ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
আমাদের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপ খেলা

চার জাতির জকি গার্লস ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ফুটবলে স্বাগতিক হংকংকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দল। তাদের ঘিরে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের সঙ্গে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

আরও একটি সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দল। বাফুফে নিশ্চয়ই খুশি কিশোরীদের এমন পারফরম্যান্সে?
আমরা অবশ্যই খুশি। একটি টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতলে এটাকে বড় সাফল্য হিসেবেই ধরা হয়। আমরা চেয়েছিলাম টুর্নামেন্টটিতে যেন বাংলাদেশ ভালো খেলে। আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।

বাছাই ফুটবলেও শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এবারের আসরটি অনেক দিক থেকেই আলাদা বলা হয়ে থাকে?
বাংলাদেশ এবারের আসরে মালয়েশিয়া, ইরান ও হংকংয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আগে খেলার রেকর্ড ছিল না। সে কারণে প্রথম ম্যাচটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেটি জেতার পরই আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে যায়। এরপর ইরানের বিরুদ্ধে জয়ের পর ফাইনালের জন্য খুব টেনশন করিনি। তবে স্বাগতিক হংকংয়ের বিপক্ষে জয়টা তাই স্বাভাবিক মনে হয়েছিল।

বাংলাদেশের মেয়েরা এখন ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ে ১০২ আর এশিয়ায় ২৪ নম্বর অবস্থানে। এখন র‌্যাংকিং একটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে?
এটা তো অবশ্যই। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি করছে। চেষ্টা করছি যাতে সামনের দিনগুলোয় আরও ভালো করা যায়। বয়সভিত্তিক দলের পাশাপাশি এখন জাতীয় দলের জন্য বড় সাফল্যের প্রয়োজন রয়েছে। সেই সাফল্য ভবিষ্যতের জন্য বড় স্বপ্নবান করে তুলবে দেশের ফুটবলকে।

প্রথম ফুটবলার হিসেবে মালদ্বীপের লিগ খেলার পর এবার সাবিনার সঙ্গে কৃষ্ণা রানী খেলছেন ভারতে। বিষয়টি দেশের ফুটবলের জন্য কতটা ইতিবাচক?
এটা অনেক বড় অর্জন। এছাড়া ভারতে লিগ খেলে ভালো অংকের অর্থ পাওয়ার কথা দুজনের। সাবিনা ও কৃষ্ণা ভালো খেললে ভবিষ্যতে আরও অনেকের সুযোগ ঘটতে পারে। মেয়েদের ফুটবলে যারা খেলছে, তাদের বেশির ভাগই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা। সে কারণে জাতীয় দলে খেলা খেলোয়াড়দের কিছু অর্থ দেয়া হয়। আর বিদেশে খেলে তারা যা পায়, সেটা দিয়ে কিছুটা হলেও অভাব দূর হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনকাকাফ গোল্ডকাপে খেলার চেষ্টা করছেন। বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে?
কনকাকাফ অঞ্চলে মেয়েদের গোল্ডকাপে খেলা অনেক কঠিন। শুরুতে ১ লাখ ডলার দিয়ে নাম এন্ট্রি করতে হয় । এরপর তারা যদি মনে করে বাংলাদেশকে নেবে তবেই হবে, নয়তো নয়। আমরা চেষ্টা করছি। সেখানে খেলতে পারলে মেয়েরা আরও এগিয়ে যেতে পারবে। বাফুফে মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ অনূর্ধ্ব-২০ দলকে নিয়ে বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে আশাবাদী। আমাদের কার্যক্রমও সেভাবেই পরিচালনা করছি।

কোচ হিসেবে গোলাম রব্বানী ছোটন ও মাহবুবুর রহমান লিটু শুরু থেকেই রয়েছেন। তাদের বিকল্প কোচের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে?
বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলে দুই কোচ ছোটন ও লিটুর অবদান অনেক। তারা রাতদিন পরিশ্রম করে এ দলটাকে নিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছেন। আর উঁচু মানের কোচ পল স্মালি জাতীয় দলের সাথে রয়েছেন। চেষ্টা করছি আরও কিছু কোচ উঠিয়ে আনতে। তবে তাদের বাদ দিয়ে নয়।

দল নিয়ে ফেডারেশনের বড় কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?
আমরা তো পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছি। প্রায় সারা বছরই খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে রাখছি। তারা পরিশ্রম করে নিজেদের গড়ে তুলছে ভবিষ্যতের জন্য। জাতীয় দল নিয়ে; যেমন জাতীয় দলের বাইরেও কয়েকটা দল নিয়ে চিন্তা করছি। সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই বিশ্বাস করি।

Disconnect