ফনেটিক ইউনিজয়
ফুটবলের তৃণমূল পর্যায়ে উন্নতি করতে হবে

১৭ মাস ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেই বাংলাদেশ। তবুও পারিশ্রমিক বাড়ছে ফুটবলারদের। ক্লাবগুলোও এখন নিরুপায়। সার্বিক বিষয়ে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সালেহ জামান সেলিমের সঙ্গে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

ফুটবল মৌসুম শুরু হতে এখনো অনেক সময় বাকি। ক্লাবগুলো দলবদলের প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে। শেখ রাসেলের কী অবস্থা?
আমরাও পিছিয়ে নেই। গত মৌসুমের চেয়ে এবার আরো ভালো দল গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে খেলোয়াড় সংগ্রহও শুরু করেছি। কারণ এর আগে বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো মানের ছিল না।

কিন্তু যেভাবে খেলোয়াড়দের দাম বাড়ছে, তাতে দল গঠন করাই তো কঠিন কাজ হয়ে যাচ্ছে।
সুযোগ বুঝে খেলোয়াড়রা এত বেশি দাম হাঁকছে যে, অবিশ্বাস্য। যেমন একজন খেলোয়াড়কে আমি ১০ লাখ টাকা অফার করলাম। পরক্ষণেই সে ফোন করে বলে, সে আরও বেশি পেয়েছে। তাই আমাদের ক্লাবে খেলতে পারবে না।

এটা কীভাবে হচ্ছে?
আমি যখন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলি, সে এটাকে রেকর্ড করে ফেলে। নিজের দাম বাড়ানোর জন্য পরে অন্য ক্লাবের সঙ্গে কথা বলার সময় সেই রেকর্ডিং শুনিয়ে দেয়। তখন আগের অফারের চেয়ে দেড়-দুই গুণ টাকা বাড়িয়ে নতুন দল খুঁজে নেয়। এ প্রক্রিয়া খুব বেশি দিন ধরে চালু না হলেও এখন দল গড়তে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

কী কারণে এত চড়া মূল্য ফুটবলারদের?
দেশে এখন ভালো মানের ফুটবলার নেই। সে কারণে দু-তিনটা মৌসুম মোটা অংকের টাকা পেলেই তো হলো। কয়েক বছর ধরেই দেখে আসছি, একজন দেশীয় স্ট্রাইকার ৪০ লাখ টাকা নিলেও মৌসুম শেষে তার নামের পাশে চার-পাঁচটির বেশি গোল জমা পড়ে না। নিজের পারফরম্যান্সের দিকে তাকানোর সময় নেই তাদের। এটাই পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করি।

অন্য কারণ হিসেবে সবাই বলে, উন্নত দেশগুলোয় ফুটবলে কমপক্ষে তিন বছরের জন্য চুক্তি হয়। আমাদের দেশে ব্যতিক্রম। অনেকে তো ইনজুরি লুকিয়েও খেলে?
আমাদের ফেডারেশন, ক্লাব, খেলোয়াড় কারও মধ্যেই পেশাদারিত্ব আসেনি। আর ভালো মানের খেলোয়াড় পেলে টাকা দিতে তো কোনো সমস্যা নেই। আমরা এখন বাধ্য হয়ে ১০ লাখ টাকার খেলোয়াড়কে ৩০ লাখ টাকা দিচ্ছি। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হলে এতটা লাফিয়ে পারিশ্রমিক বাড়ত না। আর ইনজুরি লুকানোর বিষয়টিও সত্যি। কিন্তু কয়েকটা ম্যাচ খেলার পরই তা পরিষ্কার হয়ে যায়।

ভালো মানের ফুটবলার পেতে ক্লাবগুলোর কিছুই করার নেই?
দায় তো সবারই রয়েছে। ক্লাবগুলো বয়সভিত্তিক দল তৈরি করলে খেলোয়াড় সংকট কিছুটা কমবে। তবে পুরোপুরি কাটাতে হলে জেলার ফুটবলকে নিয়মিত করার কোনো বিকল্প নেই। দেশের ফুটবলকে নেতৃত্বদানকারীরা ঢাকার ছেলে নয়। তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের উন্নতি হলে ঢাকার ফুটবলে এর প্রভাব পড়বেই। ফেডারেশন পারে জেলা লিগগুলো নিয়মিত আয়োজন করতে।

জাতীয় দল অনেক দিন পর মাঠে নামার অপেক্ষায়। কেমন হতে পারে নতুন শুরুটা?
জানামতে, ১৭ মাস পর জাতীয় দল মাঠে নামছে। প্রথমবারের মতো কাতারের মতো উন্নত দেশে অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছে। যেখানে ২০২২ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে প্রস্তুতি ক্যাম্প করা অনেক বেশি কিছু পাওয়া। হয়তো রাতারাতি কিছু হবে না, তবে সময়ের অপেক্ষা করতে হবে। যেভাবে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, তাতে ভলো কিছুর আশা করাই যায়।

Disconnect