ফনেটিক ইউনিজয়
জুভেন্টাসের ‘বাণিজ্য লক্ষ্মী’ রোনালদো!
খলিলুর রহমান

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শুধুই কি একজন ফুটবলার? না। ফুটবলারের পাশাপাশি তিনি মস্তবড়  টাকার গাছ! শুধু নিজের জন্য নয়, ক্লাবের জন্যও। পর্তুগিজ সুপারস্টার নিজে যেমন দুহাতে টাকা কামান, ক্লাবের অর্থভা-ারও ভরিয়ে দেন। এর বাস্তব উদাহরণ জুভেন্টাস। ইতালিয়ান ক্লাবটি রিয়াল মাদ্রিদ থেকে রোনালদোকে কিনে এনেছে এক মাসও পূর্ণ হয়নি। এরই মধ্যে জুভেন্টাসের অর্থভা-ারে জোয়ার এনেছেন। ফুলে-ফেঁপে উঠছে জুভেন্টাসের তহবিল। খুলে যাচ্ছে অর্থ উপার্জনের নতুন নতুন দরজা।
 রোনালদো রিয়াল ছেড়ে জুভেন্টাসে যোগ দিচ্ছেন, এ গুঞ্জন যেদিন ছড়িয়ে পড়ে, তার পরের দিনই ইতালির শেয়ার বাজারে বেড়ে যায় জুভেন্টাসের শেয়ারের দাম। সেই থেকে তরতর করে বেড়েই চলেছে জুভেন্টাস শেয়ারের দাম। এক মাসেই দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। শেয়ারের এই মূল্যবৃদ্ধির সুবাদে এক মাসেই জুভেন্টাসের অর্থভা-ারে বাড়তি কত টাকা জমা হয়েছে, সে হিসাব নিতে হলে ঢুকতে হবে ক্লাবটির অন্দরমহলে।
 রোনালদো নামের জাদুতে হু হু করে বাড়ছে জুভেন্টাসের জার্সি বিক্রির হার। বাড়ছে টিকিট বিক্রিও। মৌসুম এখনও শুরুই হয়নি। রোনালদো নামের খাতিরে এরই মধ্যে জুভেন্টাসের সিজনাল টিকিট বিক্রি হয়েছে গত মৌসুমের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি! সামনে আরও দিন পড়েই আছে। মৌসুম শুরু হলে ম্যাচভিত্তিক খুচরো টিকিট বিক্রির হার অনেক বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
খুচরো টিকিট বিক্রি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করছে এ তথ্যটি। জুভেন্টাসের জার্সি গায়ে রোনালদোর প্রথম মাঠে নামার কথা ১২ আগস্ট, যে ম্যাচটিতে মুখোমুখি হচ্ছে জুভেন্টাস একাডেমি ও মূল দল।
প্রতি বছরই নতুন মৌসুম শুরুর আগে নিজেদের মধ্যে এই প্রীতি ম্যাচটির আয়োজন করে জুভেন্টাস। ক্লাব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ ম্যাচে সর্বোচ্চ এক হাজার টিকিট বিক্রির নজিরও নেই। কিন্তু রোনালদো নামের মায়ায় এবার ১৫ দিন আগেই গ্যালারির ধারণক্ষমতার পুরো পাঁচ হাজার টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে!
বিজ্ঞাপনী বাজারে বিশ্ব ক্রীড়া তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম তার। রোনালদোর সেই বাজারমূল্যের সুফল পায় ক্লাবও। যেমন রোনালদো-ছোঁয়ায় তরতর করে বাড়ছে জুভেন্টাসের ব্র্যান্ড ভ্যালু। আসতে শুরু করেছে নতুন নতুন স্পন্সর। বাড়ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জুভেন্টাসের অনুসারির সংখ্যা। যার সঙ্গে আয় বৃদ্ধির যোগসাজশ আছে। বিশ্বজুড়ে যে ক্লাবের যত বেশি অনুসারী, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তাদের কদর তত  বেশি।
তাছাড়া ইনস্টাগ্রামে প্রতিটা ছবি পোস্ট করে রোনালদোর আয় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইউরো। বাংলাদেশী মুদ্রায় অঙ্কটা ৬ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার ৮০০ টাকা। খেলোয়াড়ের এ টাকার ভাগ ক্লাব পায় না। তবে অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আলাদাভাবেই একটা নির্দিষ্ট হারে অর্থ ক্লাব পায়। তাই রোনালদোর ছবি পোস্ট থেকেও জুভেন্টাসের আয় হবে বড় অঙ্কের টাকা।
এ চিত্রটাই বলে দিচ্ছে, ৩৩ বছর বয়সী রোনালদো জুভেন্টাসের সাক্ষাৎ ‘বাণিজ্য লক্ষ্মী’! রিয়ালে ৯টি বছর টাকার গাছ হয়ে ছিলেন তিনি। জুভেন্টাসেও ‘টাকার গাছ’ হয়েই এসেছেন।

Disconnect