ফনেটিক ইউনিজয়
স্বপ্নের শিরোপায় সালমাদের ইতিহাস
তারিক আল বান্না
শিরোপা ট্রফিসহ বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল
----

ইতিহাস গড়লেন সালমারা। এশিয়া কাপ কিংবা এ ধরনের কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসরে বাংলাদেশ কখনও শিরোপা লাভ করেনি। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল বীরদর্পে প্রমাণ করল, তারা এখন এশিয়ার সেরা দল। ১০ জুন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে স্বপ্নের ট্রফি জিতল রোমানাদের দল।
এশিয়া কাপের আগের ছয় আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত সেই দলকে ৩ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সুবিধাবঞ্চিত বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। সেদিনের ফাইনাল ম্যাচে ছিল টান টান উত্তেজনা। শুরুতে সালমার টস জয়ে ভাগ্যদেবী যেন ঘোষণা দেন, দিনটি বাংলাদেশের। প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য দারুণ কাজে দেয়। মাত্র ৩২ রানে ভারতের প্রথম চার উইকেট তুলে নেন সালমারা। এরপর ভারতীয় অধিানয়ক হারমিনপ্রিত ও ভেদা কৃষ্ণামূর্তির জুটিতে আসে ৩০ রান। এরপর আবার আঘাত হানেন রোমানারা। মুহূর্তেই ভারতের স্কোর হয়ে যায় ৭ উইকেটে ৭৪। একাই লড়াই করেন হারমিন। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ৫৬ রান। ফলে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ভারত করে ১১২ রান। রোমানা ও খাদিজা দুটি করে উইকেট নেন।
জবাবে শুরুটা ভালো করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার মিলে যোগ করেন ৩৫ রান। পরপর দুই বলে দুজনের উইকেট হারিয়ে কিছুটা পাড়ে পড়ে দল। ৫৫ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনের পর নতুন করে জুটি বাঁধেন নিগার সুলতানা ও রোমানা আহমেদ। এ দুজনের ব্যাট আশা জাগাচ্ছিল নিশ্চিত জয়ের। তবে দলীয় ৮৩ রানে আউট হন নিগার। দলীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর ৯৬ রানে ফাহিমা খাতুন সাজঘরে ফিরলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে রোমানার দক্ষ ব্যাটিং বাংলাদেশকে নিয়ে যায় শেষ ওভারের সমীরণে। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২৩ রান। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১১৩ রান করে টিম টাইগ্রেসরা জিতে নেন এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব। অল রাউন্ড পারফম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন রোমানা।
এর মধ্য দিয়েই শিরোপাজয়ী অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম উঠে গেছে সালমা খাতুনের। তাই তার আনন্দটা একটু বেশি। বলেন, ‘অনেক খুশি লাগছে যে, প্রথমবারের মতো আমরা এশিয়া কাপ জিতেছি। এটা আসলে বলে বোঝাতে পারব না। আত্মবিশ্বাস ছিল। ভারতের বিপক্ষে লিগ ম্যাচটা আমরা জিতেছিলাম। ফাইনাল ম্যাচে আমাদের টার্গেট ছিল ভালো কিছু করব। আমাদের পাওয়ার অনেক কিছু ছিল, যা আমরা পেয়েছি।’
তবে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা বিশ্বের অন্য সব দলের তুলনায় কম সুযোগ-সুবিধা পান। কিন্তু তাদের সঠিক সুবিধা দিলে আরও বড় কিছু অর্জন সম্ভব। সেটা বিশ্বকাপ ট্রফি হতে পারে। তাই রেকর্ড গড়া এ জয়ে দেশের নারী ক্রিকেটের চিত্রটাও নতুন করে আঁকতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। দূর করতে হবে বেতনবৈষম্য। বড় রকমের বোনাসও থাকতে পারে।

Disconnect