ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
যত দিন উপভোগ করব তত দিনই খেলব

দেশের আলোচিত ক্রিকেটারদের একজন আব্দুর রাজ্জাক রাজ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের ঠিক আগ মুহূর্তে দলে ডাক পেলেও টেস্ট শেষ না হতেই বাদ পড়েছেন। দ্বিতীয় টেস্টে আবারও সুযোগ পেয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন এ খেলোয়াড়। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

চার বছর পর হঠাৎই ডাক পেয়েছিলেন জাতীয় দলে। কী মনে হয়েছিল সে সময়?
কিছুটা আশ্চর্যও হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল পরিশ্রমটা সার্থক হয়েছে। কারণ যেখানেই খেলি না কেন, নিজের সেরাটা দিতে কার্পণ্য করি না। সে কারণে দীর্ঘ সময় পর ডাক পাওয়ায় খুশিই হয়েছিলাম। ২০১৪ সালের আগস্টে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলাম।

কিন্তু প্রথম টেস্টের আগে ডাক পেলেও টেস্ট শেষ হওয়ার আগেই ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনার পরিবর্তে সানজামুল ইসলামকে নেওয়া হলেও দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে তাঁকেও বাদ দেওয়া হয়। বিষয়টি কেমন হলো?
আসলে ওসব নিয়ে কোনো কথাই বলতে চাইছি না। একটা সুযোগ চেয়েছিলাম নিজেকে প্রমাণের। সেখানে যদি ভালো করতে না পারতাম, তাহলে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে হয়তো কথাও বলতে পারতাম না। যেহেতু সুযোগটা পাইনি, আর কিছুই করার নেই। আবারও অপেক্ষায় থাকতে হবে।

টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই শুরু হয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। এবারের আসরে কী পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবেন?
আলাদা কোনো পরিকল্পনা কখনোই থাকে না আমার। আগেই বলেছি, যখন যেখানে খেলার সুযোগ পাই, চেষ্টা করি নিজেকে মেলে ধরতে। কারণ যে দলে খেলি, তারা নিশ্চয়ই আশা নিয়ে দল তৈরি করে। এবারের লিগে আমি অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়কত্ব করব। বড় শক্তি না হলেও আমাদের চেষ্টা থাকবে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা।

ঢাকার ক্রিকেটে প্রায়ই দেখা যায় ব্যাটিংবান্ধব উইকেট তৈরি করা হয়। এবার কি ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) কাছে কোনো দাবি জানিয়েছিলেন?
এখানে দাবি জানানোর কিছু নেই। আমি বোলার হিসেবে বলছি না বোলিং উইকেট তৈরি করতে, চাই এমন উইকেট তৈরি করা হোক, যেখানে বোলাররা যেমন ভালো করার সুযোগ পাবে, তেমনি ব্যাটসম্যানরাও রান পাবে। তাহলে বোলারদের পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদেরও নিজেকে আলাদা প্রমাণের সুযোগ পাবে।

আপনাকে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হলে কী পরিকল্পনা করবেন?
যেহেতু এখনো ক্রিকেট খেলছি, তাই জাতীয় দলের জন্য সব সময়ই প্রস্তুত থাকি। আমার চেয়ে বেশি বয়সে অনেকেই খেলে যাচ্ছেন। সত্যি কথা বলতে, আমি অবসরের আগ পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলার আশা ছাড়ব না।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৫০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছেছেন। তখনকার অনুভূতি কেমন ছিল?
অনুভূতি অবশ্যই ভালো লাগার। কারণ একেকটা উইকেট পেতে পেতে আজ ৫০০ উইকেট হয়ে গেছে। এটা যে পরিশ্রমের ফসল, তা আর বলে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। তবে ভেতরের অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল। আর আমি যে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এটা করতে পেরেছি, ভালো লাগার সেটাও একটি কারণ।

ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। এই পারফরম্যান্স দিয়ে কী বার্তা দিচ্ছেন?
একজন ক্রিকেটারের কাজ কিন্তু ক্রিকেট খেলা। যত দিন উপভোগ করব তত দিনই খেলে যাব। খেলার মাধ্যমে এই বার্তাই দিচ্ছি যে আমি এখনো খেলছি এবং ভালো খেলছি।

অনেক আলোচনার পর আবারও আপনাকে ডাকা হয়েছিল জাতীয় দলে। এর আগে একবার আপনার কাছে প্রস্তাব এসেছিল একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বিদায় নেওয়ার। এবার কী করবেন?
সব ক্রিকেটারই চায় মাঠ থেকে বিদায় নিতে। আর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বিদায় নিতে পারলে তো কথাই নেই। তবে আমিও চাই না এ রকম কোনো প্রস্তাব আসুক। ভালোভাবে খেলে তবেই বিদায় নিতে চাই। কারও দয়ায় কিছু করতে চাই না।

Disconnect