ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
‘আসরে ব্রাজিল অনেক এগিয়ে যাবে’

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে মেতেছেন জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার কায়সার হামিদ। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

আপনি তো ব্রাজিলের সমর্থক। এ আসরে প্রিয় দলের খেলায় আপনি কতটুকু সন্তুষ্ট?

শুরুর দিকে ব্রাজিল যেভাবে খেলছে, তাতে বেশি খুশি হতে পারিনি। প্রথম ম্যাচে দলটি সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করে। পরের ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে জেতে, তবে গোলগুলো করে নির্ধারিত সময়ের পর। গ্রুপের শেষ ম্যাচ জয় করে নকআউট পর্বে যায় নেইমাররা। তবে  পুরনো ব্রাজিলকে খুঁজে পাওয়া যায় সেরা আটের লড়াইয়ে। মেক্সিকোর সঙ্গে দুর্দান্ত লড়াই করে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

২০১৪ বিশ্বকাপের আসরটি নিজ দেশে অনুষ্ঠিত হলেও সেমিফাইনালে থেমে যায় দলটির যাত্রা। এবার কতদূর যেতে পারে বলে মনে করেন?
ব্রাজিলের মতো দল সবসময়ই ফেভারিটের তকমা নিয়ে খেলতে নামে। চার বছর আগে দেশের মাটিতে খেলার কারণে বেশি আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু সেমিফাইনালে জার্মানির বিরুদ্ধে তাদের অসহায় আত্মসমর্পণ মেনে নিতে পারিনি। এবার চেয়েছিলাম  জার্মানির সঙ্গে আবার ম্যাচ হোক। সেটা তো আর হলো না। তবে এ আসরে ব্রাজিল অনেকটা এগিয়ে যাবে।

এবারের বিশ্বকাপে সবার চোখ মেসি, নেইমার আর রোনালদোর ওপর ছিল। প্রথম পর্ব পর্যন্ত খেলায় কাকে বেশি ভালো লেগেছে?
তাদের তিন জনের দলই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। রোনালদোর দলও শেষ ষোলোতে খেলেছে। তিনজনের মধ্যে রোনালদোর খেলা বেশি ভালো লেগেছে। বিশেষ করে স্পেনের বিরুদ্ধের খেলাটা বিমোহিতকর ছিল। দলের তিনটি গোলের সবই এসেছিল তার পা থেকে। সে হিসেবে মেসি ও নেইমারের খেলা আমাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। তবে নেইমার এখন ভালো খেলছেন।

এর বাইরেও অনেকেই আলো ছড়াচ্ছেন। তাদের কেমন মনে হয়েছে?
আমি অনেকের খেলাই দেখেছি। তাদের মধ্যে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, বেলজিয়ামের রুমেলো লুকাকু, রাশিয়ার চেরিশেভ, স্পেনের দিয়াগো কস্তারাও রাশিয়া বিশ্বকাপে আলোর মশাল জ্বালিয়ে রেখেছেন পায়ের জাদুতে। রোনালদো তার নামের প্রতি সুবিচার করলেও শেষ পর্যন্ত নকআউট পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। তবে এ আসরে তার খেলা দর্শক মনে রাখবে অনেক দিন।  

আর্জেন্টিনা সেরা ষোল থেকে বিদায় নিয়েছে। অনেকেরই আশা ছিল, অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাবে মেসিরা। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। দল হিসেবে আর্জেন্টিনার খেলা কেমন লেগেছে?
দল হিসেবে বিবেচনা করলে আর্জেন্টিনাকে সফল বলা যাবে না। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে লিওনেল মেসির দল কোনো রকমে পার হয়েছে। দলটি পুরোপুরি পরিপক্ব না হওয়ার  প্রমাণ দিয়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে একটি দল ভালো করতে পারে সেটার প্রমাণ মেসি, ডি মারিয়া, রোহো, মাসচেরানোরা দিলেও শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারলেন না তারা, এটি দুঃখজনক।

Disconnect