ফনেটিক ইউনিজয়
গর্জে উঠল বাংলাদেশ
তারিক আল বান্না
ছক্কা মারছেন শেষ ম্যাচের জয়ের নায়ক লিটন দাস
----

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে টাইগারদের নিয়ে আশঙ্কা ছিল অনেক। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, তার প্রমাণ তারা দিল এই সফরে। টেস্ট সিরিজের বেদনাদায়ক হার ছাড়া পুরো সফরটাই ছিল সাফল্যের। ওয়ানডে ও টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশকে বিশে^র সব দল সমীহ করবে, সেটা বলাই যায়।
ওয়ানডে সিরিজ লাভ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবারের সফরের প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এরপর টি২০ সিরিজও জিতে নেয় টাইগাররা। ক্রিকেটের ছোট সংস্করণে সাকিব-তামিমরা দাপটের সঙ্গেই উড়িয়ে দেয় বর্তমান বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ক্যারিবীয়দের। সিরিজের শেষ ম্যাচে ১৯ রানের জয় পায় সফরকারী বাংলাদেশ। এতে ছয় বছর পর বিদেশের মাটিতে টি২০ সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল তারা।  
সিরিজের শেষ ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ১৮৫ রানের লক্ষ্য দেয় সফরকারীরা। জবাবে ১৭ ওভার ১ বলে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। পরে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে দুটিতে জয় নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে সফরকারীরা। বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় টি২০ সিরিজ জয়। আগের সিরিজ জয়টি ছিল ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডে।

পারফরম্যান্সের প্রশংসায় সাকিব : তৃতীয় ম্যাচ শেষে ‘সিরিজসেরা’ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, ‘ছেলেদের কাছ থেকে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সই পেয়েছি। প্রথম ম্যাচ হারের পর আমরা সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছি। সবার বিশ্বাস ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হয়েছি এবং সেরা পারফরম্যান্সই প্রদর্শন করেছি।’ নিজের পারফরম্যান্সেও খুশি সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয়, পুরো সিরিজেই আমি ভালো ব্যাট করেছি, যা আমাকে ভালো বোলিং ও ভালো অধিনায়কত্ব করতে সহায়তা করেছে।’

তৃতীয় ম্যাচের নায়ক লিটন : লিটন কুমার দাস মাত্র ৩২ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছয়ে ৬১ রান করেন। অসাধারণ ব্যাটিং, যার স্ট্রাইক রেট ১৯০.৬২। লিটনের অনবদ্য ব্যাটিং বাংলাদেশকে বড় স্কোরের দিকে পৌঁছে দেয়। বলা যায়, ম্যাচের নায়ক তিনি। যার স্বীকৃতি হিসেবে বিচারকদের বিবেচনায় ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।

মোস্তাফিজের অনবদ্য বোলিং : ফ্লোরিডায় তৃতীয় টি২০ যেন নিজের চেহারাতেই ধরা দিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা আন্দ্রে রাসেলকে ফিরিয়ে দলের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন মোস্তাফিজ। ফিরিয়েছেন আন্দ্রে ফ্লেচার ও রোভম্যান পয়েলকেও। এ ৩ উইকেট পেতে মোস্তাফিজ খরচ করেন ৩১ রান।

টি২০তে বাংলাদেশ : ২০১২ ও ২০১৬ সালের টি২০ বিশ^কাপ চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেখানে বাংলাদেশের সেরা পারফরম্যান্স ২০০৭ সালে সুপার এইটে ওঠা। সেই বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল। এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৯টি ম্যাচ খেলে। এর মধ্যে ৪টিতে জিতেছে, হেরেছে ৪টিতে, অন্য ম্যাচটি ফলহীন।

এক নজরে এবারের সফর : বাংলাদেশ প্রথমে টেস্ট সিরিজে বাজে পারফরম্যান্স করে ০-২ ব্যবধানে হেরে যায়। এরপর ওয়ানডে সিরিজে প্রথম ম্যাচে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে শঙ্কায় পড়ে। তবে শেষ ম্যাচে দারুণ খেলে জয় নিয়ে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করে মাশরাফির দল। সবশেষে টি২০ সিরিজের সূচনাটা ভালো হয়নি। প্রথম ম্যাচে হেরে যায় বাংলাদেশ। অবশ্য পরের দুটি ম্যাচেই জিতে সফল সফর শেষেই দেশে ফিরছে টাইগাররা।

Disconnect