ফনেটিক ইউনিজয়
ইতিহাস গড়লেন মুমিনুল
মনিরুল ইসলাম
টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি মুমিনুল হক
----

ব্র্যাডম্যান, চ্যাপেল, বোর্ডার, গাভাস্কার, দ্রাবিড়, অরবিন্দ ডি সিলভা, কম্পটন, গুচ, গ্রিনিজ, হেডলি, লারা, হানিফ মোহাম্মদ, মিয়াঁদাদ, পন্টিং, সাঙ্গাকারা, সাটক্লিফ, লরেন্স রো, সোবার্স, ওয়ালকট- এ নামগুলো যেন ক্রিকেটের জ্বলন্ত তারকা। তবে এই নামগুলোর তালিকায় এবার বসলেন কীর্তিমান মুমিনুল হক সৌরভের নাম! যোগ্যতম মুমিনুলের নাম। আকারে তিনি যতই ছোট হন, ক্রিকেটীয় অর্জনের উচ্চতায় লকলকিয়ে বেড়ে উঠছেন ঠিকই। জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের এই ভবিষ্যৎ লিটল মাস্টার! বাংলাদেশ টেস্ট ইতিহাস ১৮ বছরে পা রেখেছে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮৭ ক্রিকেটার বাংলাদেশের সাদা জার্সি গায়ে তুলেছেন। কিন্তু এর আগে দেশের কোনো ব্যাটসম্যান এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একটি টেস্ট ম্যাচের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার দারুণ কীর্তি গড়লেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। দৈর্ঘ্যে সবার চেয়ে ছোট এ ব্যাটসম্যানটিই এখন শত টেস্ট পেরিয়ে উঠে গেলেন সবার ওপরে। শুধু জোড়া সেঞ্চুরির জন্যই নয়, এ ইনিংসে নিজের অসামান্য অর্জনের পাশে দলকেও হারের হাত থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রেখেছে তাঁর ব্যাট।  
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিনি ১৭৬ করে দলকে দেখিয়েছিলেন ৫১৩ রানের পথ। কিন্তু লঙ্কানরা তা টপকে ২০০ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। চতুর্থ দিন মাত্র ৮১ রানে ৩ উইকেট শঙ্কায় পড়ে যায় দল। শেষ দিন ম্যাচ বাঁচাতে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান মুমিনুল। ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রান করে ধনঞ্জয়ার শিকার হন মুমিনুল। তাঁর আউটের মধ্যে দিয়ে ভেঙে যায় চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৮০ রানের জুটি। আর এর মধ্য দিয়ে দল পায় ড্রয়ের সুবাস। এক টেস্টের দুই ইনিংসে দেশের সর্বোচ্চ রানের মালিকও এখন মুমিনুল।
এ ছাড়া এই ম্যাচেই টেস্ট ক্রিকেটে ২ হাজার রানের মাইলফলকও অতিক্রম করেন দুর্দান্ত এ খেলোয়াড়। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট দারুণ এক পয়মন্ত ম্যাচ হয়েই ধরা দিয়েছে মুমিনুল হকের কাছে। চট্টগ্রাম টেস্ট খেলতে নামার আগে ২৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৪৩.৮০ গড়ে মুমিনুলের রান ছিল ১ হাজার ৮৪০, যেখানে শতক ৪টি ও অর্ধশতকের ইনিংস ছিল ১২টি।

Disconnect