ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
‘আমাদের সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে’

আলো ছড়িয়ে ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক রুবেল হোসেনের। নিজের ক্যারিয়ার, ক্রিকেটের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এ পেসারের সঙ্গে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট ক্রিকেটে আপনার অভিষেক। প্রায় ১০ বছরে টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট?
সেভাবে বললে সন্তুষ্ট বলা যাবে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ২০০৯ সালে একবার বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ জিতেছিল। আমি সেই দলে ছিলাম, অভিষেকও হয়েছিল সেই সিরিজে। প্রথম টেস্টে ৩ উইকেট নেয়ার পর এখন পর্যন্ত ২৫ টেস্টে মোটে ৩৩ উইকেট আমার অর্জন। নয় বছরে এটাকে সফল বলা যায় না। টেস্টে আমার বোলিং গড়ও বেশ খারাপ ৭৯! সে হিসাবে টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্ট নই। আমার নামের পাশে ৭০/৮০ উইকেট লেখা থাকলে বেশি খুশি হতাম।

সামনে আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। এবার কী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন?
লক্ষ্যটা একই থাকে। ২০০৯ সালে যেমন পারফর্ম করেছিলাম, এবার সেরকমই করতে চাই। ব্যক্তিগতভাবে দলকে জেতানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল হিসেবে খারাপ না। যদিও তারা সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। বাছাই পর্বের গণ্ডি পেরিয়ে সুযোগ পেয়েছে। ফাইনালে আফগানিস্তানের কাছে হারটাও আমাদের মনে আছে। সব মিলিয়ে নয় বছর আগের সাফল্য এবারও ফিরিয়ে আনতে চাই।

প্রায় ১০ বছর হতে চলল জাতীয় দলে। রানআপ কমিয়ে এখন ভালো বল করছেন। নিয়মিত খেলাটা তো এখনও চ্যালেঞ্জ?
আমার কাছে প্রতিটা দিনই চ্যালেঞ্জের মনে হয়। ভালো আর খারাপ মিলে জাতীয় দলে খেলে যাচ্ছি। এখনও আমার কাছে চ্যালেঞ্জটা নিয়মিত টেস্ট খেলা, যার জন্য নিজেকে ফিট রাখছি। কারণ টেস্টে নিজেকে ফিট না রাখলে দীর্ঘ সময় বল করা কঠিন, খেলাও যায় না সেভাবে। মাঝখানের কিছুটা সময় অসুস্থ ছিলাম। এখন মাঠে ফিরে প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত রাখছি, যেন সামনের টেস্ট সিরিজ দলে সুযোগ পাই। আপাতত এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

নাকাল বল নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ করছেন। এ বলে সাফল্য কতটা পাওয়া যায়?
পেস বোলাররা এখন বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছেন। এতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেমন এবার আইপিএলে পেসাররা বেশি ‘নাকাল’ বল করার চেষ্টা করছেন। আমি গত বছর নিউজিল্যান্ড সফরে দু-একটা ডেলিভারির  চেষ্টা করেছি। ভালোই হয়েছিল সেগুলো। তবে এক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের দরকার হয়। এ নিয়ে আমার আরও কাজ করতে হবে। আশা করি সফল হব।

সামনের বছরই ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ। এবার লক্ষ্য কী রয়েছে?
এবার বিশ্বকাপ নিয়ে প্রত্যাশা একটু বেশি। ইংল্যান্ডে এর আগে অনেক ম্যাচ  খেলেছি। সেখানে ভালো স্মৃতিও আছে। যদি সুস্থ থাকি এবং বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাই, অবশ্যই ভালো খেলার চেষ্টা করব। ইংল্যান্ডে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অনেক রান হয়েছে। আগামী বিশ্বকাপেও তেমনটা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই আমাদের সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

Disconnect