ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
ভলিবলে আমরা ভালো সময়ের অপেক্ষায়

২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সিনিয়র পুরুষ সেন্ট্রাল ভলিবলের শিরোপা জিতলেও এবার রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। খেলাটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

২০১৬ সাল ফিরে এল না ২০১৮ সালে। ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। দলের পারফরম্যান্সে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?
অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। শিরোপা জিততে ছেলেরা প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। আমি তো ফাইনালে খেলতে পারাতেই খুশি হয়েছি। খেলোয়াড়রা পরাজয়ের পর বেশ বিমর্ষ হয়ে পড়েছিল। আমি কোর্টে নেমে তাদের সান্ত¡না দিয়েছি। ২০১৬ সালের মতোই কিন্তু আমরা এবারও শুরু করেছিলাম। কিন্তু প্রতিবারই আপনি চ্যাম্পিয়ন হবেন, এমন ধারণাও তো ঠিক না।

শিরোপা না জেতার কারণে কি খেলাটির যে পুনর্জাগরণ শুরু হয়েছিল, সেটা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হবে?
এমনটি ভাবার কারণই নেই। ভলিবল গ্রামবাংলার মানুষের প্রাণের খেলা। যতেœর অভাবে খেলাটি যতদূর এগোনোর কথা ছিল, ততদূর এগোতে পারেনি। আমি ফেডারেশনের সভাপতি হওয়ার পর কখনও চিন্তাও করতে পারিনি, আন্তর্জাতিক ভলিবলের শিরোপা জিততে পারবে বাংলাদেশ। এটা সম্ভব হয়েছে সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। ভলিবলের পুনর্জাগরণ হুমকির মুখে, এমন কথা যারা বলেন, তারা একটু ভেবে বলবেন। একটা টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না।

আপনি ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতি হওয়ার পর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আর কী কী পরিকল্পনা রয়েছে ভবিষ্যতে?
আপনাকে একটা লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। র‌্যাংকিংয়ের কথা বললে বলতে হবে, যখন ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করি, তখন বিশ্বে আমাদের অবস্থান ছিল ১৬৭তম। সেটি দুই বছরে নেমে এসেছে ১৩৭-এ! এছাড়া ভলিবল স্টেডিয়ামকে  আন্তর্জাতিক মানের করা হবে। স্টেডিয়াম হবে। খেলাটিকে জনপ্রিয় করতে প্রিমিয়ার লিগের আয়োজন করতে যাচ্ছি আমরা।

ভলিবল প্রিমিয়ার লিগ বাংলাদেশে এখনো হয়নি। আপনারা কীভাবে করছেন, কবে নাগাদ মাঠে নামতে পারে?
ভলিবল প্রিমিয়ার লিগ (ভিপিএল) নিয়ে আমাদের একটা টিম কিন্তু বেশ কয়েক মাস ধরেই কাজ করছে। আমরা চাইছি আটটি বিভাগকে নিয়ে এ লিগের আয়োজন করতে। যেহেতু প্রথমবার তাই কিছুটা সময় তো লাগতেই পারে। চেষ্টা করছি যাতে আগামী ডিসেম্বরে এটিকে মাঠে গড়ানো যায়। এ লিগ দিয়ে খেলোয়াড়দের আর্থিক অবস্থার বড় রকমের পরিবর্তন হবে বলে আশা করি। যাতে নতুন প্রজন্মের একটা অংশকে খেলাটির প্রতি টান বাড়িয়ে মাঠমুখো করা যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছি। তিনি বাংলাদেশে লম্বা খেলোয়াড়ের সংকটের কথা বলেছেন ও উৎসাহ দিয়েছে।

বাংলাদেশের কোচ হিসেবে আলী পোর ভালো করেছিলেন। ইরানে খেলোয়াড়রা ২১ দিনের অনুশীলন ক্যাম্প করেছে।
ইরান বিশ্ব ভলিবলের এখন ৬ নম্বর দেশ। তবে গতবারের চেয়ে এবারের দলগুলো আরও বেশি শক্তিশালী ছিল। গতবারের কিরগিজস্তানের সঙ্গে এবার তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান থাকবে। সাবেক সোভিয়েতের এ দলগুলো সবসময়ই শক্তিশালী। তারা যতটা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যস্ত থাকে, বাংলাদেশ তো তা থাকতে পারে না। এছাড়া গত বছর অধিনায়কত্ব করা দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সাঈদ আল জাবিরকেও না পাওয়াও দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে।

এতকম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে সাফল্য পাওয়া বেশ কঠিন। ভবিষ্যতে দেশে ও বাইরে আর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে?
আমাদের সবকিছুই খেলোয়াড়দের নিয়ে। কোর্টে দল সাফল্য না পেলে কোনোভাবেই উন্নতি সম্ভব নয়। বছরে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে কিন্তু উপরে ওঠা যায় না সেটা বুঝি। সেরা হতে হলে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হবে। যত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবেন, আপনি তত বেশিই শিখবেন। দেশ ও দেশের বাইরে গিয়ে খেলতে হবে। শক্তিশালী দেশগুলোর বিপক্ষে খেলতে হবে। তাহলেই উন্নতি হবে, আমরাও সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

Disconnect