ফনেটিক ইউনিজয়
আফগান মিশনে টাইগারদের ভরাডুবি
মনিরুল ইসলাম
আফগানদের সিরিজ জয়ের উল্লাস
----

আগেই নিশ্চিত ছিল, আফগানদের বিপক্ষে সিরিজটা খুব সহজ হবে না টাইগারদের জন্য, টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিং ছিল যার প্রমাণ। র‌্যাংকিং ছাপিয়ে আফগানিস্তানের শক্তিশালী বোলিং বিভাগের বিপক্ষে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের লড়াইটাই ছিল এ সিরিজের মূল বিষয়। কিন্তু তিন ম্যাচের সিরিজে টানা দুই ম্যাচে জিতে ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে আফগানিস্তান। প্রথম ম্যাচে ১৬৭ রান করে ৪৫ রানের জয় পায় আফগানরা। ৬ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করে ৭ বল আগেই ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।  
সিরিজের প্রথম ম্যাচে আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খানের ঘূর্ণি এতটাই রহস্যের জাল বিছাল, যে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সেটিতে আটকে পড়ে শুধু হাঁসফাঁসই করলেন! দেরাদুনের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪৫ রানে হেরে সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ।
ম্যাচের প্রথম দিনে নির্ধারিত ওভারের ২ উইকেট হাতে রেখেই আফগানরা তুলে নেয় ১৬৭ রান। জবাব দিতে নেমে আফগানিস্তানের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। শেষ পর্যন্ত ১ ওভার হাতে রেখেই লজ্জার হার হয় বাংলাদেশের। ১২২ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।
সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ দল। সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন ওপেনার তামিম ইকবাল। এছাড়া ২২ রান করেন মুশফিকুর রহিম। ১৪ বলে ২১ রান করেন আবু হায়দার রনি। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই দলের জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন সামিউল্লাহ সেনোয়ারি।
প্রথম ম্যাচে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। ট্রফির লড়াইয়ে ফেরার ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে যায় বাংলাদেশ দল। আর আফগান জয়ের নায়ক সেই রশিদ খান। এক রশিদ খানের স্পিন ভেলকিতে কুপোকাত হয়ে পড়ে সাকিবরা। সিরিজ শুরুর আগে টাইগাররা বলেছিলেন, রশিদ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন! কিন্তু সেই রশিদ খানের গুগলিতেই শেষ সব স্বপ্ন। প্রথম ম্যাচে ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক রশিদ। দ্বিতীয় ম্যাচে তার এক ওভারেই জোড়া শিকার সাকিব ও তামিম।
মূলত দেরাদুনের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামকে আফগানিস্তান ব্যবহার করছে নিজেদের ‘হোম গ্রাউন্ড’ হিসেবে। প্রায় ২০ হাজার দর্শককে সাক্ষী রেখে তারা টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো হারিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। তাই পরবর্তীতে জয়ের মুখ দেখতে সাকিবদের বাড়তি নজর প্রয়োজন। এ কারণেই অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘আসলে আরও অনেক দিকেই নজর দিতে হবে আমাদের। নিজেদের খেলায় আরও অনেক উন্নতি করতে হবে। মানতে দ্বিধা নেই, ওরা ভালো দল। ভালো দলের মতোই ব্যাটিং-বোলিং করেছে, ফিল্ডিংয়েও আমাদের ছাড়িয়ে গেছে। সব বিভাগেই আমরা উড়ে গেছি বলা যায়।’

Disconnect