ফনেটিক ইউনিজয়
গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমস
শুটিং ছাড়া সবকিছুতেই ব্যর্থতা
তারিক আল বান্না

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে কমনওয়েলথ গেমসে একমাত্র শুটিং থেকেই পদক আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা। নিরাশ করেনি শুটিং। একরাশ হতাশার মাঝে আশার আলো ছড়ালেন আব্দুল্লাহ হেল বাকি। গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে দেশকে প্রথম পদক উপহার দিলেন বিকেএসপির এই সাবেক ছাত্র। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রুপা জিতে নিজের রেকর্ড ধরে রাখলেন আব্দুল্লাহ হেল বাকি। এর আগে ২০১৪ গ্লসগো কমনওয়েলথ গেমসেও রুপা জিতেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ কমনওয়েলথ গেমসে এখন পর্যন্ত সাতটি পদক জিতল। আর এ সাত পদকই এসেছে শুটিং থেকে। শুটিং ছাড়া বাংলাদেশ  প্রতিটি ইভেন্টেই ব্যর্থ হয়েছে।   
১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেন আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও রাব্বী হাসান মুন্না। কিন্তু বাছাই পর্বে বাদ পড়েন মুন্না। বাছাইয়ে ষষ্ঠ হয়ে ফাইনালে ওঠেন বাকি। শেষ শটে অস্ট্রেলিয়ার স্যাম্পসন ৯.৩ পয়েন্ট স্কোর করায় বাকির সোনা জেতার সম্ভাবনা ভীষণ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শুধু শেষ শটে বাকি ১০.১ স্কোর করলেই ১৬ বছর পর স্বর্ণ জিতত বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলেন না বাকি। মারলেন ৯.৭ পেয়েন্ট। ইভেন্টটিতে সব মিলিয়ে তার স্কোর ২৪৪.৭। আর ২৪৫.০ স্কোর করে সোনা জেতেন স্যাম্পসন।

বাংলাদেশের অন্য খেলোয়াড়রা ব্যর্থ
বাকি সফল হলেও মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে বাছাই পর্ব পার হতে পারেননি বাংলাদেশের আরমিন আশা ও আরদিনা ফেরদৌস। অ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটার ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন দেশের দ্রুততম মানব মেজবাহ আহমেদ ও দ্রততম মানবী শিরীন আক্তার। ছেলেদের ইভেন্টে ষষ্ঠ হিটে অংশ নিয়ে সাত প্রতিযোগীর মধ্যে পঞ্চম হন মেজবাহ। ৬৭ জন প্রতিযোগীর মধ্যে হয়েছেন ৫৩তম। মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম হিটে অংশ নেন শিরীন। সাত প্রতিযোগীর মধ্যে হন ষষ্ঠ। আর মোট ৪২ জনের মধ্যে তার অবস্থান ৩৮তম।
ভারোত্তোলনে মেয়েদের ৫৮ কেজি ওজন শ্রেণিতে ১৪ প্রতিযোগীর মধ্যে ১৩তম হয়েছেন ফায়েমা আক্তার। মেয়েদের ৫৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে ১২ প্রতিযোগীর মধ্যে সবার শেষ স্থানটি পান ফুলপতি চাকমা। ছেলেদের ৬৯ কেজি ওজন শ্রেণিতে শিমুল তিনবারের প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন। মেয়েদের ৬৩ কেজি ওজনশ্রেণিতে ১১ জনের মধ্যে ষষ্ঠ হয়েছেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। মেয়েদের ভারোত্তোলনে ৭৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের জহুরা খাতুন। স্নাযাচে ৬৫ কেজি আর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৯০ কেজি তোলেন তিনি।
সাঁতারে ছেলেদের ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকের হিট থেকে বাদ পড়েছেন আরিফুল। ১০০ মিটার বাটারফ্লাই সাঁতারের ২ নম্বর হিটে অংশ নিয়েছিলেন মাহমুদুন্নবী নাহিদ। সেখানে আট প্রতিযোগীর মধ্যে হয়েছেন ষষ্ঠ। সাঁতারে মেয়েদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ৩২.৯৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে নাজমা খাতুন ২৯ প্রতিযোগীর মধ্যে ২৮তম হয়েছেন। ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে হিটে ৫৪ প্রতিযোগীর মধ্যে ৩৮তম হয়েছেন মাহমুদুন্নবী নাহিদ।
মূলত অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রতিবারই কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে। কিন্তু শুটিং ছাড়া সব ইভেন্টেই ব্যর্থ বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা।

Disconnect