ফনেটিক ইউনিজয়
জাপানিদের টেনিস গর্ব নাওমি ওসাকা
খলিলুর রহমান

ইতিহাসে যে কীর্তি কখনই গড়তে পারেনি কোনো জাপানি, ২০ বছরের মেয়ে নাওমি ওসাকা সেই কাজটাই করলেন। প্রথম জাপানি হিসেবে জিতলেন গ্র্যান্ডসøাম এককের শিরোপা। মাথায় তুললেন ইউএস ওপেনের এককের শিরোপার মুকুট।
নাওমি এ ইতিহাসটা গড়েছেন শৈশবের আর্দশ খেলোয়াড় সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে। সেরেনা বিশ্ব মহিলা টেনিস ইতিহাসের সর্বকালের  সেরা।  সেই সেরেনাকে তারই ঘরের কোর্টে ৬-২, ৬-৪ গেমে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন এখন নাওমি।
৯ সেপ্টেম্বর দিনটি জাপানিদের জন্য গর্বের, আনন্দ ¯্রােতে ভেসে যাওয়ার। আর নাওমির জন্য তা স্বপ্ন নাকি বাস্তব, বুঝতেই পারছিলেন না। সংবিৎ ফিরে  পেয়ে যখন বুঝলেন, ততক্ষণে চোখের জলে চোয়াল ভিজে গেছে। কোর্টে দাঁড়িয়েই অঝোরে কাঁদলেন নাওমি। কোর্টের ওপাশ থেকে দৌড়ে এসে তাকে সান্ত¡না দিলেন সেরেনা, জানালেন অভিনন্দন।
জন্ম জাপানে হলেও সেই চার বছর বয়স থেকেই সেরেনার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা নাওমি। হাইতিয়ান বাবা ও জাপানি মায়ের সঙ্গে বসবাসও করেন সেরেনারই শহর ফ্লোরিডায়! জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র, দুই দেশেরই নাগরিকত্ব আছে তার। তবে নাওমি জন্মভূমি ‘জাপানি’ পরিচয়েই টেনিস খেলেন।
ছোটবেলা থেকেই নাওমির স্বপ্ন ছিল, একদিন ‘আদর্শ’ সেরেনার বিপক্ষে খেলবেন। নাওমির সেই স্বপ্ন প্রথম পূরণ হয় গত মার্চে। মিয়ামি ওপেনের প্রথম রাউন্ডে জাপানি মেয়ে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন নিজের আদর্শ সেরেনার। আর প্রথম দেখাতেই সেরেনাকে হারিয়ে দেন তিনি! নাওমি জিতলেন দ্বিতীয় সাক্ষাতেও। নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোর জয় জাপানি মেয়েকে তুলে দিল ইতিহাসের পাতায়।
প্রথম সাক্ষাতেই জয় পেয়েছিলেন। সেই হিসেবে ৯ সেপ্টেম্বর ইউএস ওপেনের ফাইনালটি এক অর্থে নাওমির জন্য একটু সহজই ছিল। ভুল! বরং কোর্টে নামার আগে চেপে ধরেছিল স্নায়ুচাপ। একে তো প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ডসøাম ফাইনাল। তার ওপর প্রতিপক্ষ সেরেনা। সাধারণ টুর্নামেন্টে কখনও সখনও পা ফসকালেও গ্র্যান্ডসøাম হলেই অন্যরূপে হাজির হন সেরেনা। এটা প্রতিষ্ঠিতই যে, সেরেনা মানেই গ্র্যান্ডসøাম। গ্র্যান্ডসøাম আসলে সেরেনারই টুর্নামেন্ট।
সেই সেরেনা নামের মহীরুহকে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম ফাইনালের প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে ভয় পাচ্ছিলেন নাওমি। কিন্তু কোর্টে নেমেই নাওমি বদলে ফেলেন নিজের ভাবনা। আত্মবিশ্বাস পেতে নিজেই নিজেকে বলেন, ‘আমি সেরেনাভক্ত নই। আমি একজন সাধারণ খেলোয়াড়। যে অন্য আরেকজন খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হয়েছে।’ এ মন্ত্র নাওমির জন্য কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে, সেটা তো স্পষ্টই।
বিশ্ব টেনিসে নাওমির সত্যিকার আভির্ভাবটা এ বছরই। জানুয়ারিতে বছরের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছিলেন। এরপর ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডন, এ দুটো গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টেই পা রাখেন তৃতীয় রাউন্ডে। বছরের শেষ গ্র্যান্ডসøামটিতে তো হলেন ‘প্রথম’ ইতিহাস।
নিজেদের শিল্প-সংস্কৃতি, উন্নত প্রযুক্তি-জাপানিদের গর্বের বিষয় অনেক। তবে জাপানিদের সবচেয়ে বড় গর্বটা নিজেদের অর্থনীতি নিয়ে। অর্থনীতিতে জাপান বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি। জাপানিদের গর্বের তালিকায় এবার যোগ হলো আরও একটি বিষয়ওÑ টেনিসের নাওমি ওসাকা গর্ব।

Disconnect