ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
তরুণ ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলায় ফেরানো জরুরি

বর্তমানে মাঠের বাইরের ঘটনায় বেশি আলোচিত হচ্ছেন বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

তিন বছর ধরে বিভিন্ন ঘটনায় ক্রিকেটাররা মাঠের বাইরে আলোচিত হচ্ছেন। এটাকে কীভাবে দেখছেন?
এটি আসলে ব্যক্তিগত বিষয়। ক্রিকেটারদের সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে। একেকজন ক্রিকেটার একেকটা সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছে। এগুলোর সঙ্গে মাঠের ক্রিকেটের কোনো সংস্পর্শ নেই। তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো কাজ  করলে সেখানে আমাদের করার কিছু থাকে না। তাই বিষয়টি একটু সিরিয়াসলি দেখছি।

সর্বশেষ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের নামে তার স্ত্রী যৌতুকের দাবিতে মামলা করেছেন। তিনি কি এ বিষয়ে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন? এখানে বোর্ডের ভূমিকাটা কী?
এ বিষয়ে আমাদের কোনো কথা নেই। সে কী করেছে, তা সংবাদের মাধ্যমেই দেশবাসী জেনে গেছে। এখানে ক্রিকেট বোর্ডের কোনো ভূমিকা নেই। সত্যি বলতে আমাদের কিছু করার সুযোগও নেই। আগে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেখানেও বোর্ড কোনো ভূমিকা রাখেনি। যেসব বিষয় নিয়ে মামলা হয়, আমরা সে বিষয়ে বলার এখতিয়ার রাখি না। তবে কোনো ক্রিকেটার নির্দোষ প্রমাণ হলে আমরা স্বাগত জানাই। ভবিষ্যতেও জানাব।

ক্রিকেট বোর্ড থেকে মোসাদ্দেকের বিষয়ে নেয়া সিদ্ধান্ত কি ভবিষ্যতের জন্য কোনো বার্তা দেবে?
শাস্তি মানে যে অপরাধ করেছে তাকে কিছু করা নয়, বরং সেখানে অন্যদের সতর্ক করাই মূল উদ্দেশ্য। মোসাদ্দেককে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিজের কার্যকলাপ, চলাফেরা নিয়ে যেন সে সাবধান থাকে। মোসাদ্দেককে উপদেশ দিয়েছি। জাতীয় দলের ক্রিকেটারকে কীভাবে চলা উচিত, এ নিয়ে কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। ওর মামলাটি বিচারাধীন, তাই আদালত থেকে যা বলা হবে, সেটাই তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

মোসাদ্দেক ও সাব্বিরকে ডাকা হলেও নাসিরকে কেন পরে ডাকা হয়েছে?
অপারেশনের পর নাসির এখন রিহ্যাবে আছে। তাকে পরে ডাকা হতে পারে। চোটের কারণে সে ক্রিকেটের বাইরে আছে। একজন ক্রিকেটারের কী শাস্তি হতে পারে? আর্থিক কিংবা নিষেধাজ্ঞা। যেহেতু সে চোটে পড়েছে, তাই ডাকিনি।

সাব্বির রহমানের শাস্তি একটু বেশি হয়ে গেল না? এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি চুক্তি থেকেও বাদ দেয়া হয়েছিল। এবার ছয় মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন।
শাস্তিটা আসলে একজন ক্রিকেটারকে দেয়া হয় না, দেয়া হয় তার অপরাধের। আমরা এমন একজনকে শাস্তি দিয়েছি, যে বড় অপরাধ করেছে। সাব্বির আগে দর্শককে শারীরিকভাবে আঘাত করেছিলেন, এবার ফেসবুকে হুমকি দিয়েছেন। এ কাজগুলোকে স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বর্তমান সময়ে ক্রিকেটারকে ফলো করা মানুষের অভাব নেই। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাদের হিরো মনে করে। তাই তারা অপরাধ করলে সেটিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সে কারণে তরুণ ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলায় ফেরানোর জন্যই এমন শাস্তি দেয়া হয়েছে। তবে সাব্বিরের বিষয়ে কোনো পরিচালকই আপত্তি করেননি। আমরা চাই ভবিষ্যতে যেন কোনো ক্রিকেটার কোনো অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে। এতে সবারই মঙ্গল হবে।

Disconnect