ফনেটিক ইউনিজয়
‘ওয়ানডেতে বাংলাদেশ অন্যরকম দল’

বাংলাদেশের ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরি করেন মেহরাব হোসেন অপি। খেলেছেন অভিষেক টেস্টেও। ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জাতীয় দলের সাবেক এ খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

দেশের বাইরে নয় বছর পর আবার সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। আপনি কী বলবেন?
ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সবসময়ই অন্যরকম দল। বিশেষ করে ২০১৫ সালে বিশ্বকাপের সময় থেকেই সমীহ জাগানো দলের তকমাটা নিজেদের করে নিয়েছে। বিদেশের মাটিতে খুব বেশি খেলার সুযোগ ঘটেনা এ দেশের। সে কারণেই সিরিজ জয়টা নয় বছরের ব্যবধানে পেয়েছে তারা।

টেস্ট সিরিজে বাজে ক্রিকেট খেলেছিল বাংলাদেশ। দুই টেস্টের চার ইনিংসে একটিতেও ২০০ রান করতে পারেনি। তবুও ওয়ানডে সিরিজে ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে।
টেস্টের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়েছিলাম। এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি২০ সিরিজের সব ম্যাচ হারাটাও প্রত্যাশা ছিল না। এরপরই টেস্ট সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে এমনভাবে হারাটা স্বাভাবিক মনে হয়নি। তবে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতবে, সে বিশ্বাসটা ছিল।

টেস্টে বাজেভাবে পরাজয়ের কারণ কী বলে মনে করেন?
আসলে বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ খেলে অনেকদিন বিরতি দিয়ে। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোটাও টেস্টের জন্য সহায়ক নয়। পাশাপাশি আমার কাছে মনে হয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার আগে টেস্টের প্রস্তুতিটা আমরা ঠিকভাবে নিতে পারিনি। ওরা ফাস্ট বোলারদের সহায়ক উইকেট বানাবে, বাউন্সে আমাদের ব্যাটসম্যানদের আউট করতে চাইবে, এসব আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু প্রস্তুতি সে অনুযায়ী ছিল না। তবে ওয়ানডের আগে আশাবাদী ছিলাম। সিরিজ জিতে সে আশা নিরাশা হতে দেয়নি খেলোয়াড়রা।

বাংলাদেশ দলে এখন যা খেলার তা সিনিয়র পাঁচজনই খেলছেন। জুনিয়ররা সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারছে না কেন?
বিশ্বক্রিকেটের সব দলই সিনিয়রদের ওপর একটু বেশি নির্ভর করে। তবে আমাদের নির্ভরতাটা একটু বেশি। এটি আসলে সাফল্যের কারণেই হয়েছে। কারণ আমাদের দলের প্রায় অর্ধেক ক্রিকেটার ওই সিনিয়রদের মধ্যেই পড়ে। মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ১১ জনের মধ্যে পাঁচজন। তারা ভালো না করলে দলের পক্ষে জেতা কঠিন। আমরা আগে এর প্রমাণ পেয়েছি। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক বছর খেলার সুবাদে অনেক কঠিন সময় তারা দেখেছে।  টেস্ট সিরিজের ভরাডুবির পর তাই ফিরে আসার কাজটি সিনিয়রদের জন্য তুলনামূলক সহজ হয়েছে। তামিম-সাকিব অসাধারণ ব্যটিং করেছে। মাশরাফির বোলিং নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। মুশফিকও শেষদিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছে। তাদের কল্যাণেই সাফল্য এসেছে। আর জুনিয়রদের ঠিকমতো কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে আমার মনে হয়। এই যেমন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাকে একেকদিন একেক পজিশনে খেলানো হচ্ছে। আবার দেখছি বিনা কারণেই তাকে দলের বাইরে রাখা হচ্ছে।

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির কথা কী বলবেন? তিনি দলে যোগ দেয়ার পরই খেলার পরিবেশ পাল্টে গেছে?
মাশরাফি শুধু অধিনায়ক হিসেবেই নয়, একজন খেলোয়াড় হিসেবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সে দলে যোগ দিলে পরিবেশ পাল্টে যায়, এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এই যেমন মাশরাফি যাওয়ার আগে দলের অবস্থা, যোগ দেয়ার পর আর ফিরে আসার পর একেবারেই আলাদা বলতে হবে। সে দলে যেভাবে খেলোয়াড়দের সাহস দেয়, এ বিষয়টিই হয় তর সেই ব্যতিক্রম।

Disconnect