ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
প্রতিপক্ষের টেকনিকের কাছে পরাজিত হচ্ছি

কুস্তিতে এখন আলোকিত নাম শিরিন সুলতানা। দেশের প্রথম নারী কুস্তিগির হিসেবে খেলেছেন কমনওয়েলথ গেমসে।  খেলার বিভিন্ন বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ গেমসে খেললেও পদকের দেখা পাননি। নিজের পারফরম্যান্সে হতাশ, নাকি আশান্বিত?
পদক জয়ের আশা নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার গোলকোস্টে গিয়েছিলাম। একটা ম্যাচ জিতলেই পদক জিততে পারতাম। অর্জনটা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় প্রাপ্তি হতো। বিদেশে দেশের পতাকা ওড়ানোর সুপ্ত ইচ্ছা পূরণ না হওয়ায় হতাশ হয়েছি। তবে ছয়-সাত মাস অনুশীলন করে আপনি পদকের আশা করতে পারেন না। যে দেশগুলো এবার কমনওয়েলথে অংশ নিয়েছে, প্রায় সব দেশই কম-বেশি তিন-চার বছর অনুশীলন করেছে। সে হিসাবে আমরা পিছিয়ে।

প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণে প্রাপ্তির কথা বললে কী বলবেন?
বড় আসরে কীভাবে সাহস নিয়ে খেলতে হয়, সেটা শিখেছি। আমার চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। দেশে মোহাম্মদ আশরাফ আলী ভালোমানের কোচ। তবে বিদেশের কাউকে পেলে ভালো হতো। এবারের আসর খেলে আরেকটি বিষয় নিশ্চিত হয়েছি তা হলো, প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আমরা কিন্তু পরাজিত হচ্ছি প্রতিপক্ষের টেকনিকের কাছে। আর বড় আসরে খেলার আগে বিদেশি কোচের অধীনে দীর্ঘমেয়াদে ট্রেনিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।

কুস্তিতে প্রতিভা অন্বেষণেরও বেশি ব্যবস্থা নেই। ফেডারেশন এ রকম কিছু করছে?
যতদূর জানি, ফেডারেশনকে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। তবুও তাদের চেষ্টার অভাব নেই। সর্বশেষ বাংলাদেশ যুব গেমস থেকে কিছু খেলোয়াড় পাওয়া গেছে। এ খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি আশাবাদী। যুব গেমস থেকে যে সাড়া পড়েছে, সেটাকে ধরে রাখতে হবে। আর সার্ভিসেস দলগুলো যদি এ খেলোয়াড়দের চাকরির ব্যবস্থা করে, তবে আরও খেলোয়াড় উঠে আসবে। ধীরে হলেও এ ব্যবস্থা চালু থাকলে তা কুস্তির জন্য মঙ্গলজনক হবে।

কখনও মনে হয়েছে কুস্তিতে এসে ভুল করেছেন?
একবারের জন্যও মনে হয়নি। কুস্তি থেকে শিরিনের অর্জনও কোনো অংশে কম নয়। আর গ্ল্যামারের বিষয়টি ভিন্ন। এখানে মিডিয়ার সাপোর্ট না পেলে তা সম্ভব না। আমি চেষ্টা করছি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলের মতো তারা প্রো-কুস্তিও চালু করেছে। আমরা করছি না। তাদের ধারেকাছেও যেতে পারছি না। তাহলে কীভাবে বড় সাফল্যের প্রত্যাশা করেন।

অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন তো সবারই থাকে। আপনার এ স্বপ্ন কি পূরণ হবে?
অলিম্পিকে খেলতে পারলে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হবে। আসলে ছোট ছোট অনেক অর্জনই করেছি। প্রথম মেয়ে খেলোয়াড় হিসেবে এসএ গেমসে খেলেছি। ইন্দো বাংলা, এশিয়ান ইনডোর অ্যান্ড মার্শাল আর্ট গেমস ও ইসলামিক সলিডারিটি গেমসেও খেলেছি। এবার প্রথম মেয়ে হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসেও খেলেছি। অলিম্পিকে সুযোগ পেলে সেটা হবে মেয়েদের মধ্যে প্রথম কোনো অর্জন। পাশাপাশি কুস্তিতে লেভেল টু কোর্স করেছি। চাইছি ভবিষ্যতে খেলোয়াড় তৈরির কাজটি করতে।

কুস্তিতে অনেক সাফল্যই পেয়েছেন। সেগুলো নিয়ে একটু বলেন।
আত্মরক্ষার খেলা হিসেবেই কুস্তিতে এসেছিলাম। ২০০৯ সাল থেকে জাতীয় আসরে স্বর্ণ পাওয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ জাতীয় মহিলা কাবাডিতেও খেলেছি। তিনবারই সেরা হয়েছি। এছাড়া উশুতে ২০১০, ২০১১ ও ২০১৫তে জাতীয় আসরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আসরেও খেলেছি। ২০১০ সালের ইনচন এশিয়ান গেমসে উশুতে অংশ নিয়েছিলাম। ২০১০-১৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় নৌকাবাইচে অংশ নিয়েছি। গত বছর আজারবাইজানের বাকুতে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে চতুর্থ হয়েছিলাম। ২০১৬ সালে এসএ গেমসে প্রথমবার অংশ নিয়ে রৌপ্যপদক জয় করি। আর ২০১২ সালে ইন্দো বাংলা গেমসে প্রথম স্বর্ণপদক পাই।

Disconnect