ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে লঙ্কান টিমকে বাইরে নিয়ে আসতে। সব মিলিয়ে পেশাদারিত্বের আবহ ঘুরপাক খেলেও মাঠের খেলায় দুই শিবিরে থাকবে প্রচণ্ড লড়াই আর জেতার মানসিকতা।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ছাড়াও রয়েছে জিম্বাবুয়ে দল। শ্রীলঙ্কার কোচ হাথুরুসিংহে, জিম্বাবুয়ের কোচ হিথ স্ট্রিক। মজার ব্যাপার হলো, এই দুজনই একসময় বাংলাদেশের কোচ ছিলেন। এখন তাঁরাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয়ের পরিকল্পনা সাজাতে ব্যস্ত। বাংলাদেশ এখন হেড কোচবিহীন। হাথুরুর সহকারী কোচ হিসেবে থাকা রিচার্ড হ্যালসল রয়েছেন। তিনি অবশ্য মনে করছেন, হাথুরুর চলে যাওয়া দলের ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে না। বাংলাদেশ টিমের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। বলতে গেলে তিনিই এখন আপৎকালীন মূল কোচ।
ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে নতুন বছর শুরু করবে বাংলাদেশ দল। যেখানে হাথুরুসিংহে এখন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। তাঁকে হারানোই মূল কথা। ইমরুল কায়েস বলেছেন, ‘হাথুরু উঁচু মানের কোচ সন্দেহ নেই। তিনি আমাদের সঙ্গে অনেক কিছু জানেনও। সেই হিসেবেই তিনি পরিকল্পনা সাজাবেন। তবে মাঠে তো তিনি খেলে দিয়ে আসতে পারবেন না। মাঠের খেলাই আসল। যেটাতে মূল মনোযোগ আমাদের।’
গত তিন বছরে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দুর্দমনীয় দল। বিশেষ করে ওয়ানডেতে। এই সময়ে একমাত্র ইংল্যান্ড ছাড়া সব প্রতিপক্ষকে নাকানিচুবানি খাইয়েছে টাইগার শিবির। টেস্টেও কম কিসে। প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকেও হারিয়েছে। কিন্তু ঘরের মাঠের তিন বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতা হাথুরুর বিরুদ্ধেও দেখাতে পারবেন তো মাশরাফিরা?
তবে বাংলাদেশ শিবিরে এখন চোট সমস্যা ক্রমেই প্রখর হয়েছে। তারপরও চলছে তাদের জোর প্রস্তুতি। কোনো ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা এখন পর্যন্ত জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সেই আক্ষেপ মেটানোর সুবর্ণ সুযোগের কথা মাথায় রেখেই ক্রিকেটারদের নিবিড় প্রস্তুতি। সঙ্গে হয়তো সদ্যই সাবেক হয়ে যাওয়া কোচ হাথুরুসিংহেকে দেখিয়ে দেওয়ার জেদ।
ত্রিদেশীয় সিরিজে ১৫ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে শুরু হলেও ১৯ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রতি দল দুবার করে খেলবে। পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল ২৭ জানুয়ারি ফাইনালে লড়বে। ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্ট। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে ফের দুদল আসবে ঢাকায়। টেস্ট সিরিজ শেষে দুই দল খেলবে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ১৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুরেই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নামবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

Disconnect